দ্বিপাক্ষিক আলোচনা
চাইলেন মুফতি

দ্বিপাক্ষিক আলোচনা<br>চাইলেন মুফতি
+

শ্রীনগর, ১২ই ফেব্রুয়ারি — পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চাইলেন মেহবুবা মুফতিও। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মুফতি সন্ত্রাসদীর্ণ কাশ্মীরের পরিস্থিতি তুলে বলেছেন যুদ্ধ কোনও সমাধান নয়। তিনি মনে করিয়েছেন, অবিরাম সংঘর্ষ এবং যুদ্ধোন্মাদনায় বড় সংখ্যায় প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সেনা এবং সুরক্ষাবাহিনীর জওয়ানরাও। 
সোমবারই সন্ত্রাসবাদী হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন সি আর পি এফ-র এক জওয়ান। এদিকে, এদিনই সেনা আধিকারিক আদিত্য কুমারের নামে এফ আই আর দায়ের করতে নিষেধ করল সুপ্রিম কোর্ট। গত মাসে শোপিয়ানে বাহিনীর গুলিতে তিন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় এফ আই আর দায়েরের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। 
পি ডি পি নেত্রী মেহবুবা মুফতির সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের জোট সরকারে শামিল রয়েছে বি জে পি। শরিক দলের নেত্রী আবেগময় বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন মুফতি। তিনি বলেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নে জোর দেওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু, আমাদের কাশ্মীরে এখন এমন অবস্থা যে ছোট ছেলেমেয়েরা স্কুলে পর্যন্ত যেতে পারছে না। দিনের পর দিন ঘরের ভেতর বন্দি পড়ে শৈশব। উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী ন্যাশানাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লাও একই কথা বলেছেন। 
সোমবারও হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসবাদীরা। শ্রীনগরের করণ নগর এলাকায় সি আর পি এফ শিবিরে হামলা হয় ভোরে। গুলিবিনিময়ে এদিন ফের প্রাণ গিয়েছে সি আর পি এফ কনস্টেবল মুজাহিদ খানের। এই করণ নগর এলাকাতেই হাসপাতাল থেকে বন্দি এক সন্ত্রাসবাদীকে বের করে নিয়েছিল লস্কর-ই-তৈবা। হত্যা করা হয়েছিল পাহারায় থাকা দুই পুলিশকে। 
সোমবার ভোরে আধা সামরিকবাহিনীর শিবিরে সশস্ত্র কয়েকজনকে শিবিরের দিকে এগতে দেখেন জওয়ানরা। দ্রুত সতর্কও করেন বাকিদের। গুলি-পালটা গুলির মধ্যে স্থানীয় একটি বাড়িতে ঢুকে পড়ে সন্ত্রাসবাদী। তাদের গুলিতে মারা যান মুজাহিদ খান। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ পৌঁছায় এলাকায়। বাড়িটি ঘিরে রেখেছে সুরক্ষাবাহিনী। 
গত শনিবার ভয়ংকর হামলা হয় সুনজুয়ান সেনা শিবিরের আবাসিক এলাকায়। টানা গুলি বিনিময়ের পর চারজন সন্ত্রাসবাদী প্রাণ হারায়। কিন্তু, তার আগেই পাঁচ সেনা এবং এক সেনার বাবা নিহত হন। সেনা পরিবারের মহিলা এবং শিশু মিলিয়ে আহত অন্তত দশজন। 
সংঘর্ষের আবহেই পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বান পরিস্থিতিতে নতুন দিক যোগ করেছে। কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের জিগিরধর্মী সম্প্রচারকেও মৃদু ভাষায় কড়া আক্রমণ করেছেন মুফতি। তিনি বলেছেন, জানি আমাকে কয়েকটি চ্যানেলের অ্যাঙ্কর ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দেবেন। কিন্তু তার জন্য পিছিয়ে যাওয়া চলে না। গোটা রাজ্যে এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না। উল্লেখ্য, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কথা বললেই দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে থাকে আর এস এস। মুফতি বলেন, বি জে পি নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী থাকার সময়ে দুদেশের মধ্যে বাস চলাচল শুরু হয়েছিল। এরা বাজপেয়ীকে তাহলে কী বলতেন!
এই পরিস্থিতিতেই সুপ্রিম কোর্টের সেনা আধিকারিকের বিরুদ্ধে আপাতত ব্যবস্থা নিতে বারণ করেছে রাজ্যকে। সোমবার প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারকে দুসপ্তাহের মধ্যে বক্তব্য জানানো নির্দেশ দিয়েছে। গত মাসে শোপিয়ানে পাথর ছুঁড়তে থাকা জনতার ওপর গুলি চালায় সেনা। গুলিতে তিন নাগরিকের মৃত্যু হয়। তীব্র ক্ষোভের জেরে এফ আই আর দায়ের করে প্রশাসন। অভিযুক্তদের অন্যতম সেনা আধিকারিক আদিত্য কুমারের বাবা এই পদক্ষেপের বিরোধিতায় সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন। 
মুফতির বক্তব্যে সাড়া দেওয়ার আগ্রহ অবশ্য দেখায়নি কেন্দ্র। জম্মুতে পৌঁছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের হুঁশিয়ারি, পাকিস্তানকে দুঃসাহসের দাম চোকাতে হবে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদীদের মদত দিচ্ছে পাকিস্তান। সীমান্তের ওপার থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে তাদের। তাদের পিছনে স্থানীয় মদতও থাকতে পারে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। নয়াদিল্লিতে জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। জানা গিয়েছে, সীমান্তের ওপার থেকে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ব্যবস্থা নিতে জোর দিয়েছেন সিং। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব রাজীব গাউবা এবং আই বি ডিরেক্টর রাজীব জৈন। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement