কাঠুয়ার নাবালিকার পরিজনদের
চূড়ান্ত নিরাপত্তা দেওয়ার
নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

কাঠুয়ার নাবালিকার পরিজনদের<br> চূড়ান্ত নিরাপত্তা দেওয়ার<br> নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
+

নয়াদিল্লি, ১৬ই এপ্রিল— যে কোনও মুহূর্তেই উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হিংসার বলি হতে পারেন কাঠুয়ার নাবালিকার পরিবারের লোকজন, পারিবারিক বন্ধু কিংবা আইনজীবী। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই স্পষ্ট হয়েছে তাঁদের জীবনও ঝুঁকির মুখে। শীর্ষ আদালত সোমবার জম্মু-কাশ্মীর সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, কাঠুয়ার বাসিন্দা আইনজীবী দীপিকা সিং রাজাওয়াত, পারিবারিক বন্ধু তালিদ হুসেন এবং নিহত মেয়েটির পরিবারের প্রত্যেকের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। ‌একইসঙ্গে শীর্ষ আদালত বলে দিয়েছে, যে পুলিশ কর্মীরা এই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন, তাঁরা যেন সাদা পোশাকে থাকেন। 
নিহত নাবালিকার পরিবারের আইনজীবী সোমবার সকালেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ‘যে কোনও সময়ে আমায় ধর্ষণ করা হতে পারে। খুনও হয়ে যেতে পারি। সোশ‌্যাল মিডিয়ায় আমাকে হিন্দুবিরোধী বলা হচ্ছে। জানি না, আমি কীভাবে বাঁচবো!’ কিন্তু তা সত্ত্বেও আট বছরের শিশুর জন্য সুবিচারের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাবেন বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টে এদিন সকালেই একটি পিটিশন দাখিল করে রাজাওয়াত জানান, নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষে লড়ার জন্য তাঁকে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া চলছেই। 
জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের চার্জশিটে অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করা হলেও সি বি আই তদন্তের দাবিতে গত কয়েকদিনে উত্তাল হয়ে ওঠে কাঠুয়া। কিন্তু নির্যাতিতার বাবা শুনানি চলাকালীন এদিন আদালতে জানিয়েছেন, তিনি রাজ্য পুলিশের তদন্তে খুশি। চার্জশিটও জমা পড়ে গিয়েছে। এরপরও সি বি আই তদন্তের যে দাবি করা হচ্ছে, তিনি তাঁর বিরোধী। একইসঙ্গে নির্যাতিতার বাবার আরজি, জম্মুর সাম্প্রদায়িক পরিবেশ থেকে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চণ্ডীগড়ে সরিয়ে নেওয়া হোক। সুপ্রিম কোর্টের মুখ্য বিচারপতি দীপক মিশ্র ও বিচারপতি এ এম খানউইলকর এবং ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, ‘এই পর্যায়ে সি বি আই তদন্তের কোনও অভিপ্রায় আমাদের নেই।’ চণ্ডীগড়ে মামলাটি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে আবেদন করেছেন নির্যাতিতার বাবা, আগামী ২৭শে এপ্রিলের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে তার জবাব চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ওইদিনই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। নির্যাতিতার বাবার পক্ষে সওয়াল করে আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছেন, সুষ্ঠুভাবে বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য জম্মুর পরিবেশ একেবারেই সহায়ক নয়। চূড়ান্ত ধর্মীয় মেরুকরণের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শীর্ষ আদালত এক্ষেত্রে স্পষ্ট জানিয়েছে, যাতে স্বচ্ছভাবে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং নিরাপত্তা পায় নাবালিকার পরিবার, তা নিয়েই তাঁরা চিন্তিত। বি জে পি-র নাম না করলেও শীর্ষ আদালতের এদিনের নির্দেশে বেশ কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে গেরুয়া বাহিনী। কোনও বি জে পি নেতাই এদিন মুখ খোলার সাহস পায়নি।
এদিকে, কাঠুয়ার জেলা ও দায়রা আদালতে সোমবার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযুক্তরা দৃঢ় কণ্ঠে দাবি করেছে, তারা নির্দোষ। উগ্র হিন্দুত্ববাদী তথা আর এস এস-বি জে পি’র ছাতা মাথার উপর থাকায় ধৃতরা জোর গলায় বলতে পেরেছে, তাদের নার্কো পরীক্ষা হোক। রাজ্য পুলিশের অপরাধ দমন শাখাকে চার্জশিটের একটি করে কপি অভিযুক্তদের দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারপতি সঞ্জয় গুপ্তা। আগামী ২৮শে এপ্রিল ফের এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছেন তিনি। এদিন সাতজন অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হয়। অভিযুক্ত নাবালক ইতিমধ্যেই জামিনের আবেদন করেছে। তার সেই আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে মঙ্গলবার। 
সুপ্রিম কোর্টের ধমক খেয়ে জম্মুর আইনজীবীরা ১২দিন পর সোমবার থেকে ফের কাজে যোগ দিয়েছেন। নাবালিকাকে অপহরণ-ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় সি বি আই তদন্তের দাবি তুলে জম্মু হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের বি জে পি মদতপুষ্ট আইনজীবীরা আন্দোলন শুরু করেন। শীর্ষ আদালতের ধমক খেয়ে কাজ শুরু করতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। 
অন্যদিকে, উন্নাওয়ে ধর্ষণে অভিযুক্ত বি জে পি বিধায়ক কুলদীপ সিংয়ের নার্কো এবং পলিগ্রাফ পরীক্ষা করাতে পারে সি বি আই। আদালতের কাছে এ বিষয়ে অনুমতি চাইবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। সূত্রের খবর, বিধায়ককে জেরার পর সি বি আই আধিকারিকরা সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তারপরই তাঁর নার্কো পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সি বি আই। সোমবারই উন্নাওয়ের নির্যাতিতা লক্ষ্ণৌয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নতুন করে জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। নির্যাতিতা এবং তাঁর মা’কে মঙ্গলবার উন্নাও থেকে লক্ষ্ণৌয়ে নিয়ে এসেছে সি বি আই।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement