‘সীমান্ত সমস্যা’
বোঝালেন বি এস এফ প্রধান

খোদ কলকাতাতেই সঙ্ঘের সভায় এসে

‘সীমান্ত সমস্যা’<br>বোঝালেন বি এস এফ প্রধান
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা,১২ই ফেব্রুয়ারি- জংলি মিলিটারি পোশাক পরেই আর এস এস-র শাখা সংগঠন ‘সীমান্ত চেতনা মঞ্চ’-র চিন্তন শিবিরে বক্তব্য রাখলেন বি এস এফ প্রধান কে কে শর্মা। 
সীমান্ত অনুপ্রবেশ, গোরু পাচারের মত ইস্যুগুলিকে নিয়ে বি এস এফ-র পাশাপাশি ‘সীমান্ত চেতনা মোর্চা’-ও সচেষ্ট, সার্টিফিকেট দিলেন বি এস এফ-র ডি জি কে কে শর্মা। আর এস এস অনুমোদিত ‘সীমান্ত চেতনা মঞ্চ’-র ব্যানারে শনি ও রবিবার কলকাতায় দুদিন ধরে ‘সীমান্ত সমস্যা’ নিয়ে ‘মহা সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হলো। আর এস এস-র প্রথম সারির নেতারা ছাড়াও এই মহা সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন বি এস এফ-র ডি জি কে কে শর্মা। 
রবিবার বি এস এফ প্রধান তাঁর বক্তব্যে কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন গোরু পাচার বা সীমান্তে অনুপ্রবেশের মত ঘটনায় বি এস এফ-র কিছু কর্মী যুক্ত। কিন্তু বি এস এফ-এর মতো একটি আধা সামরিক বাহিনীর প্রধান হয়ে আর এস এস-র অনুষ্ঠানে তিনি কেন যোগ দিলেন উত্তর এড়িয়ে গেছেন কে কে শর্মা। 
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পাঁচটি রাজ্য আসাম, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে তিনশোজনের বেশি প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন এই দুদিনের মহা সম্মেলনে। সম্মেলনে আসার জন্য কথা ত্রিপুরার রাজ্যপাল তথাগত রায়, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ কথা দিলেও শেষ পর্যন্ত আসেননি তাঁরা। তবে দুদিনের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ‘সীমান্ত চেতনা মঞ্চ’-র ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর গোপাল কৃষ্ণান, মুরলিধর, বি জে পি নেতা মোহিত রায়, আর এস এস-র পক্ষে রন্তিদেব সেনগুপ্ত প্রমুখ। ‘সীমান্ত চেতনা মোর্চা’-র এরাজ্যের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি জগন্নাথ সেনাপতি জানিয়েছেন ‘সীমান্ত এলাকায় দেশপ্রেম গড়ে তোলাই এই মহাসম্মেলনের লক্ষ্য। ভারত বাংলাদেশের মধ্যে স্থল সীমানা রয়েছে ৪,১৫৬ কিলোমিটার, পশ্চিমবঙ্গেই রয়েছে ২, ২১৭ কিলোমিটার। আমরা খেয়াল করছি বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অনুপ্রবেশ বেড়ে গেছে। বি এস এফ যেমন তাদের মত কাজ করছে, আমরাও সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে দেশপ্রেমের প্রচার করবো। প্রতিদিনই সীমান্তে বেড়ে চলেছে গোরু পাচার। সীমান্তে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের ফলে সীমান্ত এলাকার বেকার যুবকরা কাজ পাচ্ছেন না, এই বিষয়গুলি নিয়েই আলোচনা হয়েছে সম্মেলনে’।
বি এস এফ প্রধানের চিন্তন বৈঠকে যোগদান সম্পর্কে জগন্নাথ সেনাপতি বলেছেন ‘এর আগেও বি এস এফ-র ডি জি’রা আমাদের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন’। বি এস এফ প্রধানের সম্মেলনে রাখা বক্তব্য নিয়ে অবশ্য মন্তব্য এড়িয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেব ‘কে কে শর্মা যখন বলছিলেন আমি তখন মঞ্চে ছিলাম না, একজন প্রতিনিধি অসুস্থ হয় পড়েন, আমি তাঁকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাই। তিনি কি বলেছেন , আমি বিস্তারিত বলতে পারবো না’।
ভারতের সেনাবাহিনী বা নিরাপত্তা বাহিনীতে কি গেরুয়াকরণ সম্পূর্ণ? তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে রবিবারই বিহারে মুজাফফরপুরে সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, দেশের হয়ে কাজ করার জন্য একজন সেনাকে প্রস্তুত করতে যেখানে ৬ মাস লেগে যায়, মাত্র দু তিন দিনেই একজন আর এস এস কর্মী প্রস্তুত হতে পারে। মোহন ভাগবত বলেন ‘আমরা যদিও সেনাবাহিনী নই, তবুও যদি প্রয়োজন পড়ে, সংবিধান যদি অনুমতি দেয় মাত্র তিনদিনের মধ্যেই আর এস এস তার বাহিনী করতে পারবে’। ঘটনাচক্রে সেদিনই আর এস এস-র শাখা সংগঠনের সম্মেলনে হাজির বি এস এফ প্রধান। 
রাজ্যের তৃণমূলের একাধিক নেতা ‘সীমান্ত চেতনা মঞ্চ’-র সম্মেলনে বি এস এফ প্রধানের যোগদান নিয়ে সরব হলেও, সম্মেলনের জন্য হলের অনুমতি পেতে বা প্রস্তুতির কাজে কোনও সমস্যাই হয়নি সংগঠনটির। সম্মেলনের প্রায় একমাস আগে ১৪ই জানুয়ারি ‘গণশক্তি’-কে সংগঠনের রাজ্য অর্গানাইজিং সেক্রেটারি জানিয়েছিলেন ‘রাজ্য সরকার বাধা দেবে কেন। আমরা তো রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানাবো’। 
প্রসঙ্গত, বেশ কয়েক বছর ধরেই উত্তর পূর্বের ভুটান বা বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া রাজ্যগুলিতে আর এস এস ‘সীমান্ত চেতনা মোর্চা’-র নামেই সংগঠন গড়ে তুলছে। সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ’, ‘জিহাদি সন্ত্রাসবাদ’ বা ‘গোরক্ষা’-র মত বিষয়গুলিকে সামনে রেখে প্রচার করে আসছে। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে আসামের ধুবরি জেলায় ‘সীমান্ত চেতনা মোর্চা’-র চিন্তন বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিং। আসাম সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলিতে এবছরও বি এস এফ কে সঙ্গে নিয়ে হইহই করে রাখী উৎসব পালন করেছে সংগঠনটি। ‘সুরক্ষা সাবলম্বন একতা’-র আড়ালে খোলাখুলি কেন্দ্র সরকার ও রাজ্য সরকারের মদতে এই সংগঠন থেকে দেশের সেনাবাহিনী, বি এস এফ, সীমা সশস্ত্র বল-র মত সংগঠনে আর এস এস প্রভাব বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ। 

Featured Posts

Advertisement