কাটআউটে ভরা ম্যালে
মমতার ‘শিল্প সম্ভাবনা’

কাটআউটে ভরা ম্যালে<br>মমতার ‘শিল্প সম্ভাবনা’
+

নিজস্ব সংবাদদাতা: শিলিগুড়ি, ১৩ই মার্চ— ম্যালকে পর্যটক শূন্য করে শিল্প সম্মেলন শুরু হলো দার্জিলিঙে।
মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার তাগিদে ম্যালের দখল নিয়েছে পুলিশ। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ম্যাল অভিমুখী সমস্ত রাস্তা। এমনকি পর্যটকদেরও যেতে দেওয়া হচ্ছে না ম্যালে। বন্ধ রাখা হয়েছে আশপাশের দোকানপাটও। চত্বরজুড়ে শুধু ঠাঁই পেয়েছে মমতা ব্যানার্জির কাটআউট। 
এতকিছুর পরেও পাহাড়ে শিল্পের পথে কাঁটা কিন্তু সেই অশান্তি। পাহাড়ে বন্‌ধ। সরকারি সম্পত্তিতে আগুন লাগানোর ঘটনার স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল পাহাড়ের স্বাভাবিক জনজীবন। শিল্প সম্মেলনের প্রথম দিনে সেই প্রসঙ্গেই মমতা ব্যানার্জি পাহাড়বাসীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘টানা আন্দোলনে পাহাড় প্রশাসনের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতির যেন আর পুনরাবৃত্তি না নয়।’ পাহাড়বাসীর কাছে শান্তি দাবি করে উন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতিও এদিন ছিল মমতা ব্যানার্জির মুখে। 
শান্তি পাহাড়ে স্থায়ীভাবে থাকবে কি না তারও যেমন নিশ্চয়তা নেই তেমনই পাহাড়ের শিল্প সম্ভাবনার কতটা বাস্তবায়িত হবে তা নিয়েই সন্দিহান পাহাড়ের বাসিন্দারাই।
গত জানুয়ারিতেই কলকাতায় বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট-এর আয়োজন করেছিল রাজ্য সরকার। বহু কোটি টাকা খরচ করে সরকারি শিল্প সম্মেলন করেও রাজ্যে শিল্প আসেনি। ফলে পাহাড়ে কীভাবে শিল্প আসবে, প্রশ্ন তুলেছেন পাহাড়বাসীরাই। 
শিল্প সম্মেলনের প্রথম দিন সুনির্দিষ্টভাবে কোন শিল্পে কত বিনিয়োগ হতে পারে তার কোন স্পষ্ট চিত্র ফুটে ওঠেনি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর ১০০কোটি টাকা বরাদ্দে জি টি এ-এর চেয়ারম্যানের মুখে কিছুটা হলেও স্বস্তির ছাপ। মঙ্গলবার বেশ কিছু মউ স্বাক্ষর হতে পারে বলে জি টি এ সূত্রে জানা গেছে। 
এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পাহাড়ে শান্তি রক্ষা করতে হবে। শান্তি থাকলেই ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। তিনি বলেন, আমরা পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করে চলেছি। পাহাড়ে শিল্প প্রসারের সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ে একসময় লাগাতার আন্দোলনের জেরে হাজার কেটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। জনজীবন থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ে শিল্প প্রসারের লক্ষ্যে জি টি এ ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। চা, পরিবহণ, পর্যটন আর অর্কিডকে সামনে রেখে শিল্প হতে পারে। দার্জিলিঙ, কার্শিয়াঙ ও কালিম্পঙে তথ্য প্রযুক্তি পার্ক হতে পারে। মিরিকেও যথেষ্ট শিল্প সম্ভাবনা রয়েছে। 
এই শিল্প সম্মেলনে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ‘সম্ভাবনা’ শব্দটি। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে কিভাবে বাস্তবায়িত করা যায় সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন প্রস্তাব সম্মেলনে উঠে আসেনি। সম্মেলনে যোগ দিতে আসা শিল্পপতিদের কথায় পাহাড়ে এই ধরনের সম্মেলনে আমরা উৎসাহিত। তাদের কথায়, এখানকার মানুষও উৎসাহিত। যদিও পাহাড়ের মানুষের মধ্যে সেই উৎসাহের ছাপ নজরে পড়ছে না। পাহাড়ের মানুষের কথায় উসকানিমূলক রাজনীতি নয়। প্রকৃত অর্থেই পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। 
শিল্প সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে পাহাড়ের উন্নয়নের অংশীদার হই। তিনি বলেন, জি টি এ-র চেয়ারম্যান বিনয় তামাঙ শিল্প সম্মেলন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এক মাসের মধ্যে তা করতে সক্ষম হয়েছি আমরা। পাহাড়ে যদি শান্তি থাকে তাহলে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ হবেই বলে তিনি বিশ্বাস করেন। পাহাড়কে নতুন করে সাজিয়ে তোলার কথা বলেন তিনি। 
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ে কেউ কেউ নতুন করে অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বলে খবর আছে। এবিষয়ে পাহাড়ে শান্তি রক্ষার জন্য পাহাড়বাসীকে সতর্ক থাকার কথা বলেন। শান্তি থাকলে পাহাড়ে শিল্পের প্রসার নিশ্চিত। আর শিল্প মানেই বড় বড় কারখানা নয়, ছোট ছোট শিল্পও গড়ে উঠতে পারে। সেই সম্ভাবনা পাহাড়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ভোট চাইতে আসিনি। উন্নয়নের জন্যই পাহাড়ে আসি। নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্রেও এতবার যাই না। 
এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ উপস্থিত অন্যান্য মন্ত্রী ও শিল্পপতিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জি টি এ-র চেয়ারম্যান বিনয় তামাঙ। তিনি শিল্পপতিদের পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement