ছন্নছাড়া মাদ্রিদ
ও নেইমারদের ছন্দ

ছন্নছাড়া মাদ্রিদ<br>ও নেইমারদের ছন্দ
+

 মাদ্রিদ, ১৩ই ফেব্রুয়ারি — সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পৌঁছেছেন নেইমার। সম্প্রতি নেইমারকে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই ব্রাজিলীয়কে নেওয়া নিয়ে যদিও বিভক্ত মাদ্রিদ। তাই নেইমারের মাদ্রিদে খেলা এখনও অনিশ্চিত।
তার আগে অবশ্য নিজেকে প্রমাণ করার পরীক্ষা। বার্সেলোনা ছাড়ার সময় ঝড় উঠেছিল। ব্রাজিলীয় এই তারকা স্প্যানিশ লিগ ছেড়ে ফ্রান্সে যাক এটা কেউ চায়নি। শুধু ক্লাব নয়, ফেডারেশনও কোমর বেঁধে নেমে পড়েছিল নেইমারের যাওয়া রুখতে। সেই নেইমারই ফিরেছেন স্পেনে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে খেলতে। মেসির ছায়া থেকে বেরিয়ে নেইমার নিজেই জ্যোতিষ্কে পরিণত হয়েছেন। প্যারিস স্যঁ জ্যঁ-য়ের মূল তারকার আকর্ষণ, খ্যাতি এবং সাফল্য নিয়েই ফিরছেন।
জিনেদিন জিদানের মাদ্রিদ এখন একেবারেই ছন্দহীন। পরপর দুবার এবং সর্বোচ্চ ১২বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের রেকর্ড রয়েছে রোনাল্ডো-বেঞ্জেমাদের দখলে। গতবারের ইউরোপ সেরারা যদিও এখন সমালোচনার মুখে। লা লিগায় একটানা ব্যর্থতার ফলে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার থেকে ১৭ পয়েন্টে পিছিয়ে। জিদানের ভাঁড়ারে বি-বি-সি (বেল-বেঞ্জেমা-ক্রিশ্চিয়ানো) ত্রয়ী থাকলেও ততটা কার্যকর নয়। ২০১৭-১৮ মরশুমে তিনজনের সম্মিলিত গোল সংখ্যা ৪০। সেখানে নেইমার, কাভানি এবং এমবাপ্পেদের করা গোল সংখ্যা ৭১। এমনকি গ্রুপ পর্যায়েও শীর্ষে থেকে শেষ করতে পারেনি জিদানের দল। টটেনহ্যাম হটস্পারের পর দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেছে। আর প্যারিস স্যঁ জ্যঁ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্যায়ে সর্বাধিক ২৫ গোলের নজির গড়েছে।
এখনও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল জেতেনি প্যারিস স্যঁ জ্যঁ। সেই দল নিয়েই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার শখ নেইমারের। পি এস জি-র হয়ে ২৮টি গোল এবং ১৬টি সাহায্য করেছে। সেখানে মেসির গোল সংখ্যা ২৭। আর গোলের সাহায্য মাত্র ১৪। এমনকি তৌলু-র বিরুদ্ধে সারা ম্যাচে ১৩৭টি পাস খেলে নজির গড়েছেন। বার্সেলোনার ফুটবলার হিসাবে রিয়ালের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু আগের সঙ্গে বর্তমানের মাদ্রিদের ফারাক অনেক। খারাপ ফল সত্ত্বেও জিদান নিজের খেলার ছক বদলাননি। পি এস জি-র বিরুদ্ধেও বদলাবেন না বলেই জানিয়েছেন। নিজের ৪-৩-৩ ছকে আগ্রাসী ফুটবল খেলবে বলেই জিদান বলেছেন, ‘আমরা কিছুই বদলাবো না। যে যা ভাবার ভাবুক। আমি আমার পরিকল্পনামাফিক দল সাজাবো। তারপর যা হবে তা আমার হাতে নেই।’
রিয়ালের ফরাসি কোচ ভালোমতোই জানেন প্যারিস স্যঁ জ্যঁ সম্পর্কে। মার্সেইয়ের সঙ্গে পি এস জি-র প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেকটা রিয়াল বার্সার মতোই। সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়েও মাথা ঘামাচ্ছেন না। আবার অনেকেই ম্যাচে মরণ বাঁচন ম্যাচ হিসাবে ধরছেন। কেউ বা বলছেন ফাইনাল ম্যাচ। জিদান সেসব মানতে নারাজ। তাও সাফ জানিয়েছেন, ‘এটা কোনও ফাইনাল নয়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুটো ম্যাচ হয়। আর আমি চিন্তিত ভালো ফুটবল খেলা নিয়ে। পরে কি হবে তা নিয়ে ভাবছি না। এখন যা আছে তা নিয়েই খেলতে চাই।’
গত মরশুমেও কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনার নাভিশ্বাস তুলেছিল পি এস জি। এবার নেইমার এবং কাভানি, দানি আলভেজ, দি মারিয়া, এম বাপ্পেরা যোগ দেওয়ায় উনাই এমেরির দল আরও শক্তিশালী। রিয়ালের মূল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো জানিয়েছেন, ‘আমরা শক্তিশালী একটা দলের বিরুদ্ধে খেলবো। তবে রিয়ালও প্রমাণ করেছে যে ওদের অভিজ্ঞ ফুটবলারের অভাব নেই। পি এস জিকে সম্মান করলেও আমরা ঐক্যবদ্ধ।’ আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অন্য ম্যাচে লিভারপুলের বিরুদ্ধে খেলবে পোর্তো এফ সি।

Featured Posts

Advertisement