হাইকোর্টে আজ
ভোটের ভবিষ্যৎ

হাইকোর্টে আজ<br>ভোটের ভবিষ্যৎ
+

কলকাতা, ১৫ই এপ্রিল— সোমবার কলকাতা হাইকোর্টেই স্থির হবে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভবিষ্যৎ। একটা নয়, একাধিক এজলাসে একাধিক মামলায় যেভাবে পঞ্চায়েত নির্বাচন জটিল ফাঁসে আটকে আছে তাতে অস্বাভাবিক কিছু না হলে আগামী ১লা মে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হওয়া সম্ভব বলে কেউই মনে করছেন না। আইনজীবীরা একথাও মনে করছেন, পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে নির্বাচনী সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করতে হতে পারে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য সরকারের পক্ষে সবচেয়ে খারাপ হতে পারে যদি নির্বাচন কমিশনের ওপরে আস্থা না রেখে আদালত নির্বাচনী প্রক্রিয়া নির্ধারণ এবং তদারকির দায়িত্ব তুলে নেয়।
সোমবার আদালতে এই আইনি লড়াই যে পরিণতির দিকেই এগোক, নির্বাচনে ঘোর অনিশ্চয়তার জন্য রাজ্য সরকার এবং তৃণমূল কংগ্রেসকেই দায়ী করছেন অনেকে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিরপেক্ষভাবে ও আইন মোতাবেক কাজ করতে না দিয়ে শাসকদল ও মন্ত্রীরা যেভাবে চাপ সৃষ্টি করেছে তার ফলেই অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাধীনভাবে কাজ করার বদলে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার অমরেন্দ্রকুমার সিং কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসকে অনুসরণ করছেন। তার প্রমাণ বারে বারে দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার ৯ই এপ্রিল রাতে নির্দেশিকা জারি করে মনোনয়নপত্র জমার সময়সীমা বাড়ানোর কথা বলেছিলেন। পরের দিন সকালে তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জির আইনি যুক্তির কথা উল্লেখ করে সেটাকেই কারণ হিসাবে দেখিয়ে নির্বাচন কমিশনার সময়সীমা বাড়ানোর নির্দেশিকা বাতিল করে দেন। এরপর কলকাতা হাইকোর্ট ১০ই এপ্রিল এই বাতিলের নির্দেশিকার ওপরে স্থগিতাদেশ জারি করে। সুপ্রিম কোর্ট হয়ে মামলা ফের কলকাতা হাইকোর্টে ফিরে এলে আদালত পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপরেই স্থগিতাদেশ জারি করেছে ১৬ই এপ্রিল অর্থাৎ সোমবার পর্যন্ত। কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে ডিভিসন বেঞ্চে গেছে কারা? এক্ষেত্রেও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আগে আগে ছুটছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দারের ডিভিসন বেঞ্চে আপিল মামলা দায়ের করেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি। তাঁকে অনুসরণ করে মামলায় যুক্ত হয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। 
পাঁচ বছর আগে জুন মাসে এই পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়েই রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা পান্ডের বিরোধিতায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মামলা নিয়ে গিয়েছিল রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনে নির্বাচন কমিশনারের ইচ্ছার বিরোধিতায় রাজ্য সরকারের পক্ষে তৃণমূলের আইনজীবী এই কল্যাণ ব্যানার্জি তখন সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলার যুক্তি দেখিয়েছিলেন। সেদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘কলকাতায় কী ঘটছে তা আমরা জানি।’ পরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেই রায় দিয়ে নির্বাচন কমিশনের চাহিদামতো কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। 
সেই কল্যাণ ব্যানার্জিকে অনুসরণ করতে গিয়েই কি রাজ্য নির্বাচন কমিশনার অমরেন্দ্রকুমার সিং-কে শেষ পর্যন্ত আবার ডুবতে হবে? কমিশন সূত্রে অবশ্য জানা গেছে, অনুসরণ করা ছাড়া নির্বাচন কমিশনের কিছুই করার নেই। যেভাবে কমিশনারের বাড়িতে গিয়ে মন্ত্রীরা মুখ্যমন্ত্রীর নাম করে তাঁর ওপরে চাপ সৃষ্টি করেছেন তাতে কমিশনার অমরেন্দ্রকুমার সিংকে হয় সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায়ের মতো পদত্যাগ করে চলে যেতে হয়, অথবা পুরো বিষয়টি কমিশনের চৌহদ্দি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে আদালতের ঘাড়ে ছেড়ে দিতে হয়। দ্বিতীয়টিই আপাতত ঘটছে। সোমবারে কলকাতা হাইকোর্টের লড়াই তাই যতটা না রাজ্য নির্বাচন কমিশনের, তার থেকে অনেক বেশি রাজ্য সরকার তথা শাসকদলের। 
সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে একই দিনে বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের সিঙ্গল বেঞ্চে মূল মামলায় এবং বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার এবং বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের ডিভিসন বেঞ্চে আপিল মামলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনের মামলার শুনানি হওয়ার কথা। সি পি আই (এম)সহ কয়েকটি বামপন্থী দল মূল মামলায় যুক্ত হয়েছে। রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘোষণার পর হিংসার বাতাবরণ দেখে সরকারি কর্মচারীদের একটি সংগ‌ঠন প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা চেয়ে আরেকটি জনস্বার্থের মামলা দায়ের করেছেন। কর্মচারীরা তাঁদের আবেদনে বলেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা ছাড়া ভোটগ্রহণের কাজে তাঁরা অংশ নেবেন না। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস ১লা মে যাতে ভোটগ্রহণ না করা হয় তার আবেদন নিয়ে সি আই টি ইউ সহ ১১টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের একটি মামলারও শুনানি হবে কলকাতা হাইকোর্টে। সব মিলিয়ে মামলায় মামলায় ডুবে আছে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভবিষ্যৎ। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement