‘জোটনিরপেক্ষ’ নিরাপত্তা
কাঠামো চায় দিল্লি, মস্কো

এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে 

‘জোটনিরপেক্ষ’ নিরাপত্তা<br>কাঠামো চায় দিল্লি, মস্কো
+

মস্কো ও নয়াদিল্লি, ২২শে মে— এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ‘কোনও ব্লক নয়’ এমন, অথবা ‘জোটনিরপেক্ষ’ নিরাপত্তা কাঠামো থাকা উচিত বলে সহমত হয়েছে ভারত, রাশিয়া। 
সোচিতে, সোমবার রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে ‘ঘরোয়া’ বৈঠকে তাঁরা এনিয়ে একমত হয়েছেন বলে রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ‘ইনফরম্যাল’ বৈঠক, কারণ এতে ছিল না কোনও প্রতিনিধিদলের কাঠামো, যাতে এই বৈঠক হয় অনেক বেশি নমনীয়, যাতে দুই নেতা অনেক খোলামেলা আলোচনা করতে পারেন। বৈঠকে হয়নি কোনও চুক্তি। চীনের ইউহান শহরে রাষ্ট্রপতি শি জিনপিঙের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠকের একমাসের মধ্যেই সোচিতে পুতিনের সঙ্গে এরকম বৈঠক করলেন মোদী। 
বৈঠক নিয়ে ভারতের তরফে দেওয়া কোনও ভাষ্যে এ ধরনের বিষয়ে যে দুই নেতা সহমত হয়েছেন, তার কোনও উল্লেখ নেই। সাম্প্রতিক রুশ (এবং চীনের) কূটনৈতিক শব্দ নির্বাচনে ‘ব্লক’ শব্দটি নিন্দার্হ অর্থে ব্যবহার করা হয়— যেখানে ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে চতুর্দেশীয় ব্লক বা ‘কুয়াদ’ তৈরি হয়, তাদেরকে বাইরে রেখে। 
রুশ সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামো উন্মুক্ত হওয়া উচিত বলে সহমত হয়েছেন দুই নেতা। সেইসঙ্গেই, ‘কোনও ব্লক নয়’ এমন নীতির ভিত্তিতেই তা হওয়া বাঞ্ছনীয় বলে তাঁরা একমত হয়েছেন। 
রুশ রাষ্ট্রপতির গ্রীষ্মকালীন আবাস বোচারভ রুচেই-তে দুই নেতা প্রায় তিনঘণ্টার মতো বৈঠক করেন। পরে দুই নেতা কৃষ্ণ সাগরে নৌকাবিহার করেন। 
‘রাষ্ট্রপতি পুতিন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদী দু’জনেই এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো ও সহযোগিতা তৈরির প্রশ্নে অবিচল— কোনও ব্লক নয় এমন, উন্মুক্ত, ন্যায়সঙ্গত এবং অবিভাজ্য-নিরাপত্তাই যার ভিত্তি হওয়া উচিত বলে তাঁরা মনে করেন।’ লাভরভের উদ্ধৃতি দিয়ে এমনই জানিয়েছে তাস। রুশ বিদেশমন্ত্রকের সরকারি ভাষ্যকে ভাষান্তর করলে, লাভরভের ব্যবহৃত শব্দের অর্থ দাঁড়ায় ‘জোটনিরপেক্ষর নীতি।’ 
ভারতের তরফে শুধু জানানো হয়েছে, দু’পক্ষ বেশি আলোচনা করেছে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে। বিদেশমন্ত্রকের তরফে একটি ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিষয়সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে একে-অপরের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রশ্নে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ 
ভারতের বিদেশমন্ত্রক এখন এই অঞ্চলকে বোঝাতে ওয়াংশিংটনের পছন্দমতো ‘ভারত-কেন্দ্রিক’ শব্দই ব্যবহার করছে, যেখানে রাশিয়া এখনও একে ‘এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল’ বলাতেই অনড় রয়েছে। 
চীনকে সবদিক থেকে ঘিরে রাখতে প্রায় এক দশক আগেই চতুর্দেশীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা বা কুয়াদের মতো একটি ব্লক তৈরির উদ্যোগ নেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু, তা এতদিনের আলো দেখেনি। ট্রাম্প আসার পরেই তাকে নতুন অক্সিজেন দিতে চাইছেন। গত বছরই নভেম্বরে ফিলিপাইনসের ম্যানিলায় মিলিত হন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার উচ্চপদস্থ কর্তারা। শুরুর বৈঠকে স্ট্র্যাটেজিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ‘ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল’কে মুক্ত, অবাধ এবং সবার জন্য সমান সুবিধার ক্ষেত্র হিসাবে রাখা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। ‘কুয়াদ’ কোনও যৌথ বিবৃতি না দিলেও, চারটি দেশ আলাদা করে জানায় তাদের বক্তব্য, অগ্রাধিকার। যদিও, প্রত্যেকেই চান আরও ‘উন্মুক্ত’ ‘ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। বিপরীতে, বিশেষজ্ঞরা এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান শক্তি চীনকে বাদ দিয়ে এই গোষ্ঠী গঠন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। 
কুয়াদের একমাস বাদেই লাভরভ ত্রিদেশীয় রাশিয়া-ভারত-চীনের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি রূদ্ধদ্বার ব্লক ব্যবস্থায় এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যথেষ্ট পরিমাণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি সম্ভব নয়। এটা একমাত্র সম্ভব উন্মুক্ত যৌথ ব্যবস্থা তৈরির মাধ্যমে— যার ভিত্তি হবে অবিভাজ্য নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন, বিতর্কের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা, সেনাবাহিনীর ব্যবহার এবং হুমকি ব্যতিরেকে।’ 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement