কখনো ভিন্নধর্মী হলেও
তাঁর কথা  সর্বতোভাবে
ছিল মানুষের স্বার্থেই

অশোক মিত্রের স্মরণসভায় বিমান বসু

কখনো ভিন্নধর্মী হলেও<br>তাঁর কথা  সর্বতোভাবে<br>ছিল মানুষের স্বার্থেই
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১৫ই মে— শোষিত ও নিপীড়িত মানুষের স্বার্থে কথা বলতেন তিনি। সত্যি কথা তুলে ধরতেন স্পষ্টভাবে। হয়তো অনেক সময় একটু ভিন্নধর্মী হতো তাঁর বক্তব্য, তবুও তা সর্বতোভাবে ছিল মানুষের স্বার্থেই। মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার কথা বলতেন অত্যন্ত জোড়ালোভাবে। প্রয়াত অর্থনীতিবিদ ড. অশোক মিত্রকে স্মরণ করে বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, এভাবেই সাধারণ মানুষের স্বার্থে ধারাবাহিকভাবে কাজ ও ভাবনা চিন্তার লক্ষ্য নিয়ে চলাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো।
মে দিবসে প্রয়াত হন ড. অশোক মিত্র। একসময়ে ছিলেন ভারত সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। ছিলেন প্রথম বামফ্রন্ট সরকারের অর্থমন্ত্রীও। সাংসদ হিসাবে সংসদে তুলে ধরছেন শ্রমজীবীদের কথা। সমাজচর্চা ট্রাস্ট ও আরেকরকম পত্রিকা-র উদ্যোগে মঙ্গলবার তাঁর স্মরণসভা আয়োজিত হয় ইউনিভার্সিটি ইনস্টটিউট হলে। বিমান বসু ছাড়াও তাঁকে স্মরণ করেন সমাজবিজ্ঞানী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অধ্যাপিকা জয়তী ঘোষ। সভায় শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন মালিনী ভট্টাচার্য। ছিলেন কবি শঙ্খ ঘোষ, শিক্ষাবিদ অমিয় দেব, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত, সি পি আই (এম) রাজ্য সম্পাদক সূর্য মিশ্র, সি পি আই নেতা মঞ্জু মজুমদার, আর এস পি নেতা ক্ষিতি গোস্বামী, ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা ড. বরুণ মুখোপাধ্যায়, আর সি পি আই নেতা মিহির বাইন, ডি এস পি নেতা প্রবোধ সিনহাসহ অন্যান্যরা। শুরুতে ড. মিত্রের প্রতিকৃতিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তাঁরা। 
সত্তরের দশকে চলা জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করে বিমান বসু বলেন, সেই সময়ে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া ও গণতন্ত্র ধ্বংস চলছিল। তার তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন ড. মিত্র। যেখানে যতটা পেরেছেন বলেছেন, লিখেছেন ধারাবাহিকভাবে। ১৯৭৭ সালের পর যে ৩৬ দফা নির্বাচনী ইশ্‌তেহার কর্মসূচি তৈরি হয়েছিল, মন্ত্রী হওয়ার পর সেসব তিনি যথাযথ রূপায়িত হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতেন। ভূমি সংস্কারে জমি বণ্টন, অপারেশন বর্গা ইত্যাদিতে ছিল তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক প্রসঙ্গ যখন শুরু হলো ১৯৭৮ সালে, তখন তিনি নিয়েছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কৃষক ও শ্রমিকদের জন্য অধিকারের লড়াইকে তিনি অগ্রাধিকার দিতেন সব সময়ে। তাতে সমাজ অনেকটাই সমৃদ্ধ হয়েছে। এই লড়াই আমাদের চালিয়ে যেতে হবে। শোক প্রস্তাবে মালিনী ভট্টাচার্য বলেন, শিরদাঁড়া সোজা রেখে চলতেন অশোক মিত্র। লেখনিকেই সমাজ চেতনার হাতিয়ার করেছিলেন তিনি।
এদিন স্মৃতিচারণায় প্রয়াত অর্থনীতিবিদের তিনটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট তুলে ধরেন অধ্যাপিকা জয়তী ঘোষ। তিনি বলেন, সত্যিটা সব সময়ে তুলে ধরতেন অশোক মিত্র। তা অনেক সময়ে প্রিয়জনের কাছে অপ্রিয় হলেও সত্যিটা বলতেন। কোথাও কিছু ভুল হলে তা-ও বলতেন, প্রতিবাদ করতেন। তাঁর ধারণা বা চিন্তা ভাবনাগুলির ছিল একটা শক্ত ভিত্তি। বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে ভারতের কথা বলতেন খুব স্পষ্টভাবে। নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতেন না। এছাড়াও একনিষ্ঠভাবে কোনও কাজ শুরু করলে, তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছাড়তেন না। এই শেষ বয়সেও অশক্ত শরীরে তাঁর প্রাণশক্তি ছিল অতুলনীয়। আরও একটি বিশেষ গুণ ছিল তাঁর। তিনি ছিলেন খুবই স্নেহশীল, অনুজদের সঙ্গে ছিল অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, একদিকে দেশে কৃষি ও শিল্পের বিকাশ, অন্যদিকে পুঁজিবাদী চরিত্রের প্রকাশ— এসব নিয়েই গভীরভাবে ভাবনা চিন্তা ছিল তাঁর। তীব্র ভাষায় সেই সময়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও তিনি সোচ্চার ছিলেন। বন্দিমুক্তি নিয়েও তাঁর অবস্থান ছিল অনড়। ভালো শিক্ষক ছিলেন, পরোপকার ছিল তাঁর আর একটি গুণ। এরকম মানুষের সান্নিধ্যে এলেই সমৃদ্ধ হওয়া যেত অনেকটাই।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement