মুখের ক্যানসারে দায়ী
জিন চিহ্নিত গবেষণায়

মুখের ক্যানসারে দায়ী<br>জিন চিহ্নিত গবেষণায়
+

সাম্য রাহা:কল্যাণী, ২২মে— মুখের ক্যানসারের জন্য দায়ী জিন চিহ্নিত করার কাজে অনেকটা এগলেন ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিক্যাল জেনোমিক্সের বিজ্ঞানীরা। মুখের ক্যানসারের সাথে প্রধানত সম্পর্কযুক্ত দশটি জিনকে চিহ্নিত করতে পেরেছেন এখানকার বিজ্ঞানীরা। সংস্থার বিজ্ঞানী ড. পার্থপ্রতীম মজুমদার জানিয়েছেন, এই জিনগুলি মূলত টিউমার দমনকারী জিন। এরা সবসময় শরীরে প্রোটিন তৈরি করে যা ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা নেয়। কিন্তু ডি এন এ-র পরিবর্তন হলে এই জিনগুলি আর সক্রিয় থাকে না। সুপ্ত হয়ে যায়। অনেকটা যেন কুম্ভকর্ণের মতো গভীর নিদ্রায় চলে যায়। এদের সক্রিয় না করতে পারলে ক্যানসার দমন করাও সম্ভব নয়। চিকিৎসাতেও সঠিক সাড়া মেলে না। এছাড়াও শরীরে থাকে ‘অঙ্কোজিন’। যারা সাধারণত ঘুমিয়ে থাকে। কিন্তু কোনও এক কারণে এই জিনগুলির ডি এন এ-র পরিবর্তন হলে তারা প্রোটিন তৈরি করতে শুরু করে এবং কোষের মধ্যে পরিবর্তন নিয়ে আসে এবং পরিবর্তিত কোষে ক্যানসার দেখা দেয়। 
পার্থপ্রতীম মজুমদার জানিয়েছেন, সংস্থার গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ‘অ্যারাসিডোনিক অ্যাসিড মেটাবলিজম পাথওয়ে’-তে ওই দশটিসহ আরও অনেক জিন রয়েছে। যাদের মধ্যে জিনগত পরিবর্তনকে জৈবিক গতিপথের মধ্যে ‘ম্যাপ’ বা মানচিত্র করে ক্যানসারের সাথে ওই জিনগুলির সম্পর্ক লক্ষ্য করা যায়। এই ‘গতিপথের প্রভাব’ বন্ধ করতে পারলেই মুখের ক্যানসার চিকিৎসায় অনেকটা সুফল মিলবে বলে দাবি ড. পার্থপ্রতীম মজুমদারের। তিনি বলেছেন, অনেক সময় রক্ত তরল রাখতে বহুল ব্যবহৃত ‘অ্যাসপিরিন’ জাতীয় ওষুধেই মিলতে পারে সেই সুফল।
তিনি জানান, মুখের ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্রথমে ১৩০ আক্রান্ত রোগী নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা শুরু করি, পরে তা বেড়ে ২৭২ জন রোগী নিয়ে এই পর্যালোচনা চলে। প্রথম থেকেই একই পর্যবেক্ষণ লক্ষ্য করা গেছে। 
মুখের ক্যানসারে আরও একটি অন্যতম দিক রয়েছে একটি টিউমারে ক্যানসার দেখা যাবার পর অনেক সময় অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গে তা ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। যাকে চিকিৎসা পরিভাষায় ‘মেটাস্টাটিস’ বলা হয়ে থাকে। সব মুখের ক্যানসারের রোগী এই সমস্যায় না পড়লেও প্রায় ৩০ শতাংশ রোগীর এ সমস্যাও দেখা যায়। সেক্ষেত্রে যদি আগে থেকে রোগীর এই ধরনের সমস্যা দেখা দেবে কিনা নির্ণয় করতে পারা যায় তবে চিকিৎসা করতে বা তা রোধ করতে সুবিধা হবে। 
কোন কোন জিন মুখের ক্যানসার অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার জন্য দায়ী তারও নতুন খোঁজের কথা বলছেন ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অব বায়ো মেডিক্যাল জেনোমিক্সের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা মূলত তিনটি জিনকে ইতিমধ্যে চিহ্নিত করেছেন। তারমধ্যে অন্যতম একটি যা স্তন ক্যানসারের সাথে সম্পর্কযুক্ত। সেটি হলো বি আর সি এ -২। প্রধানত এই জিনটি ‘কোষ চক্র’ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি যখন ঠিকমতো নিয়ন্ত্রিত হয় না, তখন এই ধরনের ক্যানসার অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement