বেঙ্গল কেমিক্যালস
বিক্রি বন্ধ

হাইকোর্টে বাতিল কেন্দ্রের নোটিস

বেঙ্গল কেমিক্যালস<br>বিক্রি বন্ধ
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১৩ই ফেব্রুয়ারি— বেঙ্গল কেমিক্যালসের জমি বিক্রি করা যাবে না। কেন্দ্রীয় সরকার বেঙ্গল কেমিক্যালস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালসের জমি বিক্রি করে দেওয়ার জন্য যে নোটিস দিয়েছিল মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্ট তা বাতিল করে দিয়েছে। দেশের ওষুধ ও রাসায়নিক শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি। 
এদিন বিচারপতি দেবাংশু বসাক তাঁর নির্দেশে বলেছেন দেশের ওষুধ শিল্প সংস্থা বেঙ্গল কেমিক্যালসের জমি বিক্রি করা যাবে না। এই শিল্প দেশের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অগ্রাধিকার ক্ষেত্রের মধ্যে পড়ে। ফলে এই শিল্প ক্ষেত্রের জমি বা শিল্পের কোনও অংশ বিক্রি করা যায় না। কলকাতা হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে কেন্দ্রের বি জে পি সরকার এই সংস্থার জমি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারবে না। 
প্রসঙ্গত ২০১৬ সালে কেন্দ্রের বি জে পি জোট সরকার এই শিল্পের ২৫একর জমি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিল। এই ঘোষণার পরই বেঙ্গল কেমিক্যালসের কর্মচারীরা জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আন্দোলনে নামেন। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসেই কেন্দ্রীয় সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত এই ওষুধ ও রাসায়নিক শিল্প সংস্থাটি বিক্রি করে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। নরেন্দ্র মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় কেমিক্যালস ফার্মাসিউটিক্যালস দপ্তরের মন্ত্রী অনন্ত কুমারের সঙ্গে দেখা করেছেন সি আই টি ইউ-র সাধারণ সম্পাদক তপন সেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন এখনই ওই শিল্প বিক্রির পথে যাবে না সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের এই মুখের আশ্বাসকে বিশ্বাস করেননি বেঙ্গল কেমিক্যালসের শ্রমিক কর্মচারীরা। কর্মচারীরা দেশের পুরানো এই ওষুধ শিল্প বিক্রির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বেঙ্গল কেমিক্যালস শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা দায়ের করেন। 
মামলার শুনানির সময় আবেদনকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় সরকারেরই দেওয়া বিভিন্ন তথ্য আদালতে উত্থাপন করে জানান, বেঙ্গল কেমিক্যালস দেশের মধ্যে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ওষুধ শিল্প যেখানে অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে সাপে কামড়ানোর ওষুধও তৈরি হয়। এছাড়া কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যে সংসদীয় কমিটি রয়েছে তারা জানিয়েছেন এই শিল্প মুনাফাও করছে। গোটা দেশে যে ওষুধ শিল্প সংস্থাগুলি রয়েছে সেগুলির সিংহভাগ কাঁচামাল বেঙ্গল কেমিক্যালস সরবরাহ করে। 
মামলার দীর্ঘ শুনানির পর আদালত প্রথমে কেন্দ্রীয় সরকারের জমি বিক্রির সিদ্ধান্তের ওপর ২০১৭সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত স্থগিতাদেশ জারি করে। তারপর আদালত সেই স্থগিতাদেশ ২০১৮সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় বেঙ্গল কেমিক্যালসের জমি বিক্রি করা যাবে না। আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছে, এই রাষ্ট্রায়ত্ত ওষুধ শিল্প দেশের অগ্রাধিকার শিল্পক্ষেত্র বলে গণ্য হয়। আদালতে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে সহায়তা করেন আইনজীবী সামিম আহমেদ। 
বহুজাতিক সংস্থাগুলির দাপটে যখন দেশে ওষুধের দাম বেড়ে চলেছে, বেঙ্গল কেমিক্যালস তখনই বেচে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রয়ত্ত সংস্থাগুলিকে হয় গুটিয়ে দেওয়া অথবা বিলগ্নির পথে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার নীতি কার্যকর করছে কেন্দ্র। লক্ষণীয়, বামপন্থীরা এবং বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন এই প্রশ্নে লড়াইয়ে শামিল হলেও রাজ্যের সরকারে আসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে বেঙ্গল কেমিক্যালসের জন্য আন্দোলনে নামতে দেখা যায়নি। 

Featured Posts

Advertisement