ডায়েরিয়ার কারণ ব্যাখ্যায়
মেয়রের উলটো সুর 

ডায়েরিয়ার কারণ ব্যাখ্যায়<br>মেয়রের উলটো সুর 
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১৩ই ফেব্রুয়ারি— কর্পোরেশনের দেওয়া পানীয় জল নিরাপদ বলে মেয়র শোভন চ্যাটার্জি সোমবার এই দাবি করেছিলেন। এর ২৪ঘণ্টাও কাটেনি মঙ্গলবার সকালে রাজ্য স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী জানালেন, এই ঘটনা জলের সংক্রমণ থেকেই হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মলের নমুনা পরীক্ষা করতে দেওয়া হচ্ছে স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনে। মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) অতীন ঘোষের গলাতেও একই সুর। স্বাস্থ্য অধিকর্তার মন্তব্যের পরেই বামফ্রন্ট কাউন্সিলররা অভিযোগ করেন, মেয়র নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে নাগরিকদের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করছেন পরিকল্পিতভাবে। এরমধ্যেই মঙ্গলবার বাঘাযতীন স্টেট জেনারেলে আরও ১০জন রোগী নতুন করে ভর্তি হয়েছেন। ভর্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৮৫জনে। আক্রান্তের সংখ্যা রোজই বাড়ছে।
দক্ষিণ কলকাতার একাধিক ওয়ার্ডে ডায়েরিয়া আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নাগরিকরা। চারদিন কেটে গেলেও কর্পোরেশন কারণ অনুসন্ধানে ব্যর্থ। নাগরিকদের ক্ষোভ দমনে ডেঙ্গুর মতোই বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে চলেছেন মহানাগরিক। দক্ষিণ কলকাতায় বিস্তীর্ণ এলাকায় মহামারির চেহারা নেওয়া ডায়েরিয়া আটকানোর বদলে দায় এড়াতেই ব্যস্ত কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনাকে কখনো নাগরিকদের মানসিক ভিতি বলছেন আবার কখনো সংবাদমাধ্যমের প্রভাব বলছেন। অবশেষে জলবাহিত রোগের কারণ না জেনেই তিনি সোমবার দাবি করেন কর্পোরেশনের জল নিরাপদ। নাগরিকরা পান করতে পারেন। মঙ্গলবার সকালে খোদ রাজ্য স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী বাঘাযতীন হাসপাতালে রোগীদের দেখেতে যান। সেখানেই তিনি জানান, ‘জলের সংক্রমণ থেকেই হচ্ছে বলে আমার মনে হচ্ছে। এটা আরও সুনিশ্চিত করতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মলের নমুনা স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনে পাঠানো হবে।’ এদিন কর্পোরেশনের মেয়র পারিষদ স্বাস্থ্য অতীন ঘোষ বলেন, ‘কলকাতা বহু পুরানো শহর। অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ পাইপ লাইন গেছে। নিকাশি, পানীয় জল কোথাও কোথাও পাশাপাশি গিয়েছে। কাজ করতে গিয়ে কোনও জায়গায় সামান্য ফাটল ধরতে পারে যার ফলে সেখান থেকেই জল দূষণ হতে পারে।’ 
এদিন কর্পোরেশনের বিরোধী দলনেত্রী রত্না রায়মজুমদার বলেন, ‘বামপন্থী কাউন্সিলরদের তরফে প্রথম থেকেই এটা বলে আসা হয়েছে জল দূষণের জেরে এমন ঘটনা। কারণ এই রোগ জলবাহিত রোগ। মেয়র সেটা জেনেও ডেঙ্গুর মতোই গোটা বিষয় ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টা করেছেন। তা করতে গিয়ে নানা যুক্তি তিনি তুলে ধরেছেন যাতে আক্রান্ত এলাকায় নাগরিকদের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এই ব্যর্থতার দায়ে মেয়রকেই নিতে হবে। এই ঘটনার চার দিন কাটলেও এখনও কীভাবে হয়েছে তা বের করতে পারেনি। এমন ঘটনা তৃণমূল পরিচালিত কলকাতা কর্পোরেশনের চূড়ান্ত অপদার্থতাই ফুটে উঠেছে। বামপন্থী বিধায়ক, কাউন্সিলর থেকে নেতা,কর্মী বিভিন্ন গণসংগঠন আক্রান্ত আতঙ্কিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। সেখানে পুরকর্তৃপক্ষ ধামাচাপা দিতে ব্যস্ত।’ 
এদিনও আক্রান্ত এলাকাগুলিতে একের পর এক মানুষ হেলথ ইউনিটে ছুটে এসেছেন চিকিৎসার জন্য। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩হাজারের কাছে দাঁড়িয়েছে। বাঘাযতীন হাসপাতালেও বহু মানুষ এসেছেন চিকিৎসার জন্য। হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার বেলা ১২ পর্যন্ত ১৩৫জন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা করান যাঁদের মধ্যে ১০জনকে নতুন করে ভর্তি করা হয়। 
কলকাতা কর্পোরেশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চার-পাঁচ দিন ধরে দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডে একাধিক মানুষ ডায়েরিয়ার আক্রান্ত ঘটনা নিয়ে বামফ্রন্টের তরফে আসন্ন মাসিক অধিবেশনে মুলতুবি প্রস্তাব আনা হয়েছে। 
এদিকে যাদবপুরের ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে সকাল থেকে স্বাস্থ্য শিবির হয় ডি ওয়াই এফ আই মধ্য যাদবপুর ২নম্বর আঞ্চলিক কমিটি ও সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির উদ্যোগে। শিবিরে ৬৯জন ডায়েরিয়া আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা করা হয়েছে। বিনামূল্যে ওষুধ, ও আর এস রোগীদের দেওয়া হয়। পাটুলি উপনগরীতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে কিশোরবাহিনী কার্যালয়ে কিশোরবাহিনীর উদ্যোগে স্বাস্থ্য শিবির চালু করা হয়ছে। এদিন সকাল থেকে ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্রপল্লী এলাকায় আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি ঘোরেন যাদবপুরের বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী। স্থানীয় মানুষেদর সঙ্গে তিনি কথা বলে চিকিৎসার খোঁজ খবর করেন। তিনি এদিন অস্থায়ী স্বাস্থ্য শিবিরগুলি পরিদর্শন করেন।   

Featured Posts

Advertisement