তৃণমূলের বাধা পেরিয়ে
দ্রুত এগচ্ছে ডালখোলা
বাইপাসের কাজ

তৃণমূলের বাধা পেরিয়ে<br>দ্রুত এগচ্ছে ডালখোলা<br>বাইপাসের কাজ
+

 বিশ্বনাথ সিংহ: রায়গঞ্জ, ১৩ই মার্চ— শারদোৎসবের পরেই সমস্ত জট কাটিয়ে ডালখোলা বাইপাসের কাজ শুরু হয়েছে। কাজ শুরুর উদ্যোগ নিয়েছিলেন সি পি আই (এম) সাংসদ মহম্মদ সেলিম। গত আগষ্টে জেলায় ভয়ংকর বন্যা হয়। শারদোৎসবের পরেই শুরু হয় ডালখোলা বাইপাসের কাজ। তৃণমূলের সাংসদরা ডালখোলা বাইপাশ নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেননি কেউ। তোলাবাজের দাপটে কাজ ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছিল। এবার সমস্যা মিটতে চলেছে বলে খুশি এলাকাবাসী।
কাজ চালু রাখতে সব সহযোগিতায় অবস্থান নিয়েছেন বামপন্থীরা। ১০ই জুলাই ডালখোলার সমাবেশে এ কথা বলেছিলেন সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরোর সদস্য এবং সাংসদ মহম্মদ সেলিম। বাইপাসের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদার সংস্থাসহ ডালখোলার মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডালখোলা বাইপাসের কাজ শেষ করতে সহযোগিতার জন্য সাংসদ অনুরোধ করেছিলেন ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটিকেও।
উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সম্বল ৩১ও ৩৪নম্বর জাতীয় সড়ক। ব্যস্ত এই সড়কপথে জেলার মানুষ দাবি করেছিলেন ডালখোলাতে বাইপাস করতে হবে। ২০০৬ সালে প্রথম ইউ পি এ সরকারের সময়ে বামফ্রন্ট সরকারের পাঠানো প্রস্তাবে কেন্দ্রের অনুমোদন মেলে। কিন্তু জমি জটে আটকে থাকে বাইপাসের কাজ। রাজ্যের হলেও তৃণমূলের সাংসদদের বাইপাসের জন্য সক্রিয় হতে দেখা যায়নি।
সেলিমের উদ্যোগে ২০১৪ সালে বাইপাসের জট কাটিয়ে ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলো। কিন্তু জট পাকাল ডালখোলার কতিপয় তোলাবাজ। তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত ডালখোলা পৌরসভার কর্তৃপক্ষর বেপরোয়া মনোভাবে ঘুষের দাবি মানতে গিয়ে ৫বার টেন্ডার প্রক্রিয়া ছেড়ে পালিয়ে যায় বিভিন্ন ঠিকাদার সংস্থা। একাধিকবার ঠিকাদার বদল হয়। ক্রমশ পিছিয়ে যাওয়ার ফলে রাস্তা তৈরির সরঞ্জামের দামও বাড়তে থাকে। মহম্মদ সেলিম জাতীয় সড়ক মন্ত্রকে কয়েক দফায় দরবার করে ১০৬কোটি টাকা বরাদ্দ করান। তারপর সাড়ে ৫ কিলোমিটার ওই বাইপাসের কাজের জন্য ঠিকাদার নিযুক্ত হয়েছে। অনেক জল্পনা শেষে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বাইপাশের কাজ শুরু হয়েছে। মহম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, এই কাজ দ্রুত শেষ করে ফেলতে হবে। আমরা জোরদার উদ্যোগ নিয়েছি। সব রকম ভাবে সহায়তা করবে লালঝান্ডা।
জেলা বামফ্রন্ট নেতা অপূর্ব পাল জানান, মানুষের সমস্যা মেটানোর জন্য উদ্যোগী বামফ্রন্ট। ডালখোলা বাইপাস সম্পূর্ণ হলে দেশের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই সমস্যার সমাধান হবে। এই কাজ শুরু করার আগেই তোলাবাজদের দাপট বেড়েছিল। বারে বারে কাজ আটকে দেওয়া হচ্ছিল। যারা এই প্রয়োজনীয় কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে তাদের রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা করে অবশেষে কাজ শুরু হয়েছে। 
বেশ কিছুদিন ধরেই ডালখোলা কলেজ মোড় এলাকার মানুষ পৃথক একটি দাবি তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ৩৪নম্বর জাতীয় সড়কের ফ্লাওয়ার মিলের সামনে থেকে ৩১নম্বর জাতীয় সড়কে পূর্ণিয়া মোড় পর্যন্ত সাড়ে ৫কিলোমিটার পথের মাঝে ডালখোলা কলেজ মোড়ে একটা সংযোগ স্থল করতে হবে। সাংসদ ঠিকাদার সংস্থার সাথে কথা বলে সেই দাবিও মেটান। এলাকাবাসীর বক্তব্য, কাজ শুরু হওয়ার পরেও যদি কাজ বন্ধ হয় তাহলে ডালখোলার মানুষ প্রতিবাদে নামবেন।

Featured Posts

Advertisement