কাকদ্বীপের দুষ্কৃতী
আড়ালে
সক্রিয় নবান্ন

ফরেন্সিকের তথ্যে মিলছে সূত্র তার ছেঁড়েনি, ‘এম সি বি অন’

কাকদ্বীপের দুষ্কৃতী<br>আড়ালে<br>সক্রিয় নবান্ন
+

নিজস্ব সংবাদদাতা: কাকদ্বীপ, ১৫ই মে— নবান্নের ‘ময়নাতদন্তের’ প্রায় কুড়ি ঘণ্টা পরে বুধাখালির ঘটনাস্থলে ময়নাতদন্তের তথ্য সংগ্রহ করতে গেল ফরেন্সিক টিম।
বুধাখালির বধ্যভূমিতে মঙ্গলবার দুপুরে ফরেন্সিক টিম কী পেল? প্রথমত, বিদ্যুতের ‘এম সি বি’ ছিল ‘অন’। শর্ট সার্কিট হলে যা হওয়া সম্ভবই না। কোনও বাড়িতে শর্ট সার্কিট হলে সঙ্গে সঙ্গে মিটার বক্সের ‘এম সি বি’ পড়ে যায়। অফ হয়ে যায়। যদিও বুধাখালিতে গিয়ে ফরেন্সিক টিম মঙ্গলবার দুপুরেও এম সি বি অন দেখেছেন। তা নিয়ে তারা আলোচনাও করেছেন। দ্বিতীয়ত, কোথাও তার ছেঁড়ার কোনও চিহ্ন নেই। তৃতীয়ত, যেখানে সি পি আই (এম) কর্মী দম্পতির দগ্ধ দেহ মিলেছিল বুধাখালিতে, সেই মাটির বারান্দার উপরের চাল পোড়েনি, জ্বলেনি। কিন্তু তার ছিঁড়ে পড়ে আগুন লাগলে কাঁচা চাল, ঘটনাস্থলের চারদিকে থাকা বেড়া অবিকৃত থাকতে পারে না।
রবিবার, পঞ্চায়েত ভোটের আগে, মাঝরাতে ওই দুই পার্টিকর্মী খুন হয়েছেন। নবান্নে এ ডি জি আইনশৃঙ্খলা অনুজ শর্মা সাংবাদিকদের ‘বিদ্যুতের তার ছেঁড়ার কারণে মৃত্যুর’ কথা জানিয়েছেন সোমবার বিকাল পৌনে ছ’টা নাগাদ। তারও প্রায় বিশ ঘণ্টা পরে, মঙ্গলবার দুপুর ১টা নাগাদ ফরেন্সিকের দল ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ‘‘ফরেন্সিক রিপোর্ট পেতে পাঁচ-সাত দিন সময় লাগবে।’’ সাধারণত তাই লাগে। এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে ফরেন্সিক রিপোর্ট ছাড়া মৃত্যুর কারণ বলা সম্ভব হয় না। সি পি আই (এম) দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সম্পাদক শমীক লাহিড়ী মঙ্গলবার বলেছেন, ‘‘এত দক্ষতা কবে থেকে হলো রাজ্য পুলিশের? ময়নাতদন্তের আগে, ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থলে যাওয়া, নমুনা সংগ্রহ, তা বিশ্লেষণ করার অনেক আগে নবান্ন থেকে বলে দেওয়া যাচ্ছে ঘটনার কারণ কী? ফরেন্সিক দলের পরীক্ষার আগে নবান্ন ময়নাতদন্তও করে ফেলতে পারছে? এই থেকেই পরিষ্কার যে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে শাসকদলের দুষ্কৃতীদের।’’ 
প্রসঙ্গত, নবান্নের ঘোষণার আগে কাকদ্বীপের বিধায়ক, রাজ্যের সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মণ্টুরাম পাখিরা প্রথম ওই বিদ্যুৎবাহী তার ছিঁড়ে পড়ার কারণে মৃত্যুর কথা বলেন। তিনি পুলিশ নন, চিকিৎসক নন, গোয়েন্দা নন। গ্রামবাসীরা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘মণ্টুরাম পাখিরা কী করে জানল কী ঘটেছে? তিনি তো ঘটনাস্থলেই আসেননি। কাকদ্বীপ থানার পুলিশও তো সোমবার দুপুরে প্রথম ঘটনাস্থলে আসে। আমরা অবিলম্বে অভিযুক্ত তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার চাই।’’
শহীদ দুই পার্টিকর্মী হলেন দেবপ্রসাদ দাস (৫০) ও তাঁর স্ত্রী ঊষারানী দাস (৪১)। দেবপ্রসাদ দাস বাড়ির পাশের নদীতে মীন ধরতেন। কখনও দিনমজুরের কাজও করতেন। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছেলে দীপংকর দাস বি এ তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। কাছাড়িবাড়ি গ্রামে তাঁদের বাড়ি। বাড়িটি লোকালয় থেকে কিছুটা দূরে। অভিযোগ পার্টিকর্মী দম্পতির ঘরে তাঁদের হাত পা বেঁধে, মোবিল ও কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীরা। তার আগে তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হয় বলেও দৃঢ় ধারণা গ্রামবাসীদের। আগের তিনদিন তাঁদের লাগাতার হুমকি দিয়েছে ২১৩ বুথের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অমিত মণ্ডল ও তার বাহিনী। ঘটনাদিন দুপুরেও তারা ভয় দেখিয়ে গেছে। গ্রামের মানুষ রাত প্রায় ১২টা নাগাদ দেবপ্রসাদ দাসের বাড়িতে তাঁরা আগুন দেখতে পান। রাত দেড়টা নাগাদ আগুন নিভে গেলে মৃতদেহ দেখতে পান তাঁরা। সস্ত্রীক সি পি আই (এম) কর্মী খুনের ঘটনায় কাকদ্বীপ থানায় মূল অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অমিত মণ্ডল, শিবপ্রসাদ মণ্ডল, চন্দন গিরি, শেখ মণিরুল, অশোক মণ্ডলসহ অন্যান্য দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অবশ্য কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। 
ঘটনার পর থেকে ওই বাড়িতে আর থাকতে পারেননি বাবা মা কে হারানো দীপংকর দাস। পার্শ্ববর্তী এক আত্মীয়র বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। তৃণমূলের জহ্লাদরা কেড়ে নিয়েছে তাঁর বাবা মাকে। হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি চাইছেন তিনি। এই লড়াইয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন গ্রামবাসীরা, স্থানীয় সি পি আই (এম) নেতৃত্ব । 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement