জলেই আতঙ্ক
দক্ষিণের  বিস্তীর্ণ এলাকায় 

জলেই আতঙ্ক<br>দক্ষিণের  বিস্তীর্ণ এলাকায় 
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১২ই ফেব্রুয়ারি – জল আতঙ্কে জেরবার দক্ষিণের যাদবপুর, পাটুলি, বৈষ্ণবঘাটার নাগরিকরা। লাফিয়ে বাড়ছে ডায়েরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা। গত ৩দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল আড়াই হাজার। সোমবার নতুন করে বাঘাযতীন স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩০জন। মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা হলো ৭৫জন। এদিন ৯২নম্বর ও ১০৫ নম্বর ওয়ার্ডে নতুন করে প্রায় ১৫০ জন আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। তবে এদিনও মহামারীর চেহারা নেওয়া রোগের উৎস সন্ধানে ব্যর্থ কর্পোরেশন। অবশেষে জলের নমুনা পাঠানো হচ্ছে কলকাতা স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনে। কারণ জানার আগেই কর্পোরেশনের পানীয় জল নিরাপদ বলে দাবি মহানাগরিক শোভন চ্যাটার্জির। সোমবার যাদবপুরের একাধিক ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আক্রান্তদের সঙ্গে দেখা করে ওষুধ, ও আর এস দিয়ে এলেন বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী। উপস্থিত ছিলেন বামপন্থী কাউন্সিলর সহ সি পি আই (এম) নেতৃবৃন্দ। 
একের পর এক ওয়ার্ড ডায়েরিয়ার কবলে পড়লেও কারণ খুঁজে পাচ্ছে না কলকাতা কর্পোরেশন। ১০১, ১০২, ১০৩, ১০৭, ১০৯, ১১০নম্বর ওয়ার্ডের পর এদিন ৯২ ও ১০৫ নম্বর ওয়ার্ডে হেলথ ইউনিটে ভিড় জমেছে ডায়েরিয়া আক্রান্তদের। ৯২ নম্বর ওয়ার্ডের সি পি আই কাউন্সিলর মধুছন্দা দেব জানান, শনিবার রাতে তেলি পাড়ায় খবর পেয়ে ছুটে যাই। দেখি ঘরে ঘরে আক্রান্ত হয়েছেন। পর দিন সকালে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে ক্যাম্প করি। প্রায় ৭০জনের চিকিৎসা হয়। আজ নস্কর পাড়া, সেলিমপুরে প্রায় ৪০জন আক্রান্তের খবর এসেছে। এই এলাকাগুলিতে ধাপা জল প্রকল্পের জলই যায়। তবে ১০৫ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কাউন্সিলর জানান, বেশি প্রকোপ পড়েনি তাঁর এলাকাতে। জনা ১০ এসেছিলেন হেলথ ইউনিটে। দুই ওয়ার্ডে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫০-র বেশি। আতঙ্ক ছড়িয়েছে আশপাশেও। এদিন ১০২নম্বর ওয়ার্ডে নতুন করে ১৩০জন আক্রান্ত চিকিৎসা করান। ১০৩নম্বর ওয়ার্ডে ৯০জন, ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১১৫জন এদিন নতুন করে ওয়ার্ড হেলথ ইউনিটে ডায়েরিয়ার চিকিৎসা করান। 
এদিন বাঘাযতীন হাসপাতালে সুপারের সঙ্গে দেখা করেন মেয়র শোভন চ্যাটার্জি, রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের উপদেষ্টা বিশ্বরঞ্জন শথপতি। মেয়র বলেন, ‘প্রত্যেক আক্রান্তের বাড়ি থেকে জলের নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে। কোনও নমুনাতে কিছু মেলেনি। কর্পোরেশনের পানীয় জল নিরাপদ। ডায়েরিয়াতে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা কম।’ তবে এদিন আবার তিনি নতুন যুক্তি খাড়া করেছেন। তাঁর দাবি, ‘চিকিৎসকরা বলছেন ঠান্ডা থেকে গরম পড়ার সময় এমন ঘটনা ঘটে।’ তবু জলের নমুনা আমরা স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনে পাঠাচ্ছি। যদিও এখন পর্যন্ত মোট চিকিৎসা কত জন করালেন, কত জন ভর্তি সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মুখে কুলুপ। 
এদিন সকাল থেকেই যাদবপুরের ১০১, ১০২, ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি যান স্থানীয় সি পি আই (এম) বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী। সঙ্গে ছিলেন সি পি আই (এম) কাউন্সিলর নন্দিতা রায়, রিঙ্কু নস্কর, পার্টির মধ্য যাদবপুর এরিয়া কমিটির সম্পাদক কানাই দেব সহ নেতা কর্মীরা। আক্রান্তদের সঙ্গে দেখা করার সঙ্গে পরিবার সদস্যদের হাতে ও আর এস, জল পরিশোধন ওষুধ হেলোজেন ট্যাবলেট তুলে দেন। কোনও অসুবিধা হলে পাশে থাকার কথাও জানিয়েছেন। যেভাবে যাদবপুর ও আশপাশের এলাকায় ডায়েরিয়া ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে তাতে উদ্বিগ্ন সুজন চক্রবর্তী এদিন কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র শোভন চ্যাটার্জিকে চিঠি দিয়েছেন। তিনি চিঠিতে জানিয়েছেন, বোরো ১১ ও ১২ একাধিক এলাকায় ঘরে ঘরে এই ডায়েরিয়া ছড়িয়েছে। ৩টি ওয়ার্ডে তিনি ঘুরে দেখেছেন পরিস্থিতি খুবই খারাপ। মেয়র দাবি করেছিলেন পৌরসভার সরবরাহ করা পানীয় জল থেকে এমনটা হয়নি। তবে সুজন চক্রবর্তী আক্রান্ত এলাকা ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানান জল থেকেই এমনটা হয়েছে। মহামারীর আকার নিচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে আটকানোর চেষ্টা করুন। উপযুক্ত পদক্ষেপ নিন। ‘নাইসেড’-র কাছে জলের নমুনা পাঠান পরীক্ষার জন্য। পৌরসভা পরিস্রুত জল সরবরাহ করুক আক্রান্ত এলাকায়। 
হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত ৯তারিখ বেলা ১২টা থেকে ১০তারিখ পর্যন্ত জরুরি বিভাগে ২০৩ এবং বহির্বিভাগে ৩১জন ডায়েরিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা করান যাঁদের মধ্যে ১৭জন ভর্তি হয়েছেন। গত ১০ তারিখ বেলা ১২টা থেকে ১১তারিখ বেলা ১২টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগে ৩৭০জন চিকিৎসা করান যাঁর মধ্যে ২৮জন ভর্তি হন। ১১তারিখ বেলা ১২টা থেকে ১২তারিখ বেলা ১২টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগে ৩৮১জন, বহির্বিভাগে ৪৭জন চিকিৎসা করান। তাঁদের মধ্যে ৭১জন ভর্তি হন। সোমবার রাতেও ডায়েরিয়া আক্রান্ত একের পর এক রোগী আসতে থাকেন হাসপাতালে। এদিন বেলা ১২টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগে ১৮৬জন চিকিৎসা করান। ৪জন ডায়েরিয়া আক্রান্ত রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে। 
কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র পরিষদ সদস্য অতীন ঘোষ জানিয়েছেন, ‘৫টি ওয়ার্ডের হেলথ ইউনিটে ৭০০জন ডায়েরিয়ার উপসর্গ নিয়ে আসেন চিকিৎসার জন্য। ৩দিনে মোট ২হাজার ডায়েরিয়াতে আক্রান্ত চিকিৎসা করান। এখনও আমরা উৎস খুঁজতে পারিনি। সংবাদ মাধ্যমে প্রচার খানিকটা মানুষের মনে প্রভাব ফেলেছে। ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডে আজ ১১৫জন এসেছিলেন রোগী। আমরা আক্রান্ত এলাকায় থানাগুলিতে ও ক্লাবগুলিকে ও আর এস এবং জল পরিশোধন ওষুধ দিয়েছি।’ 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement