‘খালিদই চিফ কোচ’
বলে দিলেন সুভাষ 

‘খালিদই চিফ কোচ’<br>বলে দিলেন সুভাষ 
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১৩ই মার্চ— সাংবাদিক সম্মেলনের ঘরে ঢোকার আগে হঠাৎই থমকে গেলেন সুভাষ ভৌমিক। একটু পিছনে তখন খালিদ জামিল। হঠাৎ সুভাষ বললেন, ‘খালিদ তুমি আগে ঘরে ঢোকো।’ খালিদ মাথা নেড়ে বললেন না আপনিই ঢুকুন। শেষটা কি হবে! উত্তরটা সময়ই দেবে। তবে শুরুটা হলো পরস্পরকে সম্মান দিয়েই। সাংবাদিক সম্মেলনের সিংহভাগ জুড়েই ছিলেন সুভাষ ভৌমিক। তিনিই সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন। মাঝে একবার খালিদ জামিল শুধু বললেন, ‘আমি খুশি। ক্লাবের জন্য যেটা ভালো হবে আমি তাতেই খুশি।’ সুভাষ ভৌমিক খালিদকে পাশে বসিয়ে বলে দিলেন, ‘খালিদই কোচ। ওর গুরুত্ব ৮০ শতাংশ। আমি ওর সহকারী হিসাবে কাজ করব।’ এখন দেখার প্রথমদিন যে পারস্পরিক সম্মানপ্রদর্শন দেখা গেল, তা অনুশীলন শুরু হলে আর দেখা যায় কিনা।
মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য কখনই মাঠে নেমে অনুশীলন করাননি ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের। সুভাষ ভৌমিক কিন্তু প্রথম দিনই বলে দিলেন তিনি মাঠে নেমেই অনুশীলন করাবেন। ‘মাঠের বাইরে থেকে কাজ করা যায় না। কাজ করতে হলে মাঠের ভিতরে ঢুকে কাজ করতে হবে’ পরিষ্কার বলে দিলেন আশিয়ান কাপজয়ী কোচ। খালিদ জামিল পরে ফোনে জানালেন, ‘আমি ইস্টবেঙ্গলে থেকে গেলাম তার কারণ একটাই। কারণ সমর্থকরা আমাকে চেয়েছিলেন। কর্তারা যখন আমাকে ছাঁটাই করবেন ভেবেছিলেন, সমর্থকরা প্রতিবাদ করেন। তাই সব কিছু মেনে নিয়ে আমি ইস্টবেঙ্গলে আছি। শুধু সমর্থকদের জন্য। তবে আমার কোচিং পদ্ধতিটা একটু আলাদা। আমি সুভাষদার সঙ্গে কথা বলবো। আমার সমস্যাগুলো ওনাকে বুঝিয়ে বলবো।’
সকাল থেকেই টালবাহানা। খালিদ আদৌ সাংবাদিক সম্মেলনে আসবেন তো? অবশেষে খালিদ এলেন। এলেন সুভাষও। কালকেই ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আর প্রস্তাব পাওয়ার পরই সায় দিয়েছিলেন তিনি। এতোটা খারাপ সময়ে ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্ব নেওয়ার চ্যালেঞ্জ। সুভাষ ভৌমিক বলছেন, ‘জীবনটাই তো চ্যালেঞ্জ। একথা অস্বীকার করা উপায় নেই, এটা আমার জীবনের সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সেই চ্যালেঞ্জ নিতে আমি প্রস্তুত। খালিদ ভালো কোচ। আগেরবার আই লিগ জিতেছে। কিন্তু এবছর ও কত চাপে আছে। খালিদ নিজেকে প্রমাণ করতে চায়।’ সুভাষ ভৌমিক কোনদিন অন্য কোন কোচের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করেননি। খালিদের সঙ্গে কি করতে পারবেন? সুভাষ বলছেন, ‘অনেক কিছুই তো জীবনে করিনি আগে।’
খালিদ জামিল রাতে জানালেন, ‘খুব তাড়াতাড়ি সুভাষদার সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে চাই। দলের ভালোর জন্য পরিকল্পনা করতে হবে। আমার কাল থেকেই জ্বর। ভেবেছিলাম যাব না। কিন্তু না গেলে সবার কাছে খারাপ বার্তা যেতো। তাই ওষুধ খেয়ে, ইনজেকশন নিয়ে বিকালে সভায় যাই।’ অন্যদিকে প্রয়োজনে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যেরও পরামর্শ নেবেন বলে জানালেন ইস্টবেঙ্গলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সুভাষ ভৌমিক।

Featured Posts

Advertisement