তিন বছরেই স্বনির্ভর
গোষ্ঠী বেড়ে ১৪০০

শিলিগুড়িতে নজির বামফ্রন্ট পৌরবোর্ডের

তিন বছরেই স্বনির্ভর<br>গোষ্ঠী বেড়ে ১৪০০
+

শিলিগুড়ি, ১৫ই মে — গত  তিন বছরে চূড়ান্ত আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও সাফল্যের সঙ্গে ১হাজার ৪০০টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি করে রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে শিলিগুড়ি পৌর নিগমের বামফ্রন্ট বোর্ড। পূর্বতন বোর্ডের আমলে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৬৯০টি। যার সদস্য সংখ্যা ছিল মাত্র ৭থেকে সাড়ে ৭হাজার। বামফ্রন্ট বোর্ডের সময়ে মোট ১হাজার ৪০০টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০হাজার। পাশাপাশি মহিলা আরোগ্য সংস্থা তৈরি হয়েছে ১হাজার ৪০০টি, যা পূর্বতন বোর্ডের আমলে ছিলই না। মহিলা আরোগ্য সংস্থার সদস্যদের নিয়ে নিয়ে আগামী ২২শে মে ওয়ার্কশপ করতে চলেছে পৌর নিগম। একই সঙ্গে তিন বছরে শুধুমাত্র বস্তি উন্নয়ন খাতেই খরচ হয়েছে প্রায় ১০০কোটি টাকা। চলতি আর্থিক বছরে বস্তি উন্নয়নের জন্য শিলিগুড়ি পৌর নিগমের বামফ্রন্ট বোর্ড বরাদ্দ করেছে ১৭কোটি টাকা। আগের বোর্ড ৮০কোটি ৭৫লক্ষ টাকা টাকা আয় ছিল সমস্ত সূত্রে। এখন আয়ের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১৭৮কোটি টাকা। বৃদ্ধি হয়েছে পৌর নিগমের অস্থায়ী কর্মীদের দৈনিক মজুরি। মাসের প্রথম দিনই ব্যাঙ্কের মাধ্যমে সেই বেতন ঢুকে যায় সব কর্মচারীর অ্যাকাউন্টে। 
রাজ্য সরকারের অসাংবিধানিক আচরণের মোকাবিলা করে সাফল্যের সঙ্গে তিন বছর অতিক্রম করল শিলিগুড়ি পৌর নিগমের বামফ্রন্ট বোর্ড। রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেস যখন গণতন্ত্র হত্যা করে মানুষের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একের পর এক পৌরসভা, জেলাপরিষদের বোর্ড জবরদখল করে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মরিয়া, তখন মানুষের রায়ে মাথা উঁচু করে চ্যালেঞ্জের সঙ্গে তিনটি বছর নিজেদের বোর্ড পরিচালনা করছে বামফ্রন্ট। রাজ্যের অন্যান্য পৌরসভার পাঁচ বছরের থেকে শিলিগুড়ি পৌর নিগমের এই তিন বছর অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ গোটা রাজ্যে গণতন্ত্র কতটা বিপন্ন, তা রাজ্যবাসীকে আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল সদ্যসমাপ্ত পঞ্চায়েত নির্বাচন। এমন একটি পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি পৌর নিগমের নির্বাচনে মানুষ নির্বাচিত করেছেন তাদের পছন্দের প্রার্থীদের। একমাত্র শিলিগুড়ি পৌর নিগমের ক্ষেত্রেই দল ভাঙানোর হাজার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে রাজ্যের শাসকদল। ২২জন কাউন্সিলরকে নিয়ে অটুট বামফ্রন্টের বোর্ড। এমনকি কংগ্রেসের ৪জন এবং বি জে পি-র ২জন কাউন্সিলরকেও ভাঙাতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস।
বামফ্রন্ট শিলিগুড়ি পৌরবোর্ড গঠনের পরই শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদেও গঠন করে নিজেদের বোর্ড। বিধানসভা নির্বাচনেও দার্জিলিঙ জেলার সমতলের একটি বিধানসভা আসনেও জয়লাভ করতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই শিলিগুড়ি পৌর নিগম, শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ এমনকি শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়ার বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকাও আটকে রেখেছে রাজ্য সরকার। চূড়ান্ত আর্থিক প্রতিবন্ধকতাকেও শিলিগুড়ির উন্নয়নমূলক কাজে বাধা হতে দেয়নি শিলিগুড়ি পৌর নিগমের বামফ্রন্টের বোর্ড। 
রাজ্য সরকার গত তিন বছরে পরিকল্পনা বহির্ভূত খাতে কিছু টাকা দিলেও পরিকল্পনা খাতে দিয়েছে ১০শতাংশেরও কম। এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের টাকাও আটকে রাখছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রের ‘হাউসিং ফর অল’ প্রকল্প খাতে শিলিগুড়ি পৌর নিগমের জন্য সুডাতে (স্টেট আর্বান ডেভেলপমেন্ট অথরিটি) ২৮কোটি টাকা পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। অথচ রাজ্য সরকার সেই টাকা থেকে দিয়েছে মাত্র ৬কোটি টাকা! তাহলে বাকি ২২কোটি টাকা কেন্দ্র বরাদ্দ করা সত্ত্বেও কেন দেওয়া হলো না? শিলিগুড়িতেই কর্মরত এক সরকারি আধিকারিক এই প্রসঙ্গে জানান, আসলে সবটাই তো রাজনীতির অঙ্গ। অর্থাৎ রাজ্য সরকার রাজ্যের অন্যান্য পৌর নিগমগুলিকে কোটি কোটি টাকা দিলেও শুধুমাত্র শিলিগুড়ির ক্ষেত্রে এই কার্পণ্য যে নিছকই রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক তা স্বীকার করে নিচ্ছেন রাজ্য সরকারের আমলারাই। তিন বছরে রাজ্য সরকারের সমস্ত বাধা, আর্থিক বঞ্চনা, অসহযোগিতা ও অসাংবিধানিক আচরণের পরেও শিলিগুড়ি পৌর নিগমের বামফ্রন্টের বোর্ডের তিনবছর পূর্তিতে শিলিগুড়ি পৌর নিগমে সাংবাদিক বৈঠক করে শহরের সমস্ত নাগরিক, পৌর কর্মচারী, সমস্ত কাউন্সিলর, পৌর আধিকারিকদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মেয়র অশোক ভট্টাচার্য।

Featured Posts

Advertisement