সম্মিলিত প্রতিরোধেই রুখতে হবে
তৃণমূলের লুম্পেন বাহিনীর দাপট

বিশিষ্ট নাগরিকদের অভিমত

সম্মিলিত প্রতিরোধেই রুখতে হবে<br>তৃণমূলের লুম্পেন বাহিনীর দাপট
+

কলকাতা, ১৬ই মে— দলমত নির্বিশেষে গণতন্ত্র রক্ষার অভিন্ন কর্মসূচিতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্ঘবদ্ধ করে সম্মিলিত প্রতিরোধেই রুখতে হবে তৃণমূলের লুম্পেন বাহিনীর দাপট। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে বিশিষ্ট নাগরিকদের আলোচনায় উঠে এল এই অভিমত। 
লোকসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে বুধবার বিকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, বিকাশ ভট্টাচার্য, কৌশিক সেন, বাদশা মৈত্র, মন্দাক্রান্তা সেনসহ বিশিষ্ট নাগরিকেরা। সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রকে বাংলায় ধ্বংস করছে তৃণমূল, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হলে শুধু দু’এক জনের কথায় হবে না, সম্মিলিত প্রতিরোধ প্রয়োজন। তাঁর মতে, এটা খুবই উদ্বেগের যে, চোখের সামনে একের পর খুন, হিংসা দেখেও মানুষ সহ্য করছেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনে ২৯জন মানুষ হিংসার বলি হয়েছেন, তারপরেও তো বহু সংখ্যক মানুষ এগিয়ে এসে নিন্দা করছেন না। পঞ্চায়েত ব্যবস্থা গ্রামীণ মানুষের কাছে গণতন্ত্র অনুশীলনের স্থান, পঞ্চায়েতের মাধ্যমে যেটুকু সুযোগ সুবিধা তাঁরা পান, তা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বাংলায় এমন ঘটনা ঘটছে দেখে মাথা নিচু হয়ে যায় প্রতিদিন, যে বাংলার সংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি গর্ব বোধ করত, তার মূলে আঘাত হানা হচ্ছে। 
সহমত পোষণ করে রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, কৌশিক সেন বলেন, বাংলার হিংসা খুন নিয়ে মোদীর মতো খুনিও উপদেশ দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে, যা খুবই উদ্বেগের। রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘শঙ্খ ঘোষের মতো কবিকে অনুব্রত মণ্ডল কটু কথা বলবেন তা স্বাভাবিক, উদ্বেগের বিষয় মুখ্যমন্ত্রীর নীরবতা। রাজনীতিতে সৌজন্যের পরিসর ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। তবে শাসককে বুঝিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে এই বেল্লেলাপনা মানুষ মেনে নেবেন না। হরিদাস পাল হোক হিটলার সবাইকেই মানুষের কাছে হারতে হয়েছে। লুম্পেন বাহিনী যা কাজকর্ম করছে, তাতে মানুষ পশুতে পরিণত হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খানিক হালকা মেজাজেই রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত বলেন ‘যা ঘটছে কেন ঘটছে কি কারণে ঘটছে তা সাধারণ মানুষ দিব্যি বুঝতে পারছে, ধোঁয়াশায় রয়েছে আমাদের মতো ‘ফাংশানাল ইন্টেলেকচুয়াল’দের নিয়েই।’’ থিয়েটারের মাধ্যমে মানুষের কাছে বিপদের কথা তুলে ধরতে হবে বলে জানান তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, এ রাজ্যে তৃণমূলের বিকল্প হিসাবে বি জে পি-র উত্থান ঠেকাতে সক্রিয়ভাবে মাঠে ময়দানে নামা উচিত বামপন্থীদের।
কৌশিক সেন বলেন, অনুব্রতদের দিয়ে ইচ্ছে করে শাসক এমন কথা বলায় যাতে সহজেই ওর কথার গুরুত্ব নেই বলে উড়িয়ে দেওয়া যায়। বাংলায় যা যা ঘটছে তা খুবই ভীতিপ্রদ। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম পর্বে যাঁরা তৎকালীন শাসকের বিরুদ্ধে পথে নেমেছিলেন, সরব হয়েছিলেন, তাঁদের নীরবতার আমি যেমন বিরোধিতা করছি তেমনি তাঁরা কেন সরব হচ্ছেন না সেই নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপও সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি বলেন, সরকারি কমিটি, নাট্য অ্যাকাদেমির সদস্য হওয়ার জন্য তাঁরা বলতে পারছেন না। সেই সময়ের অনেক বন্ধুই এখন মন্ত্রী হয়েছেন, সাংসদ হয়েছেন, বিধায়ক হয়েছেন। তৃণমূল আমলে থিয়েটার জগৎ আক্রান্ত হয়েছে, ‘নাট্য স্বজন’ সংস্থা খুলে কেবল তৃণমূলপন্থীদের বাইরে কল শো-তে ডাকা হয়েছে, ভালো হল পেতে সমস্যা হয়নি তাঁদের। মানুষ যে আশা নিয়ে পরিবর্তন এনেছিল এখন তার উলটো ঘটনা ঘটছে। কৌশিক সেন বলেন ‘আই ফেল্ট চিটেড। সেই সময় যাঁরা একসাথে পথে নেমেছিলাম আমরা ঠিক করেছিলাম যে সরকারই আসুক না কেন আমরা কোন রাজনৈতিক দলে ভিড়ে যাব না। একটা ডেমোক্র্যাটিক প্ল্যাটফর্ম থাকা প্রয়োজন ছিল। স্বপন কুমারের লেখার মতো দেখলাম কি হইতে কি হইয়া গেল, অনেকেই শাসকের বন্ধু হয়ে উঠলেন। সাংবাদিকদের একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, তৃণমূলের কোন রাজনৈতিক দর্শন নেই, তারা অনুকরণ করে এগতে চায়, সেকারণেই বি জে পি-র পালটে তৃণমূলও রামনবমী, হনুমান জয়ন্তী পালন করছে যা অত্যন্ত উদ্বেগের। তৃণমূলের ভূমিকার জন্যই রাজ্যে বি জে পি-র জমি শক্ত করছে। 
বাদশা মৈত্র বলেন, শঙ্খ ঘোষের মতো কবি বলছেন উন্নয়ন খড়গ হাতে দাঁড়িয়ে। কবিরা দূর দেখতে পান এখন এই অবস্থা চললে ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে। মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধ ঠেকাতে পারে এই শক্তিকে।  মন্দাক্রান্তা সেন বলেন, শাসকদল যদি সত্যিই উন্নয়ন করে থাকে তাহলে এই হিংসার পথ কেন। বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনে যা ঘটেছে তা আগে কোনদিন ঘটেনি। যেকোন গণতান্ত্রিক চেতনা, মূল্যবোধে আঘাত হানছে শাসকদল। আর এস এস-র বিশ্বস্ত বাহিনী হিসাবে এরাজ্যে কাজ করছে তৃণমূল। এছাড়াও সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চঞ্চল চক্রবর্তী, দীপালি ভট্টাচার্য। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement