মানিয়ে নিচ্ছে
নতুন হৃদযন্ত্র

পর্যবেক্ষণে দিলচাঁদ

মানিয়ে নিচ্ছে<br>নতুন হৃদযন্ত্র
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ২২শে মে— ছন্দে ফিরছে দিলচাঁদ সিংয়ের হৃদয়। যন্ত্রের সহায়তা ছাড়াই মঙ্গলবার কাজ করতে শুরু করল তাঁর প্রতিস্থাপিত হৃৎপিণ্ড। সকালে অল্প কথাও বলেছেন। চিকিৎসকরা দিলচাঁদকে জল খেতে দিয়েছেন। পরিস্থিতি সবটাই রোগীর পক্ষে গেছে। ফর্টিস হাসপাতালের চিকিৎসকদের শেষ হাসিটা এখন সময়ের অপেক্ষা। বরুণ ডিকে যেন বেঁচে রইলেন দিলচাঁদের শরীরে।
ঝাড়খণ্ডের স্কুলশিক্ষক দিলচাঁদ সিংয়ের দেহে সোমবার সফলভাবে প্রতিস্থাপিত হয় সদ্য মৃত বেঙ্গালুরুর বরুণ ডিকের হৃৎপিণ্ড। চিকিৎসক তাপস রায়চৌধুরি এবং কে এম বন্দনার নেতৃত্বে পূর্ব ভারতে এই প্রথম কোনও রোগীর দেহে হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপিত করা গেল। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, দিলচাঁদ সিং মঙ্গলবার সকালে জল খেয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে কথাও বলছেন। তবু ৯৬ঘণ্টা না কাটলে, তাঁকে সম্পূর্ণ বিপন্মুক্ত বলা যাচ্ছে না। দিলচাঁদ সিং-কে সর্বক্ষণ পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ একটি নজরদারি দল গড়েছে ফর্টিস হাসপাতাল।
মঙ্গলবার সকালে হাসপাতাল সুপার ডাঃ আরাফত ফৈজল জানিয়েছেন, বেঙ্গালুরুতে ‘ব্রেন ডেথ’ হওয়া যুবক বরুণ ডিকের হৃদযন্ত্র সফলভাবে দিলচাঁদের শরীরে প্রতিস্থাপনের পর এখনও পর্যন্ত চিকিৎসাগত কোনও সমস্যা ঘটেনি। দিলচাঁদ সিং নতুন হৃৎপিণ্ড নিয়ে অনেকটাই স্বাভাবিক আছেন। এই ধরনের অস্ত্রোপচারের পর রোগীর যতটা সাড়া দেওয়া উচিত ততটাই তিনি দিয়েছেন। হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের ধকল তিনি ভালোই সামলেছেন বলে মনে করছেন হাসপাতাল সুপার।
এদিকে, সোমবার সফল অপারেশনের পর থেকে মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজ্যের সব মানুষের একটাই জিজ্ঞাসা— কেমন আছেন দিলচাঁদ সিং? এদিন নির্ধারিত সময়ে বুলেটিন প্রকাশ করেও তা হঠাৎ ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এতে বিভিন্ন মহলে নানারকমের জল্পনা মাথাচাড়া দেয়। পরে অবশ্য ফর্টিস হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশ করে জানায়— দিলচাঁদ সিংয়ের অবস্থা স্থিতিশীল। বরুণের হৃদযন্ত্র তাঁর শরীরে আগেই কাজ করা শুরু করেছিল। এখন বেশ মানিয়েও নিয়েছে।
তবুও হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের অপারেশনে অনেক সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই অন্তত ১০দিন আই সি ইউ-তে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বাইরে থেকে শরীরে কোনও অঙ্গ প্রতিস্থাপিত হলে দেহের ‘রিজেকশন’ প্রবণতা বেড়ে যায়। কারণ অনেক সময় সফল প্রতিস্থাপনের পরেও রোগীর দেহ বসানো হৃৎপিণ্ডকে প্রত্যাখ্যান করে। তাই চিকিৎসকরা কড়া ডোজের ‘ইমিউনো সাপ্রেসিং’ ওষুধ দেন। ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হয়। রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা যত বেশি হবে তত এই ‘রিজেক্‌শন’ বাড়ে। দিলচাঁদ সিং এই ওষুধ খুব ভালোভাবে কাজ করছে। এদিন রোগীর যা শারীরিক অবস্থা তাতে এখনই প্রত্যাখ্যানের আশঙ্কা কম। এখন কত তাড়াতাড়ি দিলচাঁদ সিং সুস্থ হয়ে ওঠেন সেটাই দেখার।  

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement