প্রধানমন্ত্রী, আপনিই দায়ী 

ক্রোধের খোলা চিঠি ৫০ প্রাক্তন অফিসারের

প্রধানমন্ত্রী, আপনিই দায়ী 
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: নয়াদিল্লি, ১৪ই এপ্রিল- ‘প্রধানমন্ত্রী, আপনিই সবচেয়ে বেশি দায়ী’। 
কড়া ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে কাঠুয়া থেকে উন্নাওয়ে বর্বরতা এবং তাকে বৈধতা দেবার প্রক্রিয়ায় ক্রোধের বিস্ফোরণ ঘটালেন ৫০জন অবসরপ্রাপ্ত আই এস অফিসার। তাঁরা সকলেই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ অফিসার হিসাবেই একদা কাজ করেছেন। কাঠুয়া, উন্নাওয়ের ঘটনার প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভের সঙ্গেই সুর মিলিয়ে এই অবসরপ্রাপ্ত অফিসাররা লিখেছেন, কেবল আমাদের সভ্যতার মূল্যবোধ ধ্বংস হচ্ছে দেখে পরিতাপই নয়, এই চিঠি লিখছি রাগে। আপনার দল এবং তার অগণন শাখা-প্রশাখা যেভাবে রাজনৈতিক ব্যাকরণে, সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবনে, এমনকি আমাদের দৈনন্দিন চিন্তাপ্রবাহে বিভাজন এবং ঘৃণার আবহ ছড়িয়ে দিয়েছেন তা-ই কাঠুয়া থেকে উন্নাওয়ের ঘটনাকে বৈধতা দিচ্ছে। কাঠুয়ায় সঙ্ঘ পরিবারের নির্লজ্জ সংখ্যাগুরুবাদী ঔদ্ধত্য সাম্প্রদায়িক বিকৃতমনাদের সাহস যুগিয়েছে। উন্নাওয়ে সরকার আক্রমণকারীর পক্ষ নিয়ে ধর্ষিতা ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে নৃশংসতা দেখিয়েছে। দুই রাজ্যেই আপনার দল সরকারে। আপনি ও আপনার দলের সভাপতি সর্বৈব ক্ষমতার অধিকারী, আপনিই কেন্দ্রীয় ভাবে দল নিয়ন্ত্রণ করেন। এই অবস্থায় এই ভয়াবহ পরিস্থিতির দায় সবচেয়ে বেশি আপনারই। সেই দায় স্বীকারের বদলে আপনি শনিবার পর্যন্ত চুপ ছিলেন, মুখ খুলেছেন তখন যখন দেশজুড়ে ধিক্কারের ঝড় বইছে। সাম্প্রদায়িক বিকৃতি নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি। সঙ্ঘ পরিবার সাম্প্রদায়িক আগুনের জ্বালানি যুগিয়েই যাবে আর আপনি মাঝে মাঝে বিলম্বিত দুঃখপ্রকাশ করতে থাকবে— এ আর কতদিন চলবে? 
এই অবসরপ্রাপ্ত অফিসাররা লিখেছেন, এই দুই ঘটনা সাধারণ অপরাধ নয়। এমন নয় যে খুব তাড়াতাড়ি সব ঠিক হয়ে যাবে, আমরা স্বাভাবিক জীবনের ছন্দে ফিরে যাব। এ হলো অস্তিত্বের সঙ্কটের মুহূর্ত, এক মোড়-ঘোরানো সময়। সরকার কী পদক্ষেপ নেয় তার ওপরে নির্ভর করছে সংবইদানের মূল্যবোধ, নৈতিক কাঠামো রক্ষা করতে আমরা সক্ষম কিনা। 
অফিসাররা দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী কাঠুয়া এবং উন্নাওয়ের আক্রান্তের কাছে পৌঁছে দেশবাসীর হয়ে তাঁদের কাছে ক্ষমা চান। কাঠুয়ায় তদন্ত ও বিচার দ্রুত করার ব্যবস্থা করুন। উন্নাওয়ে আদালত-নির্দেশিত তদন্তের ব্যবস্থা করুন। ঘৃণা ছড়ানোর সঙ্গে যুক্ত সমস্ত ব্যক্তিদের সরকার থেকে অপসারণ করুন। সর্বদলীয় বৈঠক ঢেকে ঘৃণার অপরাধ মোকবিলার পদক্ষেপ নিন। 
এই চিঠির স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ, কয়লা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, তথ্য সম্প্রচার-সহ বিভিন্ন দপ্তরের ভপ্রাক্তন সচিব; বিভিন্ন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব সহ উচ্চপদস্থ অফিসাররা। সই করেছেন সুনীল মিত্র, জহর সরকার, অভিজিৎ সেনগুপ্ত, মানবেন্দ্রনাথ রায়, অর্ধেন্দু সেনের মতো অফিসাররাও। 
এদিকে, লন্ডনের খবর: ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধর্ষণের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে দাবি জানালেন ব্রিটেনে বসবাসকারী ভারতীয় ছাত্ররা। আগামী মঙ্গলবার চারদিনের ব্রিটেন সফরে লন্ডনে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এর আগেই লন্ডনের ভারতীয় দূতাবাসে প্রধানমন্ত্রী মোদীর উদ্দেশে  ব্রিটেনের ভারতীয় ছাত্ররা একটি চিঠি জমা করেছেন। এই চিঠিতে ভারতের রাজ্য রাজ্যে ধর্ষণের ঘটনার কথা উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে এমন অপরাধের ক্ষেত্রে মোদী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও ব্রিটেনে বসবাসকারী ভারতীয় ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
শনিবার এই চিঠি দিয়েছে দি ন্যাশনাল ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টস অ্যান্ড অ্যালামনি ইউনিয়ন (এন আই এস এ ইউ), ইউ কে। চিঠিতে সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া, উত্তর প্রদেশের উন্নাও এবং গুজরাটের সুরাটে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী মোদীকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে মোদীকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিশেষ সময়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন হয়। ভারতের কন্যাদের কথা ভেবে প্রধানমন্ত্রী এব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন বলেই চিঠিতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। ভারতের বর্তমান সরকার শিশু, মহিলা এবং নাগরিকদের কল্যাণ ও মর্যাদার বিষয়ে যত্নশীল, এমন প্রমাণ চেয়েছেন ছাত্ররা। 
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়ায় আট বছরের বালিকা, উত্তর প্রদেশের উন্নাওয়ে সতেরো বছর বয়সি কিশোরীকে ধর্ষণের কথা। কাঠুয়ায় বালিকাকে পরপর ধর্ষণের পরে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। অন্যদিকে উন্নাওয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বাড়ির কাছে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ধর্ষিতা নাবালিকা। তুলে ধরা হয়েছে গুজরাটের সুরাটে ১১বছরের বালিকাকে পরপর ধর্ষণ শেষে খুনের বর্বরোচিত ঘটনাও।
ভারতের রাজ্যে রাজ্যে এমন ভয়াবহ ধর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন অনাবাসী ভারতীয় ছাত্ররা। বুধবার লন্ডনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ‘ভারত কি বাত, সবকে সাথ’ অনুষ্ঠানে এই নিয়ে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ ঘোষণা করবেন এমনই আশা প্রকাশ করা হয়েছে চিঠিতে। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর লন্ডনের অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এন আই এস এ ইউ-র পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড ইন্ডিয়ান সোসাইটি, লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স ইন্ডিয়ান সোস্যাইটি, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন ইন্ডিয়ান সোস্যাইটি, ইম্পিরিয়াল কলেজ লন্ডন ইন্ডিয়ান সোসাইটি এবং ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহাম ভারত পরিবার-সহ ব্রিটেনে বসবাসকারী ভারতীয়দের ১৯টি সমিতি চিঠিতে সই করেছে। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement