গণসংগ্রাম তীব্র করার
লক্ষ্যে আলোচনা হবে

গণসংগ্রাম তীব্র করার<br>লক্ষ্যে আলোচনা হবে
+

নয়াদিল্লি, ১৬ই এপ্রিল— বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে সি পি আই (এম)-র ২২তম কংগ্রেস। হায়দরাবাদে এই কংগ্রেসের প্রাক্কালে পার্টির সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, ভারতের জনগণ আজ নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। একমাত্র বিকল্প নীতি কাঠামোর ভিত্তিতে শক্তিশালী জনগণের আন্দোলনের ঢেউ তুলেই এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা, তাকে পরাস্ত করা সম্ভব। বি জে পি-আর এস এস’র বর্তমান সরকারকে অপসারণ করে সর্বনাশা নীতিগুলির বিপরীতে বিকল্প নীতি রূপায়ণ করতে হবে। জনগণের এই সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে সি পি আই (এম)-র ২২তম কংগ্রেস হবে এক মাইলফলক। 
ইয়েচুরি বলেছেন, প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো আগ্রাসী নয়া উদারনীতি জনগণের শোষণকে আরও তীব্র করেছে। সবচেয়ে বিত্তশালী অংশের হাতে সম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদেশি পুঁজির মুনাফার স্বার্থে দেশের অর্থনীতির সব ক্ষেত্র খুলে দেওয়া হয়েছে। সবকটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে বেসরকারিকরণের চেষ্টা চলছে। মুদ্রা বাতিল এবং জি এস টি-র যৌথ আক্রমণে অসংগঠিত ক্ষেত্র ও কর্মসংস্থানের সর্বনাশ হয়েছে। কৃষির সংকট তীব্র হয়েছে। বিপুল পরিমাণ যুবকের কোনও কাজ মিলছে না, সংকটময় ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁরা বাঁচছেন। দেশের অর্থনৈতিক সম্পদের লুট বাড়ছে। অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ সাড়ে ১১লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। 
ইয়েচুরি বলেছেন, এই আক্রমণের বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণি এবং কৃষকের লড়াই তীব্রতর হয়েছে। এই লড়াইয়ের মধ্যে বিকল্প নীতিকে তুলে ধরা হচ্ছে। বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য গড়ে তুলেই এই বিকল্প তুলে ধরতে হবে। সামাজিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত দলিত আন্দোলন এবং বামপন্থী আন্দোলনের মধ্যে ঐক্য সম্প্রসারিত হয়েছে। গণসংগঠন ও আন্দোলনের ব্যাপক মঞ্চ জন একতা জন অধিকার আন্দোলন গড়ে উঠেছে। এই তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে পার্টি কংগ্রেসে আলোচনা হবে। 
ইয়েচুরি বলেছেন, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণকে তীব্র করার লক্ষ্যে বিরামহীন চেষ্টা চলছে। কেন্দ্রীয় সরকারের মদতেই তা ঘটছে। এই সরকারের লাগাম রয়েছে ফ্যাসিস্ত ধাঁচের আর এস এস-র হাতে। কাঠুয়া, উন্নাওয়ের ধর্ষণের ঘটনাতেও সাম্প্রদায়িকীকরণ দেখা গেছে। এর বিরুদ্ধেও জনগণের প্রতিরোধ হচ্ছে। কিন্তু তাকে আরও অনেক বেশি শক্তিশালী করতে হবে। 
ইয়েচুরি বলেছেন, সাংবিধানিক সংস্থার ওপরে আক্রমণ আনা হচ্ছে। শীর্ষ আদালতের ঘটনাবলী সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গণতান্ত্রিক ও নাগরিক অধিকারের ওপরে আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে। সর্বশেষ, মার্কিন চাপের কাছে বি জে পি সরকার নতিস্বীকার করছে। 
ইয়েচুরি বলেছেন, জনগণের লড়াইকে কীভাবে আরও সংহত করা যায় তা নিয়ে পার্টি কংগ্রেসে আলোচনা হবে। পার্টির স্বাধীন শক্তিকে না বাড়াতে পারলে তা সম্ভব হবে না। জনগণের সামনে বিকল্প হাজির করতে হলে পার্টির রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এইসঙ্গেই বামপন্থী ঐক্য শক্তিশালী করতে হবে, বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তির সঙ্গে সংগ্রামের ময়দানেই ঐক্য গঠন করতে হবে। 
ইয়েচুরি বলেছেন, ২১তম পার্টি কংগ্রেসের পরে সাংগঠনিক প্লেনামে সি পি আই (এম)-কে গণলাইনসমৃদ্ধ বিপ্লবী পার্টি হিসাবে শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তা রূপায়ণে কতদূর এগনো গেছে, তার পর্যালোচনা হবে ২২তম কংগ্রেসে। 
ইয়েচুরি বলেছেন, আজকের দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, তার ভিত্তিতে ভারতের শাসক শ্রেণিগুলির কর্মসূচিকে পরাস্ত করে উন্নততর ভারতের দিকে এগিয়ে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত এই শ্রেণি শাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণতান্ত্রিক ভারত গঠনের দিকে এগিয়ে যাবার লক্ষ্যে আত্মবিশ্বাস নিয়েই আলোচনা হবে ২২তম কংগ্রেসে। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement