বি জে পি-কে পরাস্ত করার
কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে

বি জে পি-কে পরাস্ত করার<br>কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে
+

হায়দরাবাদ : ১৯শে এপ্রিল— ফ্যাসিবাদী ধরনের আর এস এস পরিচালিত কেন্দ্রের বি জে পি সরকারকে পরাস্ত করাই যে এই মুহূর্তের সবচেয়ে জরুরি কাজ তা নিয়ে সি পি আই (এম)-র ২২তম কংগ্রেসে কোনও বিতর্ক নেই, কীভাবে এই সাফল্য অর্জন করা যাবে তাই নিয়েই প্রতিনিধিরা আলোচনা করছেন। বৃহস্পতিবার হায়দরাবাদে সি পি আই (এম)-র সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি পার্টি কংগ্রেসের ফাঁকেই একটি সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রতিনিধিদের আলোচনার শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজনৈতিক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। সেখানেই রাজনৈতিক রণকৌশল চূড়ান্ত হবে।
ইয়েচুরি বলেছেন, পার্টি কংগ্রেসে শেষপর্যন্ত কী হবে তা নিয়ে অনেকেই নানা অনুমান করে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু আমি এখনও পর্যন্ত বলতে পারি যে কংগ্রেস দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোট বা মোর্চা গঠনের কোনও বিষয় এরমধ্যে নেই। আমাদের ইতিহাসও সেকথাই বলে। ১৯৯৬ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারই হোক অথবা ২০০৪ সালের ইউ পি এ সরকার, আমরা তাদের বাইরে থেকে সমর্থন দিয়েছি। বাইরে থেকে সমর্থনের প্রক্রিয়াটার কোনও বৌদ্ধিক স্বত্বাধিকার থাকলে তা আমাদেরই প্রাপ্য। 
তিনি একথাও বলেন, ভারতের মানুষ এখন বি জে পি সরকারের চার মারাত্মক আক্রমণের মুখে। নয়া উদার অর্থনৈতিক নীতির আক্রমণ যা নজিরবিহীন মাত্রা পেয়েছে, দেশের সামাজিক কাঠামোকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে এমন ধারালো সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ করা হচ্ছে, সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলি ও গণতন্ত্রের ওপরে আক্রমণ হচ্ছে এবং ভারতের স্বাধীন বিদেশনীতিকে আক্রমণ করে ভারতকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ছোট শরিক করে তোলা হচ্ছে। এই অবস্থায় মানুষের অগ্রাধিকার হলো আর এস এস-বি জে পি’কে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে সরানো। আমরা মনে করি এর জন্য নেতা নয়, নীতি পরিবর্তন দরকার। কেবলমাত্র বাম গণতান্ত্রিক মোর্চাই এই বিকল্প তুলে ধরতে পারে যা অর্জন করা সম্ভব বামপন্থীদের শক্তিশালী করার মধ্য দিয়ে। আবার বামপন্থীদের শক্তিশালী করার জন্য সি পি আই (এম)-কে শক্তিশালী করা ও তার রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ক্ষমতা বৃদ্ধি করার প্রয়োজন আছে। 
নির্বাচনের সময় কী করা হবে তা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ইয়েচুরি বলেন, আমরা মানুষকে বাম প্রার্থীদের সমর্থন করতে বলবো, বাম প্রার্থী না থাকলে সেখানে বি জে পি-কে পরাস্ত করার জন্য আবেদন করবো। 
কংগ্রেস দলের সঙ্গে কোনও নির্বাচনী জোট গঠন না করা হলেও নির্বাচনের সময় কোনও বোঝাপড়ার সুযোগ রাখা হবে কিনা সেই সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ইয়েচুরি বলেছেন, প্রতিনিধিদের আলোচনা এখনও চলছে। আলোচনার শেষে রাজনৈতিক প্রস্তাব গৃহীত হলে রাজনৈতিক রণকৌশল চূড়ান্ত হবে এবং আমরা অবশ্যই প্রকাশ্যে জানিয়ে দেবো। 
বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত পার্টি কংগ্রেসের অধিবেশনে যা হয়েছে সেই সম্পর্কে ইয়েচুরি জানিয়েছেন, প্রথমেই খসড়া রাজনৈতিক প্রস্তাব পেশ হয়েছে এবং তার ওপরে প্রাক কংগ্রেস সংশোধনীর রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। খসড়া প্রস্তাব দুমাস আগে প্রকাশ করা হয়েছিল যাতে সমস্ত পার্টি সদস্যরাই সংশোধনী পাঠানোর সুযোগ পান। পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি এই প্রেরিত সংশোধনীর মধ্যে ২৮৬টি গ্রহণ করেছে। পলিট ব্যুরো সদস্য প্রকাশ কারাত খসড়া রাজনৈতিক প্রস্তাব পেশ করেছেন। যেহেতু এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটিতে মতপার্থক্য ছিল সেই কারণে কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় যে দুটো মতই কংগ্রেসে পেশ করা হবে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে সংখ্যালঘু মত আমিই পেশ করেছি। সবটার ওপরেই প্রতিনিধিদের আলোচনা চলছে। 
পার্টি কংগ্রেসে সাধারণ সম্পাদক ব্যতীত পলিট ব্যুরোর অন্য সদস্যের খসড়া রাজনৈতিক প্রস্তাব পেশ করা কতটা স্বাভাবিক তা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সাধারণ সম্পাদক খসড়া রাজনৈতিক প্রস্তাব পেশ করছেন না এমন ঘটনা প্রথম নয়। এর আগেও বি টি রণদিভে সাধারণ সম্পাদক না থাকা সত্ত্বেও খসড়া রাজনৈতিক প্রস্তাব পেশ করেছেন। ই এম এস নাম্বুদিরিপাদ সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন হরকিষেণ সিং সুরজিৎও খসড়া রাজনৈতিক প্রস্তাব পেশ করেছেন পার্টি কংগ্রেসে। 
কেন্দ্রীয় কমিটিতে সংখ্যালঘু দ্বিতীয় মতকেও পার্টি কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের সামনে পেশ কেন করা হলো তা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ইয়েচুরি বলেন, আমাদের পার্টি হাইকমান্ড ভিত্তিক পার্টি নয়, আমাদের পার্টিতে নীতি নির্ধারণের সর্বোচ্চ সংস্থা পার্টি কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় কমিটির ভিতরে ভিন্নমত, বিপুল সংখ্যক সংশোধনী ইত্যাদি বিষয় এবং প্রকৃত পরিস্থিতি বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় কমিটি মনে করেছে যে অপর মতটিও কংগ্রেসে পেশ করার প্রয়োজন আছে। এটাই পার্টির আভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের প্রতিফলন। পার্টি কংগ্রেসে আলোচনার পরে যা গৃহীত হবে তা যৌথ সিদ্ধান্ত এবং সমগ্র পার্টির সিদ্ধান্ত। এর ফলে ঐক্যবদ্ধভাবে পার্টির কাজ করতেও সুবিধা হবে এবং পার্টি শক্তিশালী হবে।
পার্টি কংগ্রেসে পেশ হওয়া খসড়া রাজনৈতিক প্রস্তাবের ওপরে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা যদি সংশোধনী পেশ করেন এবং তার ওপরে গোপন ব্যালটে ভোট চান তাহলে কী হবে? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে ইয়েচুরি বলেছেন, প্রতিনিধিদের সকলের সংশোধনী দেওয়ার অধিকার আছে। স্বাভাবিক রীতিটা হলো যে স্টিয়ারিং কমিটি সেগুলি বিবেচনা করে অধিবেশনে রিপোর্ট দেন। যদি কোনও প্রতিনিধির সংশোধনী গৃহীত না হওয়ায় তিনি ভোট দাবি করেন তাহলে হাত তুলে ভোটগ্রহণ করা হয়। আমি এই নিয়ে পার্টির ১২টি কংগ্রেসে অংশ নিচ্ছি, গোপন ব্যালটে ভোট কখনও দেখিনি।
ইয়েচুরি জানিয়েছেন, খসড়া রাজনৈতিক প্রস্তাব গ্রহণের পরে আরেকটি রাজনৈতিক সাংগঠনিক প্রস্তাব পেশ করা হবে এবং প্রতিনিধিদের আলোচনার পরে তা চূড়ান্ত করা হবে। সাংগঠনিক ক্ষেত্রে পার্টির গত তিনবছরের কাজের পর্যালোচনা, পার্টির ও গণসংগঠনগুলির বিকাশের পর্যালোচনা, সাংগঠনিক প্লেনামের সিদ্ধান্ত রূপায়ণের অভিজ্ঞতা ইত্যাদি আলোচিত হবে তাতে। তারপরে পার্টি গঠনতন্ত্রের ওপরে সংশোধনী প্রস্তাব যা দুমাস আগে সদস্যদের পাঠাতে হয় তা পেশ হবে এবং কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল কমিশনের রিপোর্ট পেশ করা হবে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement