মদের আসরে বাধা,
পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যুবককে

মদের আসরে বাধা,<br>পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যুবককে
+

নিজস্ব সংবাদদাতা: কল্যাণী, ১১ই জানুয়ারি— বাড়ির পাশে মদ খাওয়ার আসর বসানোর প্রতিবাদ করায় এক যুবকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করল দুষ্কৃতীরা। গুরুতর জখম ওই যুবক এখন কল্যাণী মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। চাকদহের গোরপাড়ার রাধাকৃষ্ণ কলোনির এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী। 
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ জীবন দাশের বাড়ির পাশে মদ খাচ্ছিল এলাকারই দুই যুবক সৌমেন দেবনাথ ও পাপাই ভট্টাচার্য। সেই সময়ে জীবন দাশের ছেলে শান্তনু ওদের মদ খেতে দেখে বারণ করে বলেন যে, ‘‘আরও অনেক জায়গা রয়েছে, তোরা সেখানে যা। এখানে মদ খেয়ে গালাগাল করবি না। বাড়িতে বাবা রয়েছে।’’ চাকদহ চৌমাথার কাছে এক মোটর গ্যারেজে শান্তনু মেকানিকের কাজ করেন।
শান্তনুর মাসতুতো বোন কেয়া জানিয়েছেন, মদ খাওয়ার প্রতিবাদ করায় শান্তনুর উপর চড়াও হয় সৌমেন। তর্কাতর্কি শুরু হয় দু’জনের। সৌমেন তার কাকা বিমল দেবনাথকে ডেকে নিয়ে আসে। বিমল এসেই শান্তনুকে মারধর শুরু করে। মেরে তাকে মাটিতে ফেলে দেয়। এলাকায় বিমল বেআইনি মদের কারবার চালায়। পাপাইসহ এলাকার কয়েকজন যুবক মিলে তখন বিমলকে আটকাতে থাকে। এরই মধ্যে সৌমেন ছুটে গিয়ে পাড়ার মধ্যে পিন্টুর সাইকেল সারানোর দোকান থেকে পেট্রোল নিয়ে এসে শান্তনুর গায়ে ছিটিয়ে দেয়। পাশেই বাড়ির উঠোনে বসে তখন মণিকা দাস লম্ফ জ্বালিয়ে রান্না করছিলেন, সেই লম্ফ নিয়ে এসে শান্তনুর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় সৌমেন। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকেন শান্তনু। কোনরকমে গাছের গায়ে শরীর ঘষে আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে থাকেন তিনি। এরপর পাশেই সদ্য খোঁড়া একটি ছোট ডোবার জলে ঝাঁপ দেন নিজেকে বাঁচাতে। পাড়ার যুবকরা শান্তনুকে উদ্ধার করে নিয়ে যান চাকদহ গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। সেখান থেকে তাঁকে কল্যাণী মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অর্ধদগ্ধ অবস্থায় শান্তনু এখন সেখানে ভর্তি। শান্তনুর বাবা এই ঘটনায় চাকদহ থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। 

Featured Posts

Advertisement