বাণিজ্যিক খনন বিরোধী
দিবস পালন কয়লা শিল্পে

বাণিজ্যিক খনন বিরোধী<br>দিবস পালন কয়লা শিল্পে
+

দুর্গাপুর, ১৬ই এপ্রিল— সোমবার ই সি এলসহ দেশব্যাপী রাষ্ট্রায়ত্ত কয়লা শিল্পের সর্বত্র বাণিজ্যিক খনন (কমার্সিয়াল মাইনিং) বিরোধী দিবস পালিত হলো। সি আই টি ইউ অনুমোদিত অল ইন্ডিয়া কোল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের ডাকে সাড়া দিয়ে কয়লা শ্রমিকরা সোচ্চারে ঘোষণা করেন, দেশি-বিদেশি মালিকদের হাতে কয়লা সম্পদ তুলে দেওয়া চলবে না। ই সি এল-এর সোদপুর, শ্রীপুর, কুনুস্তোরিয়া, কেন্দা, মুগমাসহ সমস্ত এরিয়াতে খনিমুখে বিক্ষোভ সংগঠিত হয়। কেন্দ্রের বি জে পি সরকার কয়লা পরিপূর্ণ নতুন ভূভাগ কোল ব্লকের নামে বেসরকারি মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য সচেষ্ট হয়েছে। কয়লা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক সংগঠনগুলি একযোগে কমার্সিয়াল মাইনিং-এর বিরোধিতা করছে। ১৬ই এপ্রিল একদিনের দেশব্যাপী প্রতীক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল কয়লা শিল্পে। কয়লা সচিব স্তরে একটি বৈঠক ডেকে জানানো হয়েছে, কোলব্লক বেসরকারি মালিদের হাতে দেওয়ার আগে লাভ-ক্ষতি খতিয়ে দেখা হবে। এই আশ্বাস পেয়ে বি এম এস এবং এইচ এম এস ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয়। সি আই টি ইউ এবং এ আই টি ইউ সি দাবি জানিয়েছে, কমার্সিয়াল মাইনিং করা চলবে না। মালিকের হাতে দেশের কয়লা সম্পদ তুলে দেওয়া হচ্ছে কার স্বার্থে? মাটির গভীরে থাকা জীবাশ্ম জ্বালানি কয়লা সম্পদ দেশের সম্পদ। মালিকদের লক্ষ্য মুনাফা, মুনাফা এবং মুনাফা। জাতীয়করণের আগে মালিকদের হাতেই ছিল এই সম্পদ। দেশের স্বার্থ অপেক্ষা মালিকদের নিজ স্বার্থ অগ্রাধিকার পেয়েছে। কয়লা খননের বৈজ্ঞানিক নিয়ম অবহেলিত হবে। মাটির অল্প গভীরে থাকা কয়লা তুলবেন মালিকরা। অনেক গভীরে থাকা কয়লা উত্তোলন ব্যয় সাপেক্ষ। এর ফলে ধস-গ্যাস-আগুনের বিপদ আরও বাড়বে। স্থায়ী শ্রমিক বিলোপ হবে। কয়লা শিল্পের সমস্ত শ্রমিকই ঠিকা শ্রমিক হবেন। মালিকরা ব্যাঙ্কের টাকা লোপাট করে বিদেশে আয়েশ করছেন। রাষ্ট্রের হাতে থাকা সম্পদ কয়লা বেসরকারি হাতে দেওয়া চলবে না। কমার্সিয়াল মাইনিংবিরোধী আন্দোলন তীব্র করার আহ্বান জানানো হয়। 

Featured Posts

Advertisement