মূল্যবৃদ্ধি ১৭
মাসের সর্বোচ্চ 

মূল্যবৃদ্ধি ১৭<br>মাসের সর্বোচ্চ 
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: নয়াদিল্লি, ১২ই জানুয়ারি— বিশ্বের বাজার খাদ্যপণ্যের দাম যখন কমছে ঠিক সেসময়ে ভারতের বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম চড়া হারে বাড়ছে। শীতের মরশুমে স্বাভাবিকভাবে নতুন ফসল ওঠায় দাম কম থাকে খাদ্যপণ্যের। এবারে শীতের সময়ও দাম বাড়ছে সমস্ত খাদ্যপণ্যের। কেন্দ্রের পরিসংখ্যান মন্ত্রক জানিয়েছে, ভোগ্যপণ্য সূচকে মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে রেকর্ড হারে। গত ১৭ মাসে এই হারে মূল্যবৃদ্ধি ঘটেনি। ডিসেম্বরে এই হার হলো ৫.২১%।  যা তার আগের মাসে নভেম্বরে কম ছিল। তা হলো ৪.৮৮%। এদিকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন(ফাও)  জানিয়েছে,বিশ্বে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার এই সময়ে বিপুল কমেছে। তা  ডিসেম্বরে ছিল ৩.৩%। ২০১৪ সালের  থেকে খাদ্যপণ্যের দাম  ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে ২৪% কম  বলে জানিয়েছে ফাও।
এদিকে ভারতে খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে চলার পিছনে পেট্রোল ডিজেলের দাম বেড়ে চলা অন্যতম কারণ বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। কেন্দ্রের পরিসংখ্যান মন্ত্রকও জানিয়েছে, এই খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির  হার বেশি বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো পেট্রোল ডিজেল, সবজি, ফলমূলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে চলা। পরিসংখ্যান দপ্তর জানিয়েছে , খাদ্যপণ্যে মূল্যবৃদ্ধির হার গ্রামে বেশি। শহরে তা কম। যেমন গ্রামে এই হার হলো ৫.২৭%। শহরে তা হলো ৫.০৯%।
এদিকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুদের হার স্থির করা নিয়ে ত্রৈমাসিক রিপোর্টে ডিসেম্বরে পরিষ্কার জানিয়েছিল দেশে চড়া মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখিয়ে সুদের হার কমানো যাবে না বলে তারা সিদ্ধান্ত নেয়।  রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সূত্রে জানা গেছে, যে হারে মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে বলে আশা করা হয়েছিল সেই হার অতিক্রম করে গেছে বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি। ফলে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা এতে কমে আসছে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে।
কেন্দ্রের পরিসংখ্যান মন্ত্রক জানিয়েছে , দেশে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ  সহ নানা ফলমূল সবজির দাম চড়া হারে বেড়ে চলেছে। সবথেকে দাম বাড়ছে পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাসের  মতো জ্বালানির। কেন্দ্র এসব পণ্যে ধাপে ধাপে ভরতুকি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দাম বেড়ে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মত বিশ্বের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বিপুল কমে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম কমেছে। ফলে সেসব দেশে মূল্যবৃদ্ধির হার অনেক কম। একমাত্র ভারতে  কম দামে অপরিশোধিত  তেল কেনার পর তার পরিশোধিত পণ্য পেট্রোল ডিজেলে কেন্দ্র বিপুল হারে কর চাপানোর ফলে তার দাম কমে না তা বেড়ে চলে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাজারে সবার আগে খাদ্যপণ্যের দাম চড়া হারে বেড়ে চলে। মোদীর জমানায় দেখা গেছে  জ্বালানির দামে সমস্ত  সরকারি নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া আবার সব চেয়ে বেশি কর চাপানো হয়েছে।ফলে দাম বেড়ে চলেছে। উল্লেখ্য,২০১৬ সালে ডিসেম্বরে  ভোগ্যপণ্যে এই মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৩.৪১%।  ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে এই মূল্যবৃদ্ধির হার বাড়তে থাকে। তা হয় ৩.৫১%। নভেম্বরে তা বেড়ে হয় ৪.৮৮%। ডিসেম্বরে তা ফের বেড়ে হয় ৫.২১%। যা গত ১৭ মাসে সবচেয়ে বেশি হারে বৃদ্ধি।

Featured Posts

Advertisement