সিরিয়ায় কি ফের আক্রমণ?  বড় হয়ে উঠছে এই প্রশ্নই 

সিরিয়ায় কি ফের আক্রমণ?  বড় হয়ে উঠছে এই প্রশ্নই 
+

ওয়াশিংটন ও দামাস্কাস, ১৪ই এপ্রিল— ২০০৩-এ ইরাকে বোমাবর্ষণ শুরুর কয়েকদিন পরেই ‘লক্ষ্য সফল’ (মিশন অ্যাকমপ্লিশড) শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছিলেন তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি জর্জ বুশ। ঝটিকা আক্রমণেই ইরাককে দখলে নিয়ে এসেছেন বলে দাবি করেছিলেন বুশ। পনের বছর পরেও তা হয়নি। ইরাকে মার্কিন অপছন্দের শাসন বদলেছে বটে, কিন্তু প্রায় দশ লক্ষ মানুষের মৃত্যুও ঘটেছে সংঘর্ষে। ইরাক হয়ে উঠেছিল সন্ত্রাসবাদের জমি। ইসলামিক স্টেটের জন্মও হয়েছে ইরাকেই। বুশের ওই শব্দবন্ধ মার্কিন রাজনৈতিক আলোচনার মহলে ঠাট্টার খোরাক। সেই শব্দবন্ধই ব্যবহার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিরিয়ায় ত্রিদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের পরে তাঁর ব্যবহৃত ওই শব্দবন্ধ নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই উঠেছে সমালোচনা ও রসিকতার ঝড়। সংবাদমাধ্যমে একটি মাত্র ক্ষতির চিহ্নই দেখা গেছে। দামাস্কাসের কাছে একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার ধ্বংস হয়েছে ওই আক্রমণে। কিন্তু সেখানে রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদন হতো তার কোনও প্রমাণই নেই। বরং যেভাবে বিধ্বস্ত বাড়িটির মধ্যে কোনও মুখোশ না পরেই, সুরক্ষা ছাড়াই সিরিয়ার সেনারা এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তা ওই বাড়িতে রাসায়নিক পদার্থ না থাকারই প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, ট্রাম্প নিজের মন্তব্যেই অনড়। ‘এই রকম কথা আমরা যত বলতে পারব ততো ভালো’, রবিবার এমনই বলেছেন তিনি। 
আমেরিকা ও তার মিত্ররা সিরিয়ায় কি আবার সামরিক আক্রমণ চালাবে? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের ত্রিদেশীয় আক্রমণের পরে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে এই প্রশ্নই। আপাতত মার্কিন প্রশাসন এই আক্রমণকে ‘একবারের জন্যই’ বলে চিহ্নিত করলেও পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন সিরিয়া ও তার মিত্রদের প্রতিক্রিয়া দেখে পুনরায় হামলা চালাতে পারে ওয়াশিংটন। ব্রিটিশ বিদেশমন্ত্রী বরিস জনসন রবিবার দাবি করেছেন, এই আক্রমণে সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা কমবে। কিন্তু বিশেষ করে রাশিয়া পালটা প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। 

ফরাসি বিদেশ মন্ত্রী জাঁ ইভেস লা দ্রিয়ানের একটি মন্তব্যও এদিন বিশ্বের পর্যবেক্ষকদের নজর টেনেছে। তিনি বলেছেন সিরিয়ার ইদলিবে পরিস্থিতি খুবই খারাপ। সেখানে আবার একটি মানবিক বিপর্যয় ঘনিয়ে উঠতে পারে। ইদলিবই একমাত্র শহর যেখানে আসাদ-বিরোধী সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির কিছু প্রভাব রয়ে গেছে। পূর্ব ঘৌটা, দৌমা থেকে উগ্রপন্থী এবং তাদের হাতে অবরুদ্ধ মানুষকে নিরাপদে ইদলিবে যেতেও দিয়েছে সিরিয়ার সরকার। ইদলিবে সিরিয়ার সেনাদের তৎপরতা আটকাতে আগেই এই কথা বলে রাখলেন ফরাসি বিদেশমন্ত্রী, এমনই ধারণা পর্যবেক্ষকদের। 
ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের একদিন পরে অবশ্য সংযত প্রতিক্রিয়াই দেখিয়েছে সিরিয়া ও তার মিত্র রাশিয়া। সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি এদিনও রুশ কূটনীতিকদের বলেছেন, এই আক্রমণ আগ্রাসন। এর ফলে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রত্যয় আরও বেড়েছে। আসাদ রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁর দপ্তরে স্বাভাবিকভাবেই গেছেন এবং কাজ করছেন বলে টেলিভিশনে দেখানোও হয়েছে। দামাস্কাসে এদিনও মানুষ রাস্তায় নেমে আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 
রুশ রাষ্ট্রপতি পুতিন বলেছেন, পশ্চিমী দেশগুলি এর পরে যদি আবারও আক্রমণ করে তাহলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নৈরাজ্য দেখা দেবে। 
এথেন্সে গ্রিসের কমিউনিস্ট পার্টির ডাকে হাজার হাজার মানুষ সিরিয়ায় পশ্চিমী আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে তাঁরা মিছিল করে যান। যেতে যেতেই রাস্তায় তাঁরা লিখতে থাকেন, ‘গণহত্যাকারী আমেরিকা’। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement