গাজায় নিহত
প্যালেস্তিনীয়দের
সংখ্যা বেড়ে ৬১

কেন্দ্রের নিন্দা করা উচিত: পলিট ব্যুরো

গাজায় নিহত<br>প্যালেস্তিনীয়দের<br>সংখ্যা বেড়ে ৬১
+

গাজা সিটি, ১৫ই মে— ইজরায়েলি হামলায় গাজায় নিহত প্যালেস্তিনীয়দের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১। নিহতদের তালিকায় আটমাসের সদ্যোজাত-সহ আটটি শিশুও রয়েছে। সোমবার ইজরায়েলি সেনার বেপরোয়া গুলিবর্ষণে জখম হয়েছেন ২,৭৭১ জন। এরমধ্যে ২২৫টি শিশু ও ৮৬ জন মহিলা রয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে। 
২০১৪-তে ইজরায়েলের গাজা আগ্রাসনের পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন ছিল সোমবার। প্রতিবাদে, প্যালেস্তাইনে সাধারণ ধর্মঘটের সঙ্গেই সরব হয়েছে গোটা বিশ্ব। তুরস্ক বহিষ্কার করেছে ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে। তদন্তের জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আটকে দেওয়ার পর ব্রিটেন চেয়েছে এঘটনার ‘স্বাধীন তদন্ত’। এধরনের তদন্তে সমর্থন জানাবে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে জার্মানি। প্যারিসে, ফরাসি বিদেশমন্ত্রী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমশই ‘বিস্ফোরক’ চেহারা নিচ্ছে। ‘প্যালেস্তিনীয় নাগরিকদের সুরক্ষায়’ বুধবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব আনতে চলেছেন কুয়েতের রাষ্ট্রদূত। আরব লিগের মানবাধিকার সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি ‘ইজরায়েলি দখলদারির অপরাধের’ বিরুদ্ধে অবিলম্বে তদন্ত শুরুর জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে আরজি জানিয়েছে। বিশদে আলোচনার জন্য বুধবারই জরুরি বৈঠকে বসছে আরব লিগ। অন্যদিকে, ইজরায়েলের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদের যে কোনও পদক্ষেপ পড়তে পারে মার্কিন ভেটোর মুখে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ইজরায়েলি বাহিনীর এই বর্বরতার তীব্র নিন্দা করা উচিত বলে জানিয়েছে সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো।
এদিকে, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক ও গাজা উপত্যকায় মঙ্গলবার হয়েছে সর্বাত্মক সাধারণ ধর্মঘট। আর এই ধর্মঘট হয়েছে ‘নাকবা’ বা বিপর্যয়ের দিনের সত্তরতম বার্ষিকীতে। ১৯৪৮সালে এই দিনেই সাড়ে ৭ লক্ষ প্যালেস্তিনীয় উৎখাত হয়েছিলেন তাদের বসতভিটে থেকে। ‘প্রত্যাবর্তনের অভিযান’ নামে ছ সপ্তাহ ধরে চলে প্রতিবাদ আন্দোলন। সোমবার, মার্কিন দূতাবাস যখন তেল আভিভ থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে খোলা হচ্ছে, তখনই কয়েকমাইল দূরে সীমান্ত বরাবর এই বর্বর অভিযান চালায় ইজরায়েলি সেনাবাহিনী। মধ্যরাতে, রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাসের ডাকে এই ধর্মঘটে এদিন সমস্ত সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছিল বন্ধ। 
গাজা-ইজরায়েল সীমান্তে, ইজরায়েলি বাহিনীর হাতে প্যালেস্তিনীয়দের এই হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশের সঙ্গেই কড়া নিন্দা জানিয়েছে সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো। এদিন এক বিবৃতিতে পলিট ব্যুরো বলেছে, প্যালেস্তিনীয়দের এই বর্বর গণহত্যার শুধু নিন্দা করাই নয়, এই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য নিতে হবে পদক্ষেপ। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ইজরায়েলি বাহিনীর এই বর্বরতার তীব্র নিন্দা করা উচিত। এই প্রশ্নে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পলিট ব্যুরো বলেছে, ইজরায়েলের হাতে উৎখাত হওয়া জনগণকে তাদের জমিতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সীমান্তে মিছিল করছিলেন প্যালেস্তিনীয়রা। জেরুজালেমে ইজরায়েলি দূতাবাস খোলা আন্তর্জাতিক আইনের পুরোপুরি লঙ্ঘন, ঠিক যেদিন ইজরায়েলি বাহিনী চালিয়েছে বেপরোয়া হামলা। 
প্রতিবাদে, ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছে তুরস্ক। রাষ্ট্রদূত এইতান নাহকে ডেকে তুরস্কের বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ‘কিছুদিনের জন্য’ তাঁর ইজরায়েলে ফিরে যাওয়টাই ‘যথার্থ’ হবে। তুরস্ক জানিয়েছে, গাজা হত্যার প্রতিবাদ নিয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলে তুর্কি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো হবে। এদিন ইস্তানবুলে হাজারো মানুষ প্রতিবাদ দেখান। রাষ্ট্রপতি এরদোগান বলেছেন, গাজার হামলা আসলেই ‘গণহত্যা’। তিনি বলেছেন, ‘ইজরায়েলের পক্ষ থেকে এই গণহত্যা প্রথম নয়।’ যোগ করেছেন, এই গণহত্যা বেআব্রু করে দিয়েছে ‘ইজরায়েলের কুৎসিত মুখকে।’ তুরস্কের মন্ত্রী বেকির বোজদাগ বলেছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে নিরীহ প্যালেস্তিনীয়দের রক্ত।’ এদিন সংসদে তিনি বলেছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আসলে সমস্যা, সমাধান নয়।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement