শেষ ঘণ্টায় কামাল ভারতের

শেষ ঘণ্টায় কামাল ভারতের
+

সেঞ্চুরিয়ন, ১৩ই জানুয়ারি — বিদেশে ঘরের স্বাদ। সেঞ্চুরিয়নের পিচ দেখে একথাই বলা যায়। দিনের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ২৬৯/৫। শেষ সেশনে ম্যাচে ফিরল ভারত? বলা মুশকিল। 
কেপ টাউনে ২০৮ রান তাড়া করতে নেমে ১৩৫ এ অলআউট হয়েছিল ভারতীয় দল। ভারতের ব্যাটিং বিভাগ যতই শক্তিশালী হোক, এখনই ম্যাচের কিছুটা নিয়ন্ত্রণও ভারতের হাতে রয়েছে, বলা যাচ্ছে না। বিশেষত সেঞ্চুরিয়নের পরিস্থিতি। দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে ঘরের মাঠের স্বাদ পেলেন অশ্বিনরা। দল বাছাই এবং টসে হার, ঝুরি ঝুরি ক্যাচ মিস। সবকিছুই যেন ভারতের বিপক্ষে। অশ্বিনের তিন উইকেট এবং শেষবেলায় হার্দিকের সরাসরি থ্রোয়ে হাসিম আমলার রানআউট, ভারতীয় শিবিরে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। প্রথম সেশন নিশ্চিতভাবেই দক্ষিণ আফ্রিকার।
সেঞ্চুরিয়নের পিচে সবুজ ঘাস নেই। ডুপ্লেসি অবাক হলেও কোহলি নন। বরং কেপ টাউনের পিচেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে ছিল বলেই মনে করেন। ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ না হলে ম্যাচটা অনায়াসে জিততে পারতো ভারত। ব্যাটিংয়ের গভীরতা বাড়াতে দলে বেশ কিছু পরিবর্তন করলেন কোহলি। প্রথম টেস্টে ব্যর্থ শিখর ধাওয়ানের পরিবর্তে লোকেশ রাহুল। চোট থাকা ঋদ্ধিমান সাহার জায়গায় পার্থিব প্যাটেল। সবাইকে অবাক করে ভুবনেশ্বরের পরিবর্তে ঈশান্ত শর্মা। টসে জিতে ব্যাটিং নিতে কোনও দ্বিধা করলেন না দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক ফাফ ডুপ্লেসি। তাঁর দলের একটাই পরিবর্তন। চোটে ছিটকে যাওয়া ডেল স্টেইনের পরিবর্তে এনগিডি লুঙ্গির টেস্ট অভিষেক। 
পিচ থেকে সেভাবে সাহায্য পেলেন না পেসাররা। শুরুর দিকে কিছুটা সামলে খেললেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার ডিন এলগার ও এইডেন মারক্রাম। বলে মুভমেন্ট না থাকায় কোনও সমস্যাতেই পড়েননি। দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরে প্রথম ধাক্কা দেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ইনিংসের প্রথম বলটাই দীর্ঘ টার্ন পেলেন অশ্বিন। শিবিরে আপসোস, জাদেজাকেও খেলানো যেতো না? 
মধ্যাহ্নভোজের পর অশ্বিনের বলে আক্রমণ করতে গিয়ে ফাঁদে পড়েন এলগার। ক্রিজ ছেড়ে ড্রাইভ করেন। অশ্বিনের সেই বলে বাড়তি বাউন্স ছিল। শর্ট কভারে মুরলি বিজয়ের বুকে বল লাগে। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় কোনোরকমে ক্যাচ নেন বিজয়। দ্বিতীয় উইকেটের জন্য অপেক্ষা করতে ৪৮তম ওভার অবধি। অশ্বিনের বলে টার্ন আশা করেছিলেন মারক্রাম। কোনোরকম টার্ন না হওয়ায় মারক্রামের ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক পার্থিবের হাতে। 
প্রথম তিনটি পার্টনারশিপই চাপে রেখেছে ভারতীয় শিবিরকে। ৮৫, ৬৩’র পর তৃতীয় উইকেটে হাসিম আমলা ও এবি ডিভিলিয়ার্স জুটি ৫১। ঈশান্তের ক্রস সিম বলে প্লেড অন হন ডিভিলিয়ার্স। তাতেও স্বস্তি পায়নি ভারতীয় শিবির। বেশকিছু ক্যাচ মিস অন্যতম কারণ। মাঠের সব জায়গাতেই ক্যাচ পড়েছে। দুবার আউট হওয়া থেকে বেচেছেন হাসিম আমলা। উইকেটের পিছনে পার্থিব প্যাটেল এবং পরে হার্দিকের কঠিন ক্যাচ মিস হয়। অবশেষে আমলাকে প্যাভিলিয়নে ফেরান হার্দিকই। পরের ওভারেই ডি’কককে ফেরান অশ্বিন। স্লিপে অনবদ্য ক্যাচ নেন কোহলি। পরপর উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরাও যেন প্যানিক হয়ে পড়েন। ফিলান্ডারের রানআউটের কারণ হয়তো সেটাই। দিনের শেষে ক্রিজে রয়েছেন অধিনায়ক ফাফ ডুপ্লেসি (২৪) ও কেশব মহারাজ (১০)।
ম্যাচ শেষে অশ্বিনও জানালেন, পিচ নিয়ে অবাক তিনি। টার্ন থাকলেও পিচ পুরোপুরি স্পিন সহায়ক মানছেন না। ভারতীয় দলের এই অফস্পিনার বলেন, ‘প্রথম দিন পিচে ঘাস চোখে পড়েছিল। এদিন দেখি সব ঘাস ছেঁটে ফেলা হয়েছে। একজন স্পিনার হিসাবে আমি অবশ্যই খুশি। পিচে টার্ন থাকলেও মন্থর।’
ভারতীয় শিবিরের লক্ষ্য, শেষ থেকে শুরু করা। অশ্বিনের কথায়, ‘এদিন শেষ সেশনে যেভাবে খেলেছি, দ্বিতীয় দিনের শুরুতে সেভাবেই খেলতে হবে।’

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement