ত্রিপুরায় প্রচারের ঝড়
তুললেন বামপন্থীরা

আগে নিজেদের রাজ্যে ক্ষোভ সামলান,মোদীকে পরামর্শ মানিক সরকারের

ত্রিপুরায় প্রচারের ঝড়<br>তুললেন বামপন্থীরা
+

নিজস্ব সংবাদদাতা: আগরতলা, ১৩ই ফেব্রুয়ারি— ত্রিপুরা বিধানসভা ভোট প্রচারের শেষ পর্যায়ে ঝড় তুললেন বামপন্থীরা। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাত, মহম্মদ সেলিম, সুভাষিণী আলিরা। যেমন বড় সমাবেশ বা অঞ্চল ভিত্তিক সভা করেছেন, তেমনই রাজ্যের পার্টি নেতারাও পরপর সভা করেছেন। মিছিলও হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। বক্তারা কেন্দ্রের বি জে পি সরকারকে তুলোধনা করেছেন। 
মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এদিন তিনটি সভা করেছেন। নিজের কেন্দ্র ধনপুরের বাঁশপুকুর এলাকায় একটি অঞ্চলসভা করেন তিনি। তারপর বিশালগড় এবং বাধারঘাটের বামফ্রন্ট প্রার্থীর সমর্থনেও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। প্রতিটি সমাবেশেই বিপুল জনসমাগম দেখে তিনি বলেন, আপনারা তো সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন আরও বেশি ভোট, আরও বেশি আসনে বামফ্রন্টকে জয়ী করবেন। এখন ১৮ই ফেব্রুয়ারি ভোট বাক্সে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। বি জে পি-র পালটানোর স্লোগানকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, নিজেদের দুর্গেই তো পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নিজের রাজ্য গুজরাটে কোনোক্রমে জয় পেয়েছে বি জে পি। রাজস্থানের উপনির্বাচনে তিন আসনেই হেরেছে তারা। আগে বি জে পি শাসিত রাজ্যগুলিতে মানুষের যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ তা সামাল দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, তারপর ত্রিপুরার কথা ভাববেন। 
বি জে পি-র পালটানোর স্লোগানকে একইভাবে তীব্র কটাক্ষ করেছেন সাংসদ মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, বি জে পি যে ‘ভিশন ডকুমেন্ট’ প্রকাশ করেছে সেটা একটা ভাঁওতার দলিল। গত লোকসভা ভোটে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বি জে পি, সেটাই এখন ত্রিপুরায় দিচ্ছে। তীব্র কটাক্ষ করে সেলিম বলেন ওটা ছিল হিন্দিতে, এটা বাংলায় এই তফাৎ। এদিন খোয়াই জেলায় তিনটি সমাবেশ করেছেন সেলিম। প্রথমে রামচন্দ্রঘাট কেন্দ্রের বামফ্রন্ট প্রার্থী পদ্মকুমার দেববর্মার সমর্থনে। তারপর আশারাম বাড়ি কেন্দ্রের প্রার্থী, রাজ্যের মন্ত্রী আঘোর দেববর্মার সমর্থনে এবং শেষে খোয়াই শহরে খোয়াই কেন্দ্রের প্রার্থী নির্মল বিশ্বাসের সমর্থনে। সমাবেশগুলিতে বিপুল জনসমাগম হয়েছিল। বি জে পি-কে তীব্র আক্রমণ করে সেলিম বলেন, নরেন্দ্র মোদী- অমিত শাহরা ত্রিপুরার ভবিষ্যৎ স্থির করবেন না। ত্রিপুরার ভবিষ্যৎ রাজ্যের মানুষ স্থির করবেন। আর ত্রিপুরার মানুষ শান্তি, উন্নয়ন এবং একতার পক্ষে। বি জে পি ভোটের সময়ে যে যথেচ্ছ প্রতিশ্রুতি বিলি করে ফিরছে তাকে আক্রমণ করে সেলিম বলেন, এরা আগে বলেছিল স্মার্ট সিটি করে দেবে। স্মার্ট সিটি তো হলো না, এখন বলছে স্মার্ট ফোন দেবে। এসবই ভাঁওতা। এগুলিই মোদীর জুমলা। দৃঢ়তার সঙ্গে সেলিম বলেন, ত্রিপুরার মানুষ লালঝান্ডার পাশে ছিল। আগামী দিনেও থাকবে। মিথ্যাচার, চক্রান্ত করে ত্রিপুরার মানুষের ঐক্য ভাঙা যাবে না। 
এদিন উত্তর ত্রিপুরায় পরপর সভা করেন বৃন্দা কারাত। আগরতলা শহর থেকে সবথেকে দূরবর্তী মহকুমা কাঞ্চনপুরে এদিনের সমাবেশে ঢল নেমেছিল মানুষের। এরপর আরও দুটি সভা করেন বৃন্দা কারাত। ধর্মনগরের যুবরাজনগর এবং শেষ সভাটি করেন শহরের দুটি ওয়ার্ড নিয়ে আহূত একটি সভায়। উল্লেখ্য, এই জায়গাগুলিতেই সোমবার সভা, রোড শো করেছিলেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এদিন সেই সব জায়গাতেই বৃন্দা কারাতের সভায় উপচে পড়েছিল ভিড়। পরপর সভায় বৃন্দা কারাত বি জে পি-কে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, বিভেদকামী বি জে পি এখানে অশান্তি বাধাতে চাইছে। ত্রিপুরার বিকল্পের মডেল দেখে অন্য রাজ্যগুলির মানুষ উৎসাহিত তাই শঙ্কিত বি জে পি। তাই গোটা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাকে ত্রিপুরায় এনে হাজির করেছে বি জে পি। আসাম, নাগাল্যান্ডে যেখানে বি জে পি আছে সেখানে অশান্তি সৃষ্টি করছে। সেই অশান্তি এরা ত্রিপুরাতেও ছড়াতে চায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ত্রিপুরার মানুষ এদের জায়গা দেবেন না। 
রাজনগর এবং বিলোনিয়ায় দুটি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সুভাষিণী আলি। ভিড়ে ঠাসা সমাবেশে তিনি যোগী আদিত্যনাথকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, ত্রিপুরাকে উত্তর প্রদেশ বানানোর চেষ্টা করবেন না। উত্তর প্রদেশে যেভাবে খুন, জখম, ধর্ষণসহ মহিলাদের উপর অত্যাচার বাড়ছে তার পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বলেন, ত্রিপুরাকে এরা অপরাধীদের মুক্তাঞ্চল বানাতে চাইছে। বি জে পি ক্ষমতায় এলেই সকলে চাকরি দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি বিলি করে ফিরছে সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লোকসভা ভোটে আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ২কোটি চাকরি দেবেন। এখন বলছেন, পকোড়া ভাজতে। এখানেও কি তেমনই কাজ দেওয়ার কথা বলছেন? প্রশ্ন ছোঁড়েন তিনি। 

Featured Posts

Advertisement