বার্সেলোনায় চমৎকারের
অপেক্ষায় চেলসি

বার্সেলোনায় চমৎকারের<br>অপেক্ষায় চেলসি
+

বার্সেলোনা, ১৩ই মার্চ — হয় এসপার। নয় ওসপার। জিততেই হবে। নয়তো বিদায় পাকা।
চেলসির সামনে একটাই পথ। আন্তোনিও কন্টের সামনেও। বার্সেলোনাকে ঘরের মাঠে হারাও। নয়তো ঝুলি শূন্য। সম্ভবত আন্তোনিও কন্টের শেষদিন।
ব্রিটিশ ফুটবল ক্লাবের সামনে একটাই পথ। প্রথম পর্বের ম্যাচে ১-১ ড্র। আপাত দৃষ্টিতে খেলা সমান সমান হলেও, এগিয়ে বার্সেলোনাই। প্রথমত অ্যাওয়ে গোলে। এবং দ্বিতীয়ত ঘরের মাঠে ম্যাচ। তাই মেসিদের বিরুদ্ধে কাজ খুব সহজ হবে না। বিশেষ করে কন্টের উপর আর আস্থা রাখতে পারছে না ফুটবলাররাই। দলের মূল তারকা ইডেন হ্যাজার্ড অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ইতালিয়ান কোচ ইডেন হ্যাজার্ডকে ফলস নাইন পজিশনে খেলিয়েছেন। বার্সেলোনার বিরুদ্ধে কার্যকর হলেও, হ্যাজার্ড নিজের ছন্দ খুঁজে পাচ্ছেন না। বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড তাই অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন কোচের বিরুদ্ধে। এই অসন্তোষ একদিনের নয়। গতবারের ই পি এল চ্যাম্পিয়ন কোচ দিয়েগো কোস্তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর থেকেই একটু একটু করে পরিস্থিতি নাগাল থেকে বেরিয়ে গেছে। এমনকি অলিভিয়ের জিরৌকে সই কারলেও প্রথম একাদশে ঠাঁই হয়নি এখনও। আর এবার যা পরিস্থিতি তাতে সবাই যেন এই ম্যাচ হারার অপেক্ষাতেই বসে আছে। চেলসি ম্যাচ হারলেই কন্টেকে ছাঁটাই। এই ফাঁস নিয়েই আপাতত খেলতে নামবে চেলসি।
ধারে এবং ভারে এগিয়ে বার্সা। চেলসি ঘুরে দাঁড়াবে এমন আশা কম। কিন্তু এই বার্সেলোনার বিরুদ্ধ এই যেন জ্বলে ওঠে ব্রিটিশ ক্লাব। ২০১২ সালেও সেমি ফাইনাল থেকে ছিটকে গিয়েছিল কাতালান ক্লাব। এইরকম কোনও চমৎকারের দিকেই তাকিয়ে চেলসির সমর্থকরা। যদিও ছয় বছর আগের চেলসি এবং বর্তমান চেলসির পার্থক্য অনেকটাই। ঐতিহাসিক ম্যাচে জন টেরি, ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, অ্যাশলে কোল এবং পিটার চেকরা ছিলেন। বার্সেলোনার থেকে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার কারিগরও এঁরাই। কিন্তু কন্টের দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার তারকার অভাব রয়েছে। যদিও, ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।
চেলসি যতটা সমস্যা জর্জরিত, বার্সেলোনা ঠিক ততটাই শক্তিশালী। মেসি-সুয়ারেজদের ছন্দের লা লিগা জয়ের সামনে এর্নেস্তো ভেলভের্ডের দল। সেই ছন্দেই পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরেছিল বার্সেলোনা। মেসি-সুয়ারেজের যুগলবন্দিতেই স্টামফোর্ড ব্রিজ স্তব্ধ হয়েছিল। মালাগার বিরুদ্ধে বিশ্রাম নিয়ে আরও তরতাজা মেসি। ফেলিপে কুটিনহো খেলতে না পারলেও চোট সারিয়ে ফেরার অপেক্ষায় ইনিয়েস্তা। ২০০৯ সালের সেমিফাইনালের ইঞ্জুরি টাইমে ইনিয়েস্তার গোলেই জিতেছিল বার্সা। ২০১২ সালে চেলসির বিরুদ্ধে ইনিয়েস্তা গোল করলেও, সে ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছিল কাতালান ক্লাবের। বার্সেলোনার ঘরের মাঠে জিততে হলে অনেক কষ্ট করতে হবে। হ্যাজার্ড তা স্বীকারও নিয়েছেন, ‘এটা বোঝা খুব দরকারি যে আমাদের ভোগার জন্য তৈরি থাকতে হবে। তা হ্যাজার্ডকে নয় নম্বরে খেলাই, বা জিরৌ বা মোরাতাকে বা হ্যাজার্ডকে দশে খেলাই না কেন! যখন মাঠ ছাড়বেন মনে হবে যে অনেক দৌড়েছো। কিন্তু ফুটবল খেলতে পারোনি।’
আবার অন্য ম্যাচে , বেসিকতাসের বিরুদ্ধে খেলবে বায়ার্ন মিউনিখ। আলিয়াঞ্জ এরিনায় বেসিকতাসকে পাঁচ গোল দিয়ে এমনিতেই পরের কোয়ার্টার ফাইনালের পথ প্রশস্ত করে রেখেছে জার্মান ক্লাব। তাই বেসিকতাসের বিরুদ্ধে ম্যাচ নিয়মরক্ষার ম্যাচ খেলবে বায়ার্ন তা বলাই বাহুল্য।
বেসিকতাস : বায়ার্ন মিউনিখ (রাত ১০.৩০)
বার্সেলোনা : চেলসি (রাত ১.১৫)

Featured Posts

Advertisement