কমনওয়েলথে
তৃতীয় ভারত

কমনওয়েলথে<br>তৃতীয় ভারত
+

গোল্ড কোস্ট, ১৫ই এপ্রিল — নবীন-প্রবীণ। অভিজ্ঞ-অনভিজ্ঞ। মিলেমিশে একগুচ্ছ পদক এনে দিলেন ভারতকে। রবিবার শেষ হলো কমনওয়েলথ গেমস। সবমিলিয়ে ১১দিনের এই প্রতিযোগিতায় ভারতীয় দলের প্রতিনিধিরা জিতলো ৬৬টি পদক। এর মধ্যে সোনার সংখ্যা ২৬। পদক তালিকায় ভারতীয় দল তৃতীয় স্থানে। 
শেষদিনে সোনা জিতলেন সাইনা নেহাল। ব্যাডমিন্টনে মহিলাদের সিঙ্গলসে স্বদেশীয় পিভি সিন্ধুকে হারালেন সাইনা। একজনকে জিততেই হতো। জিতলেন সাইনা। চোটের জন্য গেমসের শুরু থেকে নামতে পারেননি সিন্ধু। মিক্সড টিম ইভেন্টে অংশ নেননি। ম্যাচ প্র্যাকটিসের দিক থেকে এগিয়ে ছিলেন সাইনা। ফাইনালে সিন্ধুকে হারালেন ২১-১৮, ২৩-২১ ব্যবধানে। সিন্ধুকে রুপোতেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। ২০১২ অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন সাইনা। কমনওয়েলথ গেমসের সোনা জয়কে অলিম্পিকের পরই রাখছেন এই ভারতীয় শাটলার। বলছেন, ‘সাফল্যের দিক দিয়ে অলিম্পিক পদক এবং বিশ্ব ক্রমতালিকায় শীর্ষস্থানের পরই কমনওয়েলথ গেমসের এই পদককে রাখব। কমনওয়েলথ গেমসের এই সোনা আমার দেশ এবং বাবা-মাকে উপহার। রিও অলিম্পিকে চোটের জন্য হেরে বিদায় নেওয়ার পর এই পদক জয় আমার কাছে অনেকটাই আবেগঘন মূহূর্ত।’ ব্যাডমিন্টনে পুরুষদের সিঙ্গলসেও সোনার প্রত্যাশায় ছিল ভারত। সদ্য বিশ্বক্রমতালিকায় শীর্ষস্থানে উঠেছেন শ্রীকান্ত। ফাইনালে বিশ্ব ক্রমতালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা লি চঙের কাছে হেরে গেলেন শ্রীকান্ত।
কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের অন্যতম সফল বছর। শ্যুটিংয়ে তারুণ্যের প্রতিনিধি মনু ভাকর, মেহুলি ঘোষ এবং অনীশ ভানওয়ালা পদক জিতেছেন। মেহুলি অল্পের জন্য সোনা হারিয়েছেন। বাকি দুজনই নজির গড়ে সোনা জিতেছেন। টেবিল টেনিসে ইতিহাস গড়েছে ভারত। বিশেষত বলতে হয় মণিকা বাত্রার কথা। বড় মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরলেন জ্যাভেলিন থ্রোয়ার নীরজ চোপরা। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড অ্যাথলেটিক্সে নীরজের সৌজন্যে সোনা পেল ভারত। ব্যাডমিন্টনে অনবদ্য সাইনা নেহালরা। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে পদক তালিকায় পঞ্চম স্থানে ছিল ভারত। সেবার সবমিলিয়ে পদক সংখ্যা ছিল ৬৪। ২০১০ সালে ঘরের মাঠে কমনওয়েলথ গেমসে ১০১টি পদক জিতেছিল ভারত। সোনার সংখ্যা ছিল ৩৮। ২০০২ সালে ম্যাঞ্চেস্টার কমনওয়েলথ গেমসে ৬৯টি পদক জিতেছিলো ভারত। এর মধ্যে সোনার সংখ্যা ৩০।
মেরি কম, সীমা পুনিয়া, সুশীল কুমাররা নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছেন গেমসের মঞ্চে। সুশীলন কুমার গত দুটি কমনওয়েলথ গেমসের মতো এবার সোনা জিতেছেন। শ্যুটিং, ভারোত্তোলন, কুস্তি এবং বক্সিংয়ে একগুচ্ছ কিছু পদক আসা প্রত্যাশিত। সঙ্গে যোগ হলো টেবিল টেনিস। ২০১৪ কমনওয়েলথ গেমসে টেবিল টেনিসে মাত্র একটা ব্রোঞ্জ পেয়েছিল ভারত। এবার ভারতীয় দলের সাফল্যে মূল ভূমিকা নিয়েছেন মণিকা বাত্রা। ২২ বছরের এই প্যাডলার খেলায় মন দিতে কলেজ ছেড়েছেন। বিরাট ঝুঁকিকে, বিরাট সাফল্যে পরিণত করেছেন। ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনার পাশাপাশি দলগত ইভেন্টে সোনা, মহিলাদের ডাবলসে রুপো এবং মিক্সড ডাবলসে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন মণিকা। এবার পদক জয়ের দিক থেকে অনেক বৈচিত্র্যও রয়েছে। বক্সিং, কুস্তি, শ্যুটিং, ভারোত্তোলন, স্কোয়াশ, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, জ্যাভেলিন থ্রো। সবচেয়ে বেশি পদক এসেছে শ্যুটিংয়ে। হতাশ করেছে জিমন্যাস্ট, সাঁতার এবং ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের প্রতিযোগীরা। ভারোত্তোলকরাই পদক আনা শুরু করেন। সেই ধারা বজায় রেখেছেন বাকিরাও। ২০২২ বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে থাকবে না শ্যুটিং। ভারতের জন্য নিঃসন্দেহে ক্ষতি।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement