চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির
দাবি খারিজ করল সরকার

একতরফা অন্তর্বর্তী ভাতা ঘোষণা মানছে না যৌথ মঞ্চ 

চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির<br>দাবি খারিজ করল সরকার
+

নিজস্ব সংবাদদাতা: শিলিগুড়ি, ১১ই জানুয়ারি – চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবি উপেক্ষা করে অন্তর্বর্তীকালীন ভাতার সিদ্ধান্ত বহাল রাখলো রাজ্য সরকার। শ্রমদপ্তরের পক্ষ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে চা শ্রমিকদের ভাতা সাড়ে ১৭টাকা বাড়ানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের এই মনোভাবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চা শ্রমিক সংগঠনের যৌথ মঞ্চ। জয়েন্ট ফোরামের অন্যতম আহ্বায়ক জিয়াউল আলম বৃহস্পতিবার জানান, ‘সরকার একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্ত নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক, চা নিয়ে ন্যূনতম মজুরি কমিটির বৈঠকে কোনোরকম আলোচনা হয়নি।’ সরকারের এই সিদ্ধান্ত চা শ্রমিকরা মানবেন না। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়িতে জয়েন্ট ফোরাম এক বৈঠকে বসে। ওই বৈঠকেই ঠিক হয়েছে রাজ্যের উত্তর প্রান্তের চা বাগান শ্রমিকদের ন্যূনতম হাজিরা, রেশন ব্যবস্থা, জমির পাট্টাসহ বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে রাজ্য সরকার আগামী ১৭ই জানুয়ারির মধ্যে কোনও ইতিবাচক সিদ্ধান্তে নিতে ব্যর্থ হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে যৌথ মঞ্চ। 
গত ৪ঠা জানুয়ারি চা বাগান মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলিকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিল রাজ্য সরকার। পরবর্তী বৈঠক হিসাবে রাজ্য সরকার এদিন বসার কথা বললেও পরে সেই বৈঠক স্থগিত করে দেয়। এরই প্রতিবাদে এদিন নিজেরাই বৈঠকে বসে চা বাগান শ্রমিক সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ। বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলন করে চা বাগান শ্রমিক আন্দোলনের নেতা, যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক জিয়াউল আলম জানান, দেশের আইন মেনে চা বাগান শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি এখন সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু রাজ্য সরকার তা না করে চা বাগান শ্রমিক সংগঠনগুলিকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে এমনকি চা বাগান মালিক প্রতিনিধিদেরও কোনও রকম আলোচনা না করে, কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ন্যূনতম মজুরির বিষয়টিকে সরিয়ে রেখে ১৭টাকা ৫০পয়সা অন্তর্বর্তীকালকীন ভাতার কথা ঘোষণা করছে। সরকারের এই প্রস্তাব চা বাগানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ছাড়া আর কিছু না। যৌথ মঞ্চ রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছে ও প্রত্যাখ্যান করছে বলে জানান জিয়াউল আলম। প্রসঙ্গত, দুমাস আগের ঘোষণা অনুযায়ী ২৪শে জানুয়ারি চা বাগান মালিকদের বাগানগুলিতে জোরজুলুম করা, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা না দেওয়া, কথায় কথায় চা বাগান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে উত্তরবঙ্গে শাখা সচিবালয় উত্তরকন্যা অভিযানে সামিল হবেন চা শ্রমিকরা। জিয়াউল আলম আরও জানান, আমরা রাজ্য সরকারকে, চা বাগান মালিকদের যথেষ্ট সময় দিচ্ছি। আইন মেনে ব্যবসা করুন, আইন মেনে বাগান চালান, শ্রমিকদের পাওনা গন্ডা সঠিক সময়ে দিন। রাজ্যের একমাত্র বিকাশমান শিল্প চা শিল্প, সেটাকে বিকাশের পথে এগতে দিন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement