মিথ্যা প্রতিশ্রুতি
দিচ্ছে বি জে পি

বললেন মানিক সরকার 

মিথ্যা প্রতিশ্রুতি <br>দিচ্ছে বি জে পি
+

 নিজস্ব প্রতিনিধি: আগরতলা, ১২ই ফেব্রুয়ারি— ত্রিপুরার উপর বাজপাখির মত হামলে পড়েছে বি জে পি। এদের প্রচারে বিভ্রান্ত হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। এদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। সোমবার মাতাবাড়ি কেন্দ্রের চন্দ্রপুর স্কুল মাঠে এবং শান্তিরবাজার স্কুল মাঠে দুটি নির্বাচনী সমাবেশে একথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। 
বি জে পি-র শীর্ষনেতারা গত কয়েকদিন ধরে নানা ধরনের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছেন। দলের সভাপতি অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সহ বি জে পি-র তাবড় নেতারা এখন রাজ্য সফরে আছেন এবং নানা ধরনের গালভলা প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছেন। এদিন সেই প্রসঙ্গেই মানিক সরকার বলেন, বি জে পি ভালো করেই জানে তাঁরা ত্রিপুরায় জয় পাবে না, তাই যা খুশি প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছে। এখন যদি ওদের কাছে আকাশের চাঁদ, তারা পেড়ে দিতে বলা হয়, ওরা সেটাও দেবে বলবেন। মানুষকে সতর্ক করে বলেন, এতে যদি বিভ্রান্ত হন, মোহগ্রস্ত হন, ঠকে যাবেন। তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, এরা দেশকে ঠকাচ্ছে। এখন ত্রিপুরার মানুষকে ঠকানোর জন্য বাজপাখির মত হামলে পড়েছে। সাবধান থাকতে হবে। 
এদিকে সোমবার উত্তর ত্রিপুরা ধর্মনগরে সমাবেশ করেন সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাত। এদিন সকালে আগরতলা থেকে ট্রেনে চেপে ধর্মনগর যান বৃন্দা কারাত। এদিনই উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গিয়েছিলেন হেলিকপ্টারে। ধর্মনগরে রোড শো করে গোরক্ষনাথ মন্দিরে পুজো দিয়ে ফিরে আসেন আগরতলায়। ধর্মনগরের সমাবেশে বৃন্দা কারাত বি জে পি-কে তীব্র আক্রমণ করে বলেন এদের বগলে ছুরি আর মুখে রাম নাম। ত্রিপুরায় মানুষ মিলেমিশে রয়েছেন। একটা সাজানো বাগানের মত, যেখানে অনেক রঙের ফুল একসাথে থাকে। বি জে পি সেই বাগানটাকে তছনছ করতে এসেছে। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় শান্তি একদিনে আসেনি। বহু কষ্টে, বহু আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এই শান্তি আনা হয়েছে রাজ্যে। শান্তি-সম্প্রীতি নিশ্চিত হয়েছে বলেই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে ত্রিপুরা দেশের মডেল। 
সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম এদিন কদমতলায় বিরাট এক সমাবেশে বলেন, দুর্নীতিগ্রস্তদের ত্রিপুরায় ডেকে নিয়ে এসেছে বি জে পি। এখানে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। পাশেই আসাম। একের পর এক কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাচ্ছে সে-রাজ্য। লোকসভা নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিও পালন করেননি প্রধানমন্ত্রী। ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে দেশে। বি জে পি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে অনাহারে মৃত্যুর খবর আসছে। ত্রিপুরায় কিন্তু কাউকে অনাহারে মরতে হয় না। ত্রিপুরার মানুষ অনেক লড়াই করে এই পরিস্থিতি তৈরি করতে পেরেছেন। কোনও ষড়যন্ত্রই এখানে সফল হবে না। 
পলিট ব্যুরো সদস্য সুভাষিণী আলি আগরতলার নির্বাচনী সমাবেশে বলেন, অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ত্রিপুরা নির্বাচন নিয়ে বি জে পি-র ‘ভিশন ডকুমেন্ট’ প্রকাশ করেছেন। তাতে যা বলা হয়েছে তার অধিকাংশই ত্রিপুরায় করা হয়ে গেছে। তাই ওদের এই ভিশন ডকুমেন্ট ত্রিপুরায় প্রয়োজন নেই। উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান যেখানে যেখানে বি জে পি-র সরকার আছে, সেখানে এই ভিশন ডকুমেন্ট কার্যকরী করার চেষ্টা করুক এরা। সুভাষিণী আলি নব্বই সালের কথা উল্লেখ করে বলেন, সাংসদ হিসাবে সেই সময়ে তিনি ত্রিপুরায় এসেছিলেন। তখন ত্রিপুরায় হত্যা, নারীদের উপর অত্যাচার, অপহরণ এবং গুন্ডারাজ ছিল। এখন ত্রিপুরায় সেই দিন নেই। শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছে বামপন্থীরা। কড়া আক্রমণ করে তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িকতা ও জাতপাতের নামে দেশকে ভাঙতে চায় বি জে পি। একমাত্র বামপন্থীরাই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই করে, তাই বামপন্থীদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেছে বি জে পি। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement