শিল্পাঞ্চলকে বাঁচাতে
ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের প্রস্তুতি

শিল্পাঞ্চলকে বাঁচাতে<br>ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের প্রস্তুতি
+

শান্তনু দে: জামুড়িয়া,১২ই জানুয়ারি— এক সময় এই অঞ্চলের তুলনা টানা হতো জামার্নির ‘রুর অঞ্চলের’ সঙ্গে। সেই ‘রুর অব বেঙ্গল’ আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল এখন মৃতপ্রায়। এই অঞ্চলকে নিশ্চিহ্ন করার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে যদি অচিরেই রুখে দাঁড়ানো না যায়, তবে পরিণত হবে শ্মশানে। একটি সমৃদ্ধশালী অঞ্চল বলে ভবিষ্যতে শুধুই লেখা থাকবে ইতিহাসে।
বি-শিল্পায়ন, শিল্পের উপর এই ভয়াবহ আক্রমণের মুখে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় শুনিয়েছে সি পি আই (এম) পশ্চিম বর্ধমান জেলা ২৪-তম সম্মেলন। 
বিদায়ী সম্পাদকের পেশ করা খসড়া রাজনৈতিক সাংগঠনিক প্রতিবেদন থেকে ‘বন্ধ কলকারখানা খোলার দাবিতে’ প্রস্তাব, প্রতিনিধিদের আলোচনায় ঘুরে ফিরে এসেছে সেই অঙ্গীকার। সম্মিলিত শপথ: শিল্প রক্ষা, শিল্পাঞ্চল রক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য চাই শিল্প। আর এই দাবিতে ঐক্য সংগ্রাম। ঐক্যের স্লোগান নিয়ে শ্রমিকসহ অন্য সমস্ত স্তরের মানুষকে নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য তৈরি। সেইসঙ্গে, মরণপণ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি। 
কয়লা-ইস্পাত ও কিছু ক্ষুদ্র ও মাঝারি ইস্পাত শিল্প, কয়েকটি সিমেন্ট শিল্প এবং কিছু ব্যক্তি মালিকানাধীন শিল্প ছাড়া আজ এই তল্লাটে প্রায় সবই বন্ধ। গত ছবছরে বন্ধ করা হয়েছে হিন্দুস্থান কেবলস-সহ বারোটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার ইউনিট। মুখ্যমন্ত্রী একটা চিঠিও লেখেননি। বিপদ কয়লা খনিতে। দিল্লি বেসরকারিকরণের বিল এনেছে। আর তা আইনে পরিণত করতে তৃণমূল সমর্থন পর্যন্ত দিয়েছে। রাজ্য সরকার নিজে বন্ধ করে দিয়েছে ডি পি এলের কোকওভেন ইউনিট। ডি সি এল-ও চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া ও কর্মসংকোচনের ফলে ২৫০০০০ শ্রমিক আজ কর্মহীন। চালু কারখানা বন্ধ হচ্ছে। আসছে না কোনও নতুন বিনিয়োগ। এক মৃত নগরীর চেহারা নিচ্ছে এই অঞ্চল। 
এই আক্রমণের মুখেই প্রতিনিধিদের আলোচনায় উঠে এসেছে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টে শ্রমিকদের লড়াই। যৌথ আন্দোলনের অভিজ্ঞতা। একজোট হয়ে ১৪০টি আন্দোলন-কর্মসূচি। যার একটি ধাপে সফল ধর্মঘট। তৃণমূলের বিরোধিতা সত্ত্বেও সর্বাত্মক ধর্মঘট। প্রতিনিধিরা শুনিয়েছেন সমাজের সমস্ত অংশের মানুষকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের সঙ্গেই শ্রমিক ঐক্যের অভিজ্ঞতা। এই আন্দোলনগুলিকে আরও ব্যাপক চেহারা দিতে কোথায় খামতি, কোথায় কী করা উচিত তা-ও আলোচনা করেছেন তাঁরা।
জলন্ত উনুনের আঁচ মাইক্রোওভেনে সম্ভব নয়, প্রতিনিধিরা চান আরও দুর্বার আন্দোলন। শুধু এক নবান্ন নয়, চাই ধারাবাহিক আন্দোলন। দাবি তোলাই নয়। দাবি আদায়ে অনড় আন্দোলন। সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচন। জানিয়ে দিয়েছেন, জান দেব, তবু বুথ ছাড়ব না। প্রায় সকলেই বলেছেন, সন্ত্রাসের সেই দৌরাত্ম্য এখন না থাকলেও, আছে চাপা সন্ত্রাস। দুর্গাপুর পৌরসভা নির্বাচনে বেপরোয়া ভোটলুট-সন্ত্রাসের কথা টেনে বলেছেন, ওটাই ওদের শেষ নির্বাচন। মানুষ আর মেনে নেবেন না। ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন মানুষ। 
ছমাস আগেও পার্টির অবিভক্ত বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদক ছিলেন অচিন্ত্য মল্লিক। এখন তিনি পার্টির পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদক। শুক্রবার, পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্মেলনে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ভৌগোলিক কারণে আমরা বিভাজিত হয়েছি ঠিকই। কিন্তু মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়নি। একইসঙ্গে এই আদর্শের জন্য আমরা লড়ব কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে। 
বিবেকানন্দের জন্মদিবসে, এদিন সকালে তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের পর শুরু হয় সম্মেলনের কাজ। মাল্যদান করেন সি পি আই (এম) রাজ্য সম্পাদক সূর্য মিশ্রসহ নেতৃবৃন্দ। এদিন একইসঙ্গে ছিল মাস্টারদা সূর্য সেনের ফাঁসির দিবস। তাঁর প্রতিকৃতিতেও মাল্যদান করেন মিশ্রসহ নেতৃবৃন্দ। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement