দক্ষিণ আফ্রিকায়
প্রথম সিরিজ জয়

দক্ষিণ আফ্রিকায়<br>প্রথম সিরিজ জয়
+

পোর্ট এলিজাবেথ, ১৩ই ফেব্রুয়ারি — অভাবনীয়, অবিশ্বাস্য, তবে প্রত্যাশিত। প্রথম দুটি শব্দের পর তৃতীয়টিতে ছন্দপতন। একদিনের সিরিজের শুরু থেকে ভারতীয় দল যেভাবে খেলেছে, তাতে জেতারই কথা। চোট আঘাতে জর্জরিত দক্ষি্ণ আফ্রিকার পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ ছিল না। জোহানেসবার্গে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ভারতের রিস্ট স্পিন জুটি ব্যর্থ। পোর্ট এলিজাবেথে চাহাল-কুলদীপ জুটির প্রত্যাবর্তন। পঞ্চম ম্যাচের সঙ্গে সিরিজ জয় কোহলিদের। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম সিরিজ জিতলো ভারত। 
পোর্ট এলিজাবেথে ভারতীয় দলের পরিসংখ্যান সুখকর নয়। এই ম্যাচের আগে এখানে ভারতের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ১৭৯। রোহিতের শতরান সেই রান পার করল ভারত। টসে জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক। সিরিজে চূড়ান্ত ব্যর্থ রোহিত শর্মাকে অবশেষে আত্মবিশ্বাসী দেখালো। ধাওয়ানের সঙ্গে জুটিতে ভালো ব্যাটিং করছিলেন। দলের ৪৮ রানে জুটি ভাঙে। রাবাডার শর্টপিচ ডেলিভারিতে স্কোয়ার লেগে ফেলুকায়োর হাতে ধরা পড়েন ধাওয়ান। এই সিরিজে রোহিতকে বারবার আউট করেছেন রাবাডা। এদিনও বিব্রত দেখাচ্ছিল। রাবাডার সোজা বলেই বেশি সমস্যায় দেখিয়েছে রোহিতকে। অফ স্ট্যাম্পের বাইরে, শর্ট বল, বাউন্সারে দর্শনীয় কিছু শট খেলেছেন রোহিত। ব্যাটসম্যান রোহিত প্রশংসা কুড়িয়ে নিলেও উইকেটের মাঝে দৌড়ের ক্ষেত্রে জঘন্য। ভারতীয় দলের জোড়া রান আউটের ক্ষেত্রে ভূমিকা রয়েছে রোহিতেরও। দলীয় ১৫৩ রানে আউট হন কোহলি। বিরাট কোহলি উইকেটের মাঝে কতটা ভালো দৌড়ান সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। রোহিতের ডাকে অর্ধেক ক্রিজ চলে এসেছিলেন। বিপদ বুঝে কোহলিকে ফেরত পাঠান রোহিত। ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে। নিজের জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব ছিল না কোহলির। রাহানের ক্ষেত্রেও কার্যত একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। দুজনকে রান আউট করে শতরান রোহিতের। তিনি নিজেও একবার আউট হওয়া থেকে বেঁচেছেন। রাবাডার বলে রোহিতের আপারকাট, থার্ড ম্যানে সহজ ক্যাচ ফেলেন সামসি। রোহিত সেসময় ৯০ রানে ব্যাট করছিলেন। অবশেষে ১০৭ বলে শতরান পূর্ণ করেন রোহিত। কেরিয়ারের ১৭তম শতরান। গত কয়েক ম্যাচেই দেখা গিয়েছে মাঝ ইনিংসের পর ভারতীয় ব্যাটিংয়ে ধস নামছে। এদিনও তাই। ৪৩তম ওভারে লুঙ্গি এনগিডি কোনও রান না দিয়ে ২ উইকেট নেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৭৪ করে ভারত।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয় দক্ষিণ আফ্রিকার। বুমরা, হার্দিকের শৃঙ্খলার বোলিংয়ে ধীরে ধীরে চাপে পড়তে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানের চাপে উইকেটও যায়। দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংসের ৩৫তম ওভারে হাসিম আমলা আউট হতেই ম্যাচের রাশ কার্যত ভারতের হাতে চলে আসে। ক্লাসেন এবং রাবাডা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভরসা দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ অবধি সম্ভব হয়নি। ইনিংসের ৪২তম ওভারে কুলদীপ যাদব দক্ষিণ আফ্রিকার তিন ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরান। পরের ওভারে বাকি ১ উইকেট নিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জয় সম্পূর্ণ করেন যুজবেন্দ্র চাহাল। ৪২.২ ওভারে ২০১ রানে অলটউট দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতের রিস্ট স্পিন জুটি কুলদীপ ও চাহাল যথাক্রমে ৪ ও ২টি উইকেট নেন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান আমলারই।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement