ঋণ ফয়সালার নতুন
নির্দেশ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের

ঋণ ফয়সালার নতুন<br>নির্দেশ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের
+

 নিজস্ব প্রতিনিধি: নয়াদিল্লি, ১৩ই ফেব্রুয়ারি- বড় কর্পোরেট ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ককে এবারে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই দেউলিয়া ঘোষণা প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। অনাদায়ী ঋণ পুনর্গঠনের পুরানো সব প্রকল্প বাতিল করে এবারে কর্পোরেট  ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে দ্রুত দেউলিয়া প্রক্রিয়া শুরুর নতুন পরিকল্পনার প্রস্তাব এনেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। সোমবার রাতে এই  প্রস্তাব জানিয়ে নোটিস জারি করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এই নয়া প্রস্তাবে ঋণখেলাপী কর্পোরেটদের বিরুদ্ধে দেউলিয়া প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে কিনা তা প্রতি সপ্তাহে জানাতে হবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে। এই পদক্ষেপ নিতে কোনও গাফিলতি হলে সে ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নোটিসে জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অনাদায়ী ঋণ বিপুল হারে বেড়ে চলেছে মোদীর জমানায়। যা এই মুহূর্তে প্রায় ১০লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই অনাদায়ী ঋণের বেশিরভাগই কর্পোরেট ঋণ। এদিকে কর্পোরেটের ঋণ লোপাটের জেরে বিভিন্ন ব্যাঙ্কে লোকসানের বহর বাড়ছে।পুরানো  নিয়মে ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ নিয়ে কর্পোরেট ঋণ মকুবও এসময়ে বেড়েছে। কর্পোরেট ঋণ খেলাপীদের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে নতুন দেউলিয়া আইন কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ব্যাঙ্ককে। গত বছরই ২.৫লক্ষকোটি টাকার উপর অনাদায়ী ঋণ রয়েছে এরকম ৪০টি কর্পোরেটের বিরুদ্ধে দেউলিয়া আইন অনুসারে দেউলিয়া কোর্টে  মামলা দায়ের  করা হয়েছে।
অনাদায়ী ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে দেউলিয়া প্রক্রিয়া যখন চলছে সেসময় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক  এই নির্দেশ জারি করে ফের জানিয়েছে, ব্যাঙ্কের লোপাট হওয়া অনাদায়ী ঋণের  দেউলিয়া আইন অনুযায়ী ফয়সালা আরও সহজ করতে নতুন পরিকল্পনার প্রস্তাব আনা হয়েছে।এই নতুন পরিকল্পনায় অনাদায়ী ঋণখেলাপীদের চিহ্ণিতকরণের কাজ সহজ করা হয়েছে।  নির্দেশে বলা হয়েছে যেদিন থেকে অনাদায়ী ঋণ চিহ্ণিত হবে তার পরে ১৮০ দিনের মধ্যে তা নিয়ে দেউলিয়া আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। ২হাজার কোটি টাকার উপর যারা বড় ঋণখেলাপী  তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ১৮০দিনের মধ্যে এই ব্যবস্থা নিতে হবে।১০০ কোটি  থেকে ২হাজার কোটি টাকার মধ্যে ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে ২বছরের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে।এই সময়সীমার মধ্যে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সেসব ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এদিকে  অনাদায়ী ঋণ নিয়ে ব্যাঙ্কে তিনটি প্রকল্প ছিল  যার সুযোগ নিয়ে রেহাই পেয়েছে কর্পোরেট ঋণ খেলাপীরা। এই প্রকল্প গুলি হলো স্ট্র্যাটেজিক ঋণ পুনর্গঠন প্রকল্প, ফেরতযোগ্য অনাদায়ী ঋণ প্রকল্প,কর্পোরেট ঋণ পুনর্গঠন প্রকল্প।নির্দেশে বলা হয়েছে  ১লা মার্চ নতুন পরিকল্পনার প্রস্তাব চালু হওয়ার সময় থেকে পুরানো ঋণ খেলাপীদের ক্ষেত্রে ঋণ পুনর্গঠন সব প্রকল্পগুলি বাতিল করা হলো।
এদিকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অনাদায়ী ঋণ ফয়সালার এই নতুন উদ্যোগ নিয়ে কেন্দ্রের আর্থিক পরিষেবা দপ্তরের সচিব রাজীব কুমার বলেছেন, ব্যাঙ্কে অনাদায়ী ঋণের সমস্যা একবারে মিটিয়ে দিতেই এই ঋণ ফয়সালার পথ সরল করা হয়েছে। তাঁর দাবি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই উদ্যোগ আসলে বড় ঋণ খেলাপীদের উদ্দেশ্যে  সতর্কবার্তা। তাতে বলা হয়েছে যদি বড়  ঋণখেলাপীরা ছয়মাসের মধ্যে ঋণের টাকা শোধ না করে তাদের বিরুদ্ধে দেউলিয়া আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার  মতে এতে সমস্ত ব্যাঙ্কের ব্যালেন্সশিট পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হবে।এদিকে বড় ঋণের নিয়মিত তথ্য  রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে প্রতি সপ্তাহে জানানো বাধ্যতামুলক করা হয়েছে।আগামী ২৩শে ফেব্রুয়ারি থেকে ৫কোটি টাকার উপরে যেসব ঋণ রয়েছে তা প্রতি সপ্তাহে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল রিপোসিটোরি অব ইনফরমেশন অনলার্জ ক্রেডিট সংস্থাকে জানাতে  হবে সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ককে। রাজীব কুমারের মত এতে অনাদায়ী ঋণ সংক্রান্ত বিষয়ে স্বচ্ছতা আনা সম্ভব হবে। উল্লেখ করা যেতে পারে গত ১৭ বছরে অনাদায়ী ঋণ আদায়ে নানা প্রকল্প নিয়ে ২৮টি সার্কুলার জারি করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তাতে বকেয়া ঋণ আদায় বাড়েনি। উলটে অনাদায়ী ঋণ বেড়েছে। এবারে ২৮টি সার্কুলার বাতিল করে নয়া উদ্যোগে এই কর্পোরেট ঋণ আদায় দেউলিয়া আইনে তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ঋণ আদায় কতটা সম্ভব হবে তা সময় বলবে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement