‘সেই’ডুডুর গোলে
ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল

‘সেই’ডুডুর গোলে<br>ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল
+

ভুবনেশ্বর, ১৬ই এপ্রিল— একই মাঠ। একই খেলোয়াড়। একই গ্যালারি। একই স্ট্যান্ড। মাঝখানে শুধু আটদিন।
গত ৮ই এপ্রিল জার্সি ছেঁড়ার চেষ্টা করে গ্যালারির যে অংশ থেকে কটু কথা শুনেছিলেন ডুডু। সোমবার গ্যালারির ঠিক সেই অংশটাই ফেটে পড়ল ‘ডুডু’ ‘ডুডু’ চিৎকারে। এটাই হয়তো ফুটবলারের জীবন। গত ম্যাচের খলনায়ক এবং শেষ কয়েকদিন বিতর্কের কেন্দ্রে থেকে ডুডুর গোলে এফসি গোয়াকে ১-০ গোলে হারালো ইস্টবেঙ্গল। আর এই জয়ই সুপার কাপ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল ইস্টবেঙ্গলের।
ভাঙাচোরা দল এফসি গোয়া। এগারোজন নামাতে পারবে কিনা তা নিয়ে হাজারো সন্দেহ ছিল। শেষে কোনোরকমে প্রথম একাদশ খাড়া করা। তাদের মধ্যে অনেকের প্রথমবার মাঠে নামা। রিজার্ভে মাত্র তিনজন ফুটবলার। মনে করা হয়েছিল গোয়ার বিরুদ্ধে দুরন্ত ফুটবল খেলবে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু যা ভাবা হয়, তা হয় না। হলোও না। গোয়া যদি ভাঙাচোরা হয়। তবে ম্যাচের প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময়ও ইস্টবেঙ্গলের হতশ্রী ফুটবল। তবে তার মধ্যেও অজস্র সুযোগ এবং সেই সুযোগ নষ্ট। ১৯ মিনিটে মিসের শুরু। কাটসুমির পাস থেকে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন আল আমনা। মিনিট দুয়েক পরেই একা কাট্টিমানিকে পেয়েও গায়ে মারেন ডুডু। ৩৫ মিনিটে আবার সহজ সুযোগ নষ্ট কাটসুমির। এবারও রুখে দেন সেই কাট্টিমানি। ম্যাচের বেশ কিছু সময় খেলা হলো ইস্টবেঙ্গল আক্রমণভাগ বনাম কাট্টিমানি। ম্যাচের সেরাও এফসি গোয়ার এই গোলরক্ষক। এতো সুযোগ নষ্টের ফল হাতেনাতে পাচ্ছিল ইস্টবেঙ্গল। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে যাচ্ছিল ইস্টবেঙ্গল।
গত ম্যাচে পেনাল্টির ঠিক আগে একটি দুরন্ত গোল বাঁচিয়েছিলেন উবেদ। একই ছবি সোমবারও। ৫৯ মিনিটে রানাওয়াডের শট দুরন্ত দক্ষতায় বাঁচান উবেদ। এর কিছুক্ষণ পর আবার কাটসুমি। আবার সহজ সুযোগ। আবার রুখে দেন সেই কাট্টিমানি। তখন সবাই ধরে নিয়েছিল কাট্টিমানের হাতেই যেন ‘কনফার্ম’ টিকিটও ‘ক্যানস্যাল’ এর পথে। ৭৩ মিনিটে কোরোমিনাসের বাঁক খাওয়ানো ফ্রিকিক সাইড পোস্টে না লাগলে সেই আশঙ্কাই সত্যি হতো। তার মিনিট ছয়েক পরেই কাঙ্ক্ষিত গোল ইস্টবেঙ্গলের। গোল করলেন ডুডু। সেই ‘বিতর্কিত ডুডু’। তারপরই গ্যালারির সেই ‘ডুডু’ চিৎকার। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে উঠেও গেলেন। ৮২ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের জয়ে শিলমোহর পড়ল। লাল কার্ড দেখে এডু বেদিয়া মাঠ ছাড়লে দশজনেই খেলে গোয়া।
দল ফাইনালে। সাধারণভাবে ইস্টবেঙ্গল শিবিরে খুশির মেজাজ থাকা উচিত। ছবিটা একদম উলটো। ম্যাচে জিতলেও ইস্টবেঙ্গল শিবির অগ্নিগর্ভই। ইস্যু সেই একই। খালিদ জামিল বনাম সুভাষ ভৌমিক। সূত্রের খবর ম্যাচের দিন সকাল থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। হোটেলে টিম মিটিংয়েও সুভাষ ভৌমিক মেজাজ হারান বলে খবর। ম্যাচ চলাকালীনও নাকি রিজার্ভ বেঞ্চে কথা কাটাকাটি হয় কোচ এবং টিডির। ম্যাচের শেষে সুভাষ ভৌমিক বিষ্ফোরক, ‘আই লিগে কোনও পরিকল্পনাই ছিল না। এখন আছে।’ সঙ্গে লালহলুদ টিডির আরও সংযোজন। ‘আই লিগে তো দল দ্বিতীয় হয়েছিল। এখানে তবু ফাইনালে উঠেছে। মন্দ কি! চ্যাম্পিয়ন বা রানার্স কিছু তো হবেই।’ সেমিফাইনাল জয়ের পর সুভাষের এই মন্তব্য নিয়ে আবার নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে ইস্টবেঙ্গলে। কর্তারা দুজনের দূরত্ব মেটানোর চেষ্টা করলেও দূরত্ব যে মোটেও মেটেনি তা পরিষ্কার। ঠান্ডা লড়াইও চলছিল। কিন্তু তা প্রকাশ্যেই চলে এল সোমবার। খালিদ জামিল সুভাষ ভৌমিকের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু বলতে চাননি। শুধু বললেন, ‘সুভাষদা যদি বলে থাকেন তাহলে ঠিকই বলেছেন।’ জয় নিয়ে খালিদ বলছেন, ‘ফাইনালে যাওয়টা লক্ষ্য ছিল। ভালো লাগছে লক্ষ্যপূরণ হওয়ায়। ডুডু ভীষণ অভিজ্ঞ ফুটবলার। আশা করি চোট থাকলেও ও ফাইনালে খেলতে পারবে।’
ইস্টবেঙ্গল: উবেদ, সামাদ, গুরবিন্দর, এডুয়ার্ডো, চুলোভা, কাটসুমি, খালিদ, লোবো, আমনা (জাস্টিন), রালতে (গ্যাব্রিয়েল), ডুডু (ক্রোমা)।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement