কুলদীপ-কার্তিকে
কেল্লাফতে কলকাতার

কুলদীপ-কার্তিকে<br>কেল্লাফতে কলকাতার
+

নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা, ১৫ই মে — ধোনির মতো ম্যাচ জেতালেন কার্তিক। যতদিন ক্রিকেট খেলবেন, তাঁর সম্পর্কে এমনটাই বলা হবে। এদিনও যখন ৬ মেরে ম্যাচ ‘ফিনিশ’ করলেন, এভাবেই তুলনায় এলেন। 
সময় থমকে না দাঁড়ালেও ইডেনের স্কোরবোর্ড থমকে গেল কিছুক্ষণের জন্য। কলকাতার জয়ের জন্য তখন ৩৩ বলে ২৯ রান প্রয়োজন। বাকি রাস্তাটুকু পেরতে খুব বেশি সমস্যা হয়নি। ৩১ বলে অপরাজিত ৪১ রানে কলকাতার জয়ে বড় ভূমিকা নিলেন দীনেশ কার্তিক। সরকারিভাবে প্লে-অফ নিশ্চিত না হলেও শেষ ধাপ অবধি পৌঁছে গেল কলকাতা। শেষ ম্যাচে কোনও অঘটন না হলেই নিশ্চিন্ত। ঘরের মাঠে এদিন রাজস্থান রয়্যালসকে ৬ উইকেটে হারাল তারা। কে কে আর-এর জয়ে বড় ভূমিকা কুলদীপ, ক্রিস লিন ও কার্তিকের।
শুরুর সঙ্গে সবসময় শেষের মিল থাকে না। রাজস্থান রয়্যালসের ইনিংসই যেমন। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমেছিল রাজস্থান। ইনিংসের প্রথম বলেই স্লিপে ক্যাচ পড়ে নীতিশ রানার হাত থেকে। শিবম মাভির প্রথম ওভারে ওঠে মাত্র ২ রান। রাশ আলগা হল পরের ওভারেই। প্রসীধ কৃষ্ণা দিলেন ১৯ রান। এরপর শুধুই বাউন্ডারির বৃষ্টি। শিবমের দ্বিতীয় ওভারে প্রতি বলের পরিসংখ্যান ৪,৬,৪,৪,৬,৪। ৫০-র গন্ডি পেরোতে ৩.২ ওভার লাগে রাজস্থানের। রাহুল ত্রিপাঠি-বাটলার জুটি ২০ বলে ৫০ যোগ করলেন। রাজস্থানের প্রথম উইকেট পড়ল ৪.৫ ওভারে। রাসেলের বলে ফিরলেন রাহুল ত্রিপাঠি। দলের স্কোর তখন ৬৩। পাওয়ার প্লে তে ১ উইকেটে ৬৮রান করে রাজস্থান। অষ্টম ওভারে ওভারে কুলদীপ যাদবকে আনতেই ম্যাচ ঘুরতে শুরু করে কে কে আর-এর দিকে। নিজের প্রথম ওভারে মাত্র পাঁচ রান দিয়ে রাহানের উইকেট নেন কুলদীপ। রিভার্স সুইপ মারতে গিয়ে বোল্ড হন রাজস্থান অধিনায়ক। অপ্রয়োজনীয় শট। কুলদীপের দ্বিতীয় ওভারে জোস বাটলারও রিভার্স সুইপ মারতে গিয়েই ক্যাচ আউট হন। কুলদীপ যাদব নিজের প্রতিটি ওভারেই একটি করে উইকেট নিয়েছেন। শেন ওয়ার্নকে আদর্শ মানেন কুলদীপ। রাজস্থানকে সমস্যায় ফেলে তাদের মেন্টর ওয়ার্নের থেকে শুভেচ্ছা এবং মূল্যবান পরামর্শও পেলেন।
বিধ্বংসী শুরু করেও বড় স্কোর করতে ব্যর্থ রাজস্থান। দলীয় ১০৭ রানে বেন স্টোকস আউট হতেই মনে করা হয়েছিল ১২০-র গন্ডিও পেরতে পারবে না রাজস্থান। শেষদিকে জয়দেব উনাদকাট ব্যাট হাতে দলকে অনেকটাই সহযোগিতা করেন। শেষ অবধি ১৯ ওভারে ১৪২ রান করে রাজস্থান। শেষদিকে জয়দেব উনাদকাট করেন ১৮ বলে ২৬ রান। কে কে আর কিছু ক্যাচ না ফেললে আরও আগেই শেষ হতো রাজস্থান ইনিংস। কলকাতার হয়ে কুলদীপ চার উইকেট ছাড়া প্রসীধ কৃষ্ণা ও আন্দ্রে রাসেল দুটি করে উইকেট নেন। এছাড়া শিবম মাভি, সুনীল নারিন একটি করে উইকেট নিয়েছেন। 
রান তাড়া করতে নেমে কলকাতার প্রথম ওভারে ওঠে ২১ রান। পরের ওভারেই বোলিংয়ে আসেন বেন স্টোকস। কোনও রান না দিয়ে সুনীল নারিনকে প্যাভিলিয়নে ফেরালেন তিনি। যদিও কম রানের পুঁজি থাকায় কলকাতাকে চাপে ফেলতে ব্যর্থ রাজস্থান। উথাপ্পা (৪), নীতিশ রানা (২১) দ্রুত ফিরলেও ক্রিস লিনের সঙ্গে দলের হাল ধরেন দীনেশ কার্তিক। ক্রিস লিন যে শুধুই মারকুটে ব্যাটসম্যান নন, সেটা ভালো করে বোঝালেন ধৈর্যশীল ইনিংসে। কম রানের লক্ষ্য। অযথা তাড়াহুড়ো না করে রান তোলায় মন দিলেন। লিন আউট হলেন ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন কার্তিক। বেন স্টোকস অনবদ্য বোলিং করলেও কলকাতাকে রুখতে পারেননি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাজস্থান রয়্যালস : ১৪২/১০ (১৯ ওভার) জোস বাটলার ৩৯, রাহুল ত্রিপাঠি ২৭, কুলদীপ ৪/২০
নাইট রাইডার্স : ০০০/০০ (০০ ওভার) ক্রিস লিন ৪৫, দীনেশ কার্তিক ৪১ নঃআঃ, বেন স্টোকস ৩/১৫।
কলকাতা ৬ উইকেটে জয়ী।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement