রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের উপর মানুষের
আস্থা বাড়ানোয় জোর
দিতে বললেন ট্যুঁস

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের উপর মানুষের<br>আস্থা বাড়ানোয় জোর<br> দিতে বললেন ট্যুঁস
+

কলকাতা, ১৬ই এপ্রিল—বিশ্বজুড়ে চলা পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে সাধারণ মানুষকে। অবশ্যই তা নিজেদের স্বার্থে। কাল মার্কসের দ্বিশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সম্প্রীতি সংস্কৃতি আয়োজিত এক আলোচনাসভায় একথা বলেন, অর্থনীতিবিদ, ইতিহাসবিদ তথা রাজনৈতিক বিজ্ঞানী এরিক ট্যুঁস। নিয়মনীতি ভেঙে কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে ঋণ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই চিত্র শুধু এই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। পৃথিবী জুড়ে আর্থিক কেলেঙ্কারি চলছে। মন্দার বাজারেও ঋণ পাচ্ছে কর্পোরেট সংস্থাগুলি। অথচ শোধ করতে পারছে না। ক্রোনি পুঁজিবাদের কাছে নতিস্বীকার করছে কেন্দ্রীয় সরকারও। আদতে ভারতের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। 
আলোচনাসভায় এরিক বলেন, কার্ল মার্কস আজীবন সাধারণ মানুষের স্বার্থের কথা বলেছেন। তিনি জানতেন পুঁজিবাদের আক্রমণ ব্যাঙ্কের ওপর পড়লে সেখানে মানুষের স্বার্থ উপেক্ষিত হবে। ২০০৭ সাল থেকে প্রায় আড়াই বছর পশ্চিমের দেশগুলিতে আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছিল। এদিন তিনি সারা বিশ্বের অনাদায়ী ঋণের একটি পরিসংখ্যান দেন। যেখানে তিনি জানান, ভারতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ শতকরা বারো শতাংশ। ইতালিতে ভারতের দ্বিগুণ অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ। পিছিয়ে নেই ইউরোপের অন্যান্য দেশও। ৪৫ শতাংশ অনাদায়ী ঋণ। পর্তুগালে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ সতেরো শতাংশ। তিনি আরও বলেন, ভারতের ব্যাঙ্কিং পরিষেবা জনগণের স্বার্থের কথা ভাবে না। বৃহৎ পুঁজি এদেশের ব্যাঙ্কিং পরিষেবার ওপর আক্রমণ করছে। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের নীরব মোদীর ঋণ এর বড় উদাহরণ। বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাদের রমরমাকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা নেই সরকারের। পাশাপাশি তিনি বলেন, এখনও যত সংখ্যক সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের আস্থা রাখছেন, সেই সংখ্যাটা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এমনকি ব্যাঙ্কের কাজে আরও স্বচ্ছতা আনা প্রয়োজন বলেও তাঁর দাবি। আদতে ব্যাঙ্কের সামাজিকীকরণ প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট দেশের মানুষের স্বার্থের জন্য। বর্তমানে বিশ্বে নতুন করে একটি সংকট তৈরি হচ্ছে। বেসরকারিকরণের এই নীতিতে স্টক মার্কেট বিস্ফোরিত হবে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর ধারণা, শুধু পশ্চিমের দেশগুলিতে নয়, এই সংকটে আক্রান্ত হতে পারে হঙকঙ, ভারতও। 
এদিনের এই আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, পরিকল্পনা করে আক্রমণ করা হচ্ছে দেশের ওপর। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিকে শুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এমনকি গত কুড়ি বছরে তরতরিয়ে বেড়েছে বেসরকারি ব্যাঙ্কের সংখ্যা। তবুও ভারতের মোট জনসংখ্যার মধ্যে ৭০ শতাংশ জনগণ এখনও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ওপরই ভরসা রাখেন। 

Featured Posts

Advertisement