বিদ্যুৎহীন ভাঙড়ে রাতভর
হামলা তৃণমূলী দুষ্কৃতীদের

বিদ্যুৎহীন ভাঙড়ে রাতভর<br>হামলা তৃণমূলী দুষ্কৃতীদের
+

ভাঙড়, ১৯শে এপ্রিল— প্রবল ঝড়, বৃষ্টিতে গত দুদিন ধরে ভাঙড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতেই পেশাদার অপরাধীদের কায়দায় বুধবার রাত থেকে দফায় দফায় বোমা, বন্দুক নিয়ে ভাঙড়ের আন্দোলনের এলাকাগুলিতে হামলা চালাল সশস্ত্র তৃণমূলী বাহিনী। মিদ্দেপাড়া, খামারআইট, গাজিপুরে সাধারণ গ্রামবাসীদের লক্ষ্য করে প্রায় ৫০-৬০ রাউন্ড গুলি চালায় তৃণমূলী বাহিনী। রাত প্রায় দুটো পর্যন্ত চলে দেদার বোমাবাজি। 
পঞ্চায়েত ভোটে ভাঙড়ের ওই আন্দোলনের এলাকার বিরোধী কাউকেই মনোনয়ন জমা দিতে দেয়নি আরাবুল-কাইজার বাহিনী। ভাঙড়ের আন্দোলনরত গ্রামগুলি যেখানে গত দেড় বছর ধরে তৃণমূলের কোনও অস্তিত্ব নেই সেখান থেকেও বিরোধী কাউকে প্রার্থী হতে দেওয়া হয়নি। বি ডি ও অফিসের ভিতরে পুলিশের মদতেই ভাঙড়ের আন্দোলনকারী কমিটির সদস্য ও প্রার্থীদের নৃশংসভাবে মারধর করা হয়। যদিও তারপরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে তিনজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। তবে আদালতের রায়ের পরেও সেই মনোনয়ন বাতিল হয়েছে এস ডি ও অফিস থেকে। তৃণমূলের দলদাসে কীভাবে পরিণত হয়েছে প্রশাসন, তারও নিদারুণ উদাহরণ এটি। 
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘জয়ী’ হওয়ার পরে এবার অস্ত্রের জোরে ভাঙড় দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে তৃণমূলী বাহিনী। মনোনয়ন পর্ব শুরু হওয়ার পর থেকেই গোটা ভাঙড়কে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। গ্রামবাসীরা বাইরে বেরোতে পারছেন না, সব রাস্তা আটকে রাখা হয়েছে পুলিশের মদতেই। ভাঙড়ের আন্দোলনকারী কমিটির অভিযোগ, শুধু দোকানপাট-ব্যবসা বন্ধ নয়, আন্দোলনরত গ্রামগুলির ছেলেমেয়েরাও স্কুলে যেতে পারছে না। খামারআইট, মাছিভাঙা, নতুনহাটে যাদের বাড়ি সেই সব ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে গেলেও রাস্তায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। অশ্লীল ইঙ্গিত করা হচ্ছে। কার্যত যেন জঙ্গলের রাজত্ব। পুলিশ, প্রশাসন কিছু নেই। শাসক দলের দুষ্কৃতীবাহিনীর হামলা চলছে।
ভাঙড়ের জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির তরফে মির্জা হাসান এদিন অভিযোগ করে বলেন, স্কুলগুলিতে পঠন পাঠনও বন্ধ হওয়ার মুখে। ছাত্রছাত্রীরা যেমন স্কুলে যেতে পারছে না তেমনি শিক্ষকরা ভাঙড়ে আসতে পারছেন না। মাছিভাঙা গ্রামে ঢোকার রাস্তা কাঠের গুঁড়ি, বাঁশ দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। 
বুধবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ বিদ্যুৎ বিহীন ভাঙড়ের মিদ্দেপাড়ায় তৃণমূলী বাহিনী প্রথম হামলা চালায়। হতচকিত হয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা। অন্ধকারের মধ্যেই চলে দেদার গুলি, বোমা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই খামারআইট, মাছিভাঙার গ্রামবাসীরাও বাইরে বেরিয়ে আসে প্রতিরোধের মেজাজেই। মিদ্দেপাড়াতেও তৃণমূলী হামলার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় সাধারণ মহিলা, পুরুষ গ্রামবাসীরা। এরপরে চম্পট দেয় হামলাকারী তৃণমূলী বাহিনী। রাত প্রায় বারোটা থেকে দুটো পর্যন্ত ফের নতুনহাট থেকে গুলি চালানো শুরু করে আরাবুল বাহিনী। পাওয়ার গ্রিড লাগোয়া নতুনহাট থেকেই চলে এই হামলা। যদিও পাওয়া গ্রিড প্রকল্পের ভিতরেই রয়েছে ই এফ আর ক্যাম্প। গ্রামবাসীদের অভিযোগ প্রকল্প এলাকার ভিতর থেকেই হামলা চালাচ্ছে তৃণমূলী দুষ্কৃতী বাহিনী। সারা রাত আতঙ্কে জেগে থাকেন গ্রামবাসীরা। সকাল থেকেও দফায় দফায় হামলা। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে ফের বোমাবাজি শুরু হয়।
এদিকে ভাঙড়ে লাগাতার হামলা ও ভাঙড় কাণ্ডে ধৃতদের মুক্তির দাবিতে এদিন কলকাতায় ভাঙড় সংহতি কমিটির উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত যায় এই মিছিল। ভাঙড় সংহতি কমিটির তরফে অনুরাধা পূততুণ্ড, সি পি আই (এম এল) লিবারেশনের নেতা কার্তিক পাল, শিক্ষাবিদ মীরাতুন নাহার, কবি মন্দাক্রান্তা সেন, অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র, অরুণাভ গাঙ্গুলিসহ বিশিষ্টজনেরা এই মিছিলে শামিল হন। আন্দোলনকারীদের ওপর আরোপিত ইউ এ পি ধারা প্রত্যাহার ও তৃণমূলী হামলা বন্ধের দাবি ওঠে মিছিল থেকে। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement