‘আমি জানতাম
আজ গোল করবোই’

‘আমি জানতাম<br>আজ গোল করবোই’
+

নিজস্ব প্রতিনিধি, ভুবনেশ্বর, ১৬ই এপ্রিল — হোটেল জিনজারের ১২০ নম্বর রুম। খাটের উপর শুয়ে ডুডু ওমাগবেমি। ডানপায়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা। তার মধ্যে বরফ বেঁধে গেলেন ইস্টবেঙ্গলের ফিজিও শৌনক চক্রবর্তী। বলে গেলেন কুড়ি মিনিট একদম পা না নাড়াতে। স্টপ ওয়াচটা চালু করেই একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। শুয়ে শুয়েই বললেন, ‘যতই গালগালি খাই না কেন, আমি কিন্তু আমার কাজ করছি। আই লিগেও গোল করেছি। সুপার কাপেও করছি। জানি না ফাইনালে খেলতে পারবো কিনা! অবশ্য খেলেই বা কি হবে? কার কি এসে যায় ডুডু না খেললে! সমর্থকরা আবার চায় নাকি যে আমি খেলি।’
গত কয়েকদিন ধরেই তাঁকে নিয়ে বিতর্ক। বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হয়েছিল আইজল ম্যাচে। এমনই অভিযোগ ছিল এই ইস্টবেঙ্গল স্ট্রাইকারের। বলেছিলেন খেলবেন না। খেললেন সেমি ফাইনালে। গোল করে দলকেও জেতালেন। কিন্তু উৎসব করলেন না। কেন? ‘কি হবে উৎসব করে। কাদের জন্য উৎসব করবো। সমর্থকদের জন্য? যাঁরা আমাকে গালিগালাজ করে তাঁদের জন্য?’ বিস্ফোরক ডুডু। স্নান সেরে ততক্ষণে বেরিয়ে এসেছেন রুমমেট ক্রোমা। ক্রোমাকে দেখিয়ে ডুডু বললেন, ‘কয়েকজন ফুটবলার আমার পাশে ছিল। তার মধ্যে ক্রোমা একজন। পাশে ছিলেন আউচো, এডুয়ার্ডোরাও। আর পাশে ছিল আমার পরিবার। কোচ আমাকে সবসময় তাতিয়ে গেছেন। বলেছেন, ডুডু গোল পাবেই’। একটু থেমে ডুডুর সংযোজন ‘আমি জানতাম আমি আজ গোল পাবোই।’
সমর্থকদের উপর ভীষণ ক্ষুব্ধ এই নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার জানালেন, ‘জানেন তো এই জন্য কেউ কলকাতায় খেলতে আসতে চায় না। আমি কি খুব বাজে খেলোয়াড়? সবাই তো তাই ভাবে। যেভাবে আমাকে রোজ গালাগালি দেওয়া হচ্ছে। আর ভালো লাগছে না। জানি না ফাইনালে খেলতে পারবো কিনা। চেষ্টা করবো অবশ্যই। তবে এটা বলতে পারি। আমি ফাইনালে খেললে দল জিতবেই। আর না খেললে হয়তো হেরে যেতে পারে।’ আর কখনও খেলতে আসবেন কিনা স্পষ্ট করলেন না। এবছর নিয়ে বললেন, ‘আমি কি বলেছিলাম আমাকে নিয়ে আসুন, আমি ইস্টবেঙ্গলে খেলবো। ওরাই আমাকে নিয়ে আসে। আমাকে কেন রাখল? তাড়িয়ে দিতে তো পারতো। তবে আজ আমি এটা প্রমাণ করে দিলাম আমাকে যে যাই বলুক যতদিন খেলি আমি নিজের সেরাটাই দি।

Featured Posts

Advertisement