বড় হারে গৌতম
আরও গম্ভীর

বড় হারে গৌতম<br>আরও গম্ভীর
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১৬ই এপ্রিল —  পদবির মতো গৌতম বরাবরই গম্ভীর। সাফল্য, ব্যর্থতা, উচ্ছ্বাস, হতাশা সবক্ষেত্রেই তাঁর একই অভিব্যক্তি। চার ম্যাচে তৃতীয় হারে দিল্লি অধিনায়ক গৌতম আরও গম্ভীর। ইডেনে দিল্লিকে ৭১ রানে হারালো কলকাতা। ২০১২-র পর এই প্রথম ইডেনে হারল দিল্লি।
টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন দিল্লি অধিনায়ক। দুদলেই একটি করে পরিবর্তন। দিল্লিতে ড্যান ক্রিশ্চিয়ানের বদলে ক্রিস মরিস। কলকাতায় মিচেল জনসনের জায়গায় টম কুরান। 
কলকাতা নাইট রাইডার্সের ইনিংসের প্রথম ওভার মেডেন। প্রতিপক্ষ বোলার ট্রেন্ট বোল্ট। 
ইনিংসের শেষ ওভার। বোলার রাহুল তেওয়াতিয়া। ১ রান, তিন উইকেট।
শুরু দেখে সবসময় শেষ বোঝা যায় না। তেমনি শুরু এবং শেষও পুরো ইনিংসের চিত্র বোঝায় না। প্রথম এবং শেষ ওভারে সবমিলিয়ে মাত্র ১ রান উঠলেও নির্ধারিত ২০ ওভারে কলকাতার স্কোর ২০০/৯। মাঝের ওভারে কলকাতাকে ভরসা দিল উত্থাপ্পার মসৃণ ইনিংস, নীতিশ রানার ছুট, রাসেলের তাণ্ডব। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে কলকাতা। টি-২০ তে বিনোদনই আসল। শুরুর খেলা গ্যালারির আকর্ষণ বাড়াতে পারেনি। এদিন ফের ওপেনিংয়ে সুনীল নারিন। আউট হলেন মাত্র ১ রানে। উলটোদিকে ক্রিস লিনও শুরুতে শান্ত। উত্থাপ্পা ক্রিজে আসতেই গিয়ার বদল। বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও বাকিদের সাহসী করে গেলেন উত্থাপ্পা। আগের ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতাতেই ডুবেছে কলকাতা। উত্থাপ্পার মাত্র ১৯ বলে ৩৫ রানের ইনিংস কার্যকরী ভূমিকা নিল। দিল্লি অধিনায়ককে সবচেয়ে বেশি চাপে রাখলেন আন্দ্রে রাসেল। ক্রিজে এসেই পরিচিত টি-২০ সুলভ মারকাটারি ব্যাটিং। হাফডজন ওভার বাউন্ডারি। যার মধ্যে রয়েছে ১০২ মিটার দূরত্ব পার করা একটি বিরাট ছয়ও। রাসেলের মাত্র ১২ বলে ৪১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস শেষ হলো বোল্টের বলে। কলকাতা ইনিংসে সঞ্চালকের ভূমিকায় নীতিশ রানা। ৩৫ বলে ৫৯ রানের উপযোগী ইনিংস খেললেন তিনি। দিল্লির হয়ে সফল দুই বোলার ট্রেন্ট বোল্ট ও রাহুল তেওয়াতিয়া। 
বোর্ডে রান থাকলে বোলাররা আত্মবিশ্বাসী হয়। বাড়তি উদ্দীপনা থাকে। ইনিংস বিরতিতে জানালেন আন্দ্রে রাসেল। গত ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা যথেষ্ট পুঁজি দিতে পারেননি বোলারদের। এদিন বোর্ডে ২০০রান। কলকাতা নাইট রাইডার্স বোলাররা যেন বাড়তি আত্মবিশ্বাস পেলেন। দিল্লির আগের ম্যাচে মুম্বাইয়ের বিরুদ্ধে অনবদ্য ইনিংসে দলকে জিতিয়েছিলেন জেসন রয়। এদিন প্রথম ওভারেই ফিরলেন মাত্র ১ রান করে। বোলিং ওপেন করতে আসা পীযূষ চাওলার ডেলিভারি কেমন হতে পারে, জেসনকে উলটোদিক থেকে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন গৌতম গম্ভীর। নাইটদের প্রাক্তন অধিনায়ক। গম্ভীরের পরামর্শ কাজে লাগাতে ব্যর্থ জেসন। তৃতীয় ওভারে শিবম মাভির শেষ বলে প্লেড অন দিল্লি অধিনায়ক গৌতম গম্ভীরও। ওভারের শেষ বলে। কার্যত সেখানেই ম্যাচ থেকে হারিয়ে যায় দিল্লি। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (২২ বলে ৪৭) ও ঋষভ পন্থরা (২৬ বলে ৪৩) চেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। কলকাতার হয়ে কুলদীপ যাদব ও সুনীল নারিন তিনটি করে উইকেট নিলেন। আই পি এলে প্রথম বিদেশি স্পিনার হিসাবে একশো উইকেটের মাইলফলক নারিনের। ১৪.২ ওভারে দিল্লির ইনিংস শেষ ১২৯ রানেই। 
শুধু প্রবাদেই নয়, রান তাড়াতেও দিল্লি অনেক দূরেই থাকল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নাইটরাইডার্স ২০০/৯ (২০ ওভার) রানা ৫৯, রাসেল ৪১, রাহুল ৩/১৮।
দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ১২৯/১০ (১৪.২ ওভার) ম্যাক্সওয়েল ৪৭, ঋষভ পন্থ ৪৩, নারিন ৩/১৮।

Featured Posts

Advertisement