তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মজুত আগ্নেয়াস্ত্র ‘বুলেট প্রুফ’জ্যাকেট উদ্ধার বাসন্তীতে

তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মজুত আগ্নেয়াস্ত্র ‘বুলেট প্রুফ’জ্যাকেট উদ্ধার বাসন্তীতে
+

বাসন্তী, ১৬ই মে— বাসন্তীর পানিখালি থেকে উদ্ধার হল আগ্নেয়াস্ত্র। ৩ দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার ভোরে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, একটি দোনলা বন্দুক, ২০ রাউন্ড কার্তুজ, ধারালো অস্ত্র সহ বোমা তৈরির প্রচুর সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে বুলেট প্রুফ টিনের জ্যাকেট। এই ঘটনায় ৩জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বাসন্তী থানার পুলিসের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। 
বাসন্তী থানার ফুলমালঞ্চ গ্রাম পঞ্চায়েতের পানিখালি নেবুখালি গ্রামে মঙ্গলবার শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ হয়। স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীকোন্দলের জেরে ওই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৬ জন জখম হয়েছে। প্রকাশ্যে বোমা, বন্দুক নিয়ে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর দুষ্কৃতীরা ওই এলাকায় দাপিয়ে বেড়ায়। এই সংঘর্ষে ৫জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বোমার আঘাতে হাত উড়ে গেছে একজনের। গোটা ঘটনায় শাসকদলের এলাকা দখলকেই দায়ী করেছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। দুই পক্ষের কাছেই প্রচুর পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র মজুত রয়েছে বলে জানান গ্রামবাসীরা। তাঁরা এদিন অভিযোগ করে বলেছেন, এলাকা জুড়ে সন্ত্রাস চলছে। সাধারণ মানুষ অসহায়। এখানে শিশুর ঘুম ভাঙে বোমা, গুলির শব্দে। আইনের কোন শাসন নেই। দুষ্কৃতীরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদিকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে ওই গ্রামের মানুষ বলেন, নিরীহ তিন গ্রামবাসীকে পুলিশ ধরেছে। উভয় পক্ষের দুষ্কৃতীরা শাসকদলের আশ্রিত হওয়ায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করার সাহস বাসন্তী থানার পুলিসের নেই। পানিখালি শুধু নয়, ফুলমালঞ্চ গ্রাম পঞ্চায়েত জুড়েই দীর্ঘদিন ধরেই চলছে অস্ত্রের ঝনঝনানি। এখানকার ২৩টি আসনের মধ্যে মাত্র ২টি আসনে সি পি আই (এম) ও ১টি আসনে আর এস পি প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছে। এই গ্রাম পঞ্চায়েতে মূলত শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যেই লড়াই হচ্ছে। নির্বাচনে বিরোধীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা, জমা দেওয়ার পর ভয় দেখিয়ে প্রত্যাহার করানো হয়েছে। নির্বাচনে বুথ দখল করে দেদার ছাপ্পা ভোট দেওয়া হয়েছে এমনই অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসীরা। তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী সংঘর্ষে এক গোষ্ঠী অপর গোষ্ঠীর চারটি বাড়ি ভাঙচুর করেছে। দুষ্কৃতীরা এখানে টিনের তৈরি বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ব্যবহার করে। এই জ্যাকেট উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ্যে এই ধরণের জ্যাকেট পরেই ঘোরে দুই গোষ্ঠীর আশ্রিত দুস্কৃতীরা। এলাকার দখলদারিকে কেন্দ্র করে পঞ্চায়েত নির্বাচনে নিজেরাই একে অন্যের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। নির্বাচন এখানেও প্রহসনে পরিণত হয়েছে। ভোট দিতে পারেননি স্থানীয় মানুষেরা। 
বুধবার ফুলমালঞ্চর একটি বুথে পুনর্নির্বাচন হলো। লুট করা হলো ভোট। এদিন সকাল থেকেই ৮৯ নম্বর বুথের পুনর্নির্বাচনে বুথ দখল করে তৃণমূলের সশস্ত্র দুস্কৃতী বাহিনী। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের বাইরে ছিল পুলিশের তিনটি গাড়ি। জনা কুড়ি পুলিস কর্মী বুথের বাইরে বসে দিনভর দোকানে চা খেয়ে বেঞ্চে বসেই ভাত ঘুম দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় মানুষ এই অভিযোগ করে বলেন, কোন ভোটারকে আর কষ্ট করে যেতে হয়নি ভোট দিতে। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ভিতরে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের তিন নেতা ছাপ্পা ভোট দিয়েছে। গ্রামে প্রহরায় ছিল তৃণমূলের এক গোষ্ঠীর সশস্ত্র দুষ্কৃতী বাহিনী। এনিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি বাসন্তী থানার পুলিসের আধিকারিকরা। গ্রামে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় বারুইপুর জেলা পুলিসের এক আধিকারিক জানান, ওই এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর অস্ত্র মজুত রয়েছে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। 

Featured Posts

Advertisement