আজও সতর্কতাই
সঙ্গী লাল হলুদের 

আজও সতর্কতাই<br>সঙ্গী লাল হলুদের 
+

নিজস্ব প্রতিনিধি : ভুবনেশ্বর, ১৫ই এপ্রিল — {২৩-(৫+৪+৪)} = ?
হঠাৎ চমকে উঠতেই পারেন! ছোটবেলার অঙ্ক আবার এখন কেন? এ আবার কোন হেঁয়ালি! সুপার কাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালের আগের দিন অঙ্ক কোথা থেকে এল!
কিন্তু রবিবার বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন কলিঙ্গ স্টেডিয়ামের করিডরে দাঁড়িয়ে ঠিক এই অঙ্কটাই শোনালেন গোয়া কোচ ডেরেক পেরেরা। এতক্ষণে নিশ্চই অঙ্কের সমাধান হয়েছে। উত্তর ১০। মাঠে নামানোর মতো ঠিক দশজন সুস্থ খেলোয়াড় রয়েছে ডেরেক পেরেরার দলে। সোমবার ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশ গড়ার মতো পর্যাপ্ত ফুটবলার নেই এফ সি গোয়ার। এখানেই শেষ নয়। দশজনের মধ্যে দুজন গোলরক্ষক। পরিস্থিতি এমনই যে তড়িঘড়ি দুজন গোলরক্ষকের জন্য আউটফিল্ড জার্সি তৈরি করতে হয়েছে। প্রয়োজনে যাতে হাতে থাকা বাড়তি গোলরক্ষকে অন্য পজিশনে খেলিয়ে দেওয়া যায়। 
ফেরা যাক হিসাবে। সুপার কাপের জন্য ২৩ জন ফুটবলারকে রেজিস্ট্রেশন করিয়েছিল এফ সি গোয়া। পাঁচজন নির্বাসিত। তিনজন জামশেদপুর ম্যাচে মারপিট করে লালকার্ড দেখেছিলেন। বাকি দুজন টানা দুটি ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখে লাল হলুদের বিপক্ষে নেই। ডেরেকের হাতে তখনও ১৮ জন ফুটবলার। দুর্বল হলেও দল নামাতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি এখানে শেষ হয়নি। ১৮ জনের মধ্যে ৪ জনের চোট। খেলার কোনও সম্ভাবনা নেই। বাকি ১৪ জন ফুটবলারের মধ্যে চারজন অসুস্থ। রবিবার ডেরেক জানালেন, ‘হোটেল থেকে আসার সময় দেখে এলাম ওরা মেডিক্যাল রুমে।’ দুজন গোলরক্ষক বাদ দিয়ে হাতে মাত্র ৮ জন ফুটবলার। গোয়া টিম ম্যানেজমেন্টের এখন একটাই লক্ষ্য। কোনোভাবে দুজন অসুস্থ ফুটবলারকে জুড়ে দলটাকে মাঠে নামানো। গোয়া কোচ অবশ্য বলছেন, ‘এই ম্যাচে ওদের খেলিয়ে ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে চাই না।’ এই অবস্থায়ও গোয়া লড়াই ছাড়ছে না। পরিস্কার করে দিয়েছেন ডেরেক। ‘এত কিছুর পরও ম্যাচেই ফোকাস করছি। মাঠে গোয়া লড়বে।’ কোচ ডেরেক পেরেরা শুনিয়ে রাখলেন, প্রয়োজনে আটজনকে নিয়েই দল নামাবেন ডেরেক। ভারতীয় ফুটবলে নিশ্চিতভাবেই অভাবনীয় ঘটনা ঘটতে পারে সোমবার।
ম্যানেজার্স মিটিংয়ে গোয়ার ম্যানেজার ঝামেলার ফুটেজ দেখতে চান। গোয়ার দাবি লাল কার্ড দেখা সার্জিও ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। ফেডারেশনের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে উপস্থিত ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের উপর বারবার চাপ সৃষ্টি করেও লাভ হলো না। গোয়ার এই অবস্থা দেখে যেন বাড়তি সতর্ক ইস্টবেঙ্গল শিবির। শেষ চারে উঠেই খালিদ জামিল জানিয়েছিলেন গোয়ার বিরুদ্ধে খেলাটা বেশি কঠিন হবে। খালিদের সেই ভাবনা ও বর্তমান গোয়া দলের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। সোমবারের ম্যাচে ৫-৬ ফুটবলার গোয়ার জার্সিতে এই মরশুমের প্রথমবারের জন্য মাঠে নামবেন। তবু সাবধানী খালিদ। বলছেন, ‘এফ সি গোয়া দারুন দল। ওদের ক’জন নেই সেটা নিয়ে ভাবতে বসলে ভুল হবে। অনেকে সেমিফাইনালের আগেই আমাদের ফাইনালে তুলে দিচ্ছেন। বিষয়টা একদম ঠিক নয়। গোয়া দলের সব খেলোয়াড়ই ভালো। আর ডেরেক পেরেরার কোচিংয়ে আমি খেলেছি। উনি কত ভালো কোচ জানি। এই পরিস্থিতি থেকে দলকে কিভাবে বের করে আনতে হয় ডেরেক সেটা জানেন।’ ইস্টবেঙ্গল কোচ জানিয়েছেন এই ম্যাচে ডুডুর খেলা নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। ডুডু নিজের সেরাটাই দেবে। কাটসুমিও বলছেন ম্যাচটা কঠিন হবে। ‘মরশুমের শেষ পর্বে চলে এসেছে। ফুটবলারও নিজেদের প্রমাণ করার জন্য মরিয়া। গোয়া মোটেও ছেড়ে দেবে না। ওদের কোরোমিনাস এবং এডু যথেষ্ট ভালো ফুটবলার। ওদের দিকে বাড়তি নজর দিতে হবে।’ 
কাটসুমি কিংবা খালিদ যতই ‘কঠিন ম্যাচ’ বলুন। কোনোরকমে দল নামানো গোয়ার বিরুদ্ধে জিততে না পারলে ইস্টবেঙ্গলকে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হবে, তা বলাই বাহুল্য। সুপার কাপ ফাইনালের টিকিট, নাকি ভাঙাচোড়া গোয়ার কাছে পা হড়কানো? উত্তর দেবে সোমবার বিকালের কলিঙ্গ স্টেডিয়াম।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement