ভোটলুটের প্রতিবাদে
পথ হাঁটল ভাঙড়

পারেনি এন্তাজ, ভোট দিয়েছেন ফতেমা বিবি

ভোটলুটের প্রতিবাদে<br>পথ হাঁটল ভাঙড়
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভাঙড়, ১৫ই মে- ডান পা কার্যত অকেজো হয়ে গেছে। তিনি শহীদ মফিজুলের দাদা এন্তাজ আলি খান। আরাবুল ইসলামের ছেলে হাকিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন দিনমজুর এন্তাজুল খান। বন্দুকের বাঁট, লাঠি, ইট দিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয়েছে ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ। প্রার্থী হয়েও নিজে দিতে পারেনি ভোট, আরাবুল ও পুলিশ বাহিনীর সন্ত্রাসে।
সেই এন্তাজুল খানকে নিয়েই মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে এসেছিলেন ভাঙড় আন্দোলনের সংগঠক শর্মিষ্ঠা চৌধুরি। যদিও নির্বাচন কমিশনার তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে চাননি। তবে কমিশনের দপ্তরে ভাঙড়ে আরাবুলের পাড়া লাগোয়া দুটি বুথে তৃণমূলী তাণ্ডব ও ভোট লুটের অভিযোগ জানিয়ে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানান তাঁরা। যদিও এদিন রাতে কমিশনের তরফে পুনর্নির্বাচনের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে ভাঙড়ের উল্লেখ নেই। আর এরপরেই ফের নতুন করে ভাঙড়ের আন্দোলনকারী গ্রামবাসীদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ, উত্তেজনা ছড়ায়। সোমবার দিনভর আরাবুল-খুদে বাহিনীর সশস্ত্র তাণ্ডব, প্রকাশ্যে গুলি- বোমা চলে। ভাঙড়ের আন্দোলনরত জমি কমিটির একাধিক সদস্য গুরুতর জখম হয়।
যদিও ভোট শেষের পরেই উত্তর গাজিপুরের আন্দোলনকারী শেখ আজিম, আব্বাস আক্রম মোল্লা, জয়নাল আবেদিন ও দক্ষিণ গাজিপুরের সরিফুল মোল্লাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এদিনই তাঁদের বারুইপুর আদালতে তোলা হলে পুলিশ ধৃতদের ৮দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। ধৃত শেখ আজিমকে সোমবার সকাল সাড়ে সাতটার সময় পুলিশের সামনেই বেধড়ক মারে খুদে বাহিনী। মারধরের পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে তুলে নিয়ে ভোটকেন্দ্রের দোতলার একটি ঘরে আটকে রাখে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত, কোনও চিকিৎসার সুযোগও মেলেনি। ভোট শেষের পরে শেখ আজিমকেই ভোটের হামলা চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়!
একদিকে আরাবুল ইসলামের পাড়ায় ভোট লুট ও অন্যদিকে পুলিশ-তৃণমূল সন্ত্রাসের প্রতিবাদে এদিন ফের ভাঙড়ে রাস্তায় নামে হাজারো মানুষ। মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিকাল চারটে নাগাদ মাছিভাঙা থেকে শুরু হয় সেই মিছিল। আক্রান্ত গ্রামবাসী, শহীদের পরিবারের সদস্যরাও জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির ডাকে সেই মিছিলে শামিল হন। মাছিভাঙা থেকে শুরু হয়ে নতুনহাটের দিকে যায় মিছিল। যেভাবে সোমবার সকাল থেকে উত্তর ও দক্ষিণ গাজিপুর এলাকায় সশস্ত্র হামলা চালানো হয় তার প্রতিবাদে নতুন করে ভোটের দাবিও তোলা হয় ওই বুথগুলিতে।গাজিপুরের সিংহভাগ মানুষ ভোট দিতে পারেননি। তাঁরাও শামিল হন এই মিছিলে। ভাঙড়ের উড়িয়াপাড়া থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রার্থী হয়েছিলেন ফতেমা বিবি। হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর মনোনয়ন গৃহীত হওয়ার পরই দুই পুত্রকে তুলে নিয়ে যায় আরাবুল ইসলাম। তারপরেও মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি ফতেমা বিবি। সোমবার সকালে তিনি কোনমতে ভোট দিতে পারলেও তাঁর স্বামী সাবির মোল্লা ভোট দিতে পারেননি। মারধর করেই তাঁকে বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়। সাবির মোল্লা এদিন মিছিলে বলছিলেন, নিজের স্ত্রীকে ভোট দিতে দেয়নি, এখন উলটে আমাদের বিরুদ্ধেই মামলা রুজু করছে পুলিশ। যদিও খামারআইট, মাছিভাঙার মত জমি কমিটির শক্ত ঘাঁটিতে যদিও ভোট হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবেই, কোনও ধরনের হামলার ঘটনা সেখানে ঘটেনি। 
মাছিভাঙা থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ মিছিলে সেভ ডেমোক্র্যাসির তরফে চঞ্চল চক্রবর্তী, ভারতী মুৎসুদ্দি শামিল হন। ভাঙড়ে যেভাবে বন্দুকের নলে পুলিশের সামনে তৃণমূলীরা ভোট লুট করে তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পুনর্নির্বাচনের দাবিও তোলেন তাঁরা। ভাঙড়-২নম্বর ব্লকের পোলেরহাট-২নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৬টি আসনের মধ্যে ৮টি বিনা ভোটেই জেতে তৃণমূল। বাকী আটটির মধ্যে একটি পেলেই পঞ্চায়েত দখল করা যাবে, সেই অঙ্ক করেই সোমবার সকাল থেকে আরাবুল ইসলামের বাড়ি লাগোয়া দুটি বুথে দশটার মধ্যে ভোট শেষ করে দেয় তৃণমূল। পঞ্চায়েত সমিতিতে আরাবুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন ২২ বছরের সরিফুল মোল্লা। তাঁকেও ভোটের দিন সকালে বুথের বাইরেই বেধড়ক মেরে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় তৃণমূলীরা।

Featured Posts

Advertisement