প্রাপ্য চেয়ে লাগাতার
আন্দোলন জয়ের জমি গড়েছে 

প্রাপ্য চেয়ে লাগাতার<br>আন্দোলন জয়ের জমি গড়েছে 
+

মধুসূদন চ্যাটার্জি: বাঁকুড়া ,২২শে মে— মঙ্গলবার গুমোট গরম ছিল সকালে। গাছের একটি পাতাও দুলছিল না। অসহ্য পরিবেশ। তার মধ্যেই লাল আবির উড়েছে হাতিবাড়ি আর তার লাগোয়া এলাকাতে।
কেন? এই দহনে বসন্ত কেন? খেতমজুর মহিলা গুরুমণি মুর্মু বললেন,‘‘তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। সেই জেদ ধরে রেখেই ভোটেও লড়েছি। বলেছিলাম — আমরা জিতব। ওদের( তৃণমূল) লাঠি, টাকা কোনও কিছুই আমাদের আটকাতে পারবে না। দেখলেন তো আমরা জিতলাম।’’ 
তাঁদের উচ্ছ্বাস শুধু হাতিবাড়ির মনের কথা নয় —সিমলাপালের দুবরাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতেরই অনুভব। শংকর মাহাতোর কথায়, ‘‘একে বিজয় মিছিল বলবেন না। আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূলকে পঞ্চায়েত থেকে সরিয়েছি। এবার পঞ্চায়েত তৈরি করবে সি পি আই (এম)। ওরা টাকা থেকে লাঠি সব কিছুই ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পারেনি।’’ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের সঙ্গে সিমলাপাল ব্লকে লড়াই করে, তাদের হটিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হয়েছিল সি পি আই (এম) প্রার্থীদের। তারপর শাসকদলের টাকার প্রলোভন ছিল। ছিল হুমকিও — লাগাতার। টলেনি দুবরাজপুর।
লড়াইয়ের এই জমিটা বেশ কিছুদিন ধরেই তৈরি হচ্ছিল গ্রামবাসীদের হাতে। কেন্দডাঙা গ্রামে বসবাসকারী ৭০টি খেতমজুর পরিবার এই পাঁচ বছরে রেগার একদিনও কাজ পাননি। একাধিক গ্রামে রেগার কোনও কাজ হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর পানীয় জলের প্রতিশ্রুতি, ঘোষণাকে মিথ্যা প্রমাণ করে অনেকগুলি গ্রামে পানীয় জল পৌঁছায়নি। বামফ্রন্ট সরকারের সময়কালে তৈরি টিউবওয়েলগুলি খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু সারানো হয়নি। দুবরাজপুরের দক্ষিণপাড়ার মানুষকে অন্য গ্রামে গিয়ে জল আনতে হয়। এলাকায় অনেক আদিবাসীও আছেন। জঙ্গলের জমির পাট্টা তো দূরের কথা, একটি আদিবাসী যুবকের সিভিক ভলান্টিয়ারে কাজও হয়নি। বার্ধক্য ভাতা দিনের পর দিন অদৃশ্য হয়ে যেতে থাকে। জীবিত মানুষ পঞ্চায়েতের খাতায় ‘মৃত’ হয়ে যান। পশ্চিম মেদিনীপুরের আমলাশুলিতে তাঁদের কাজ করতে যেতে হয়। ইন্দিরা আবাসন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর চাইতে গেলে শাসকদলের কর্মীদের প্রকাশ্যে ঘুষ চাওয়া এক স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠেছিল। গত পাঁচ বছরে কৃষকসভা, সি পি আই (এম) অনেকবার দুবরাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে অবস্থান করে ডেপুটেশন দিয়েছে। শাসকদল, পুলিশ আক্রমণ করেছে। তবু আন্দোলন থামেনি। 
পিঠাবাগড়া গ্রামের সনাতন রায় জানান, ‘‘তৃণমূলের এই পঞ্চায়েত বিরোধী দলের সমর্থকরা যেখানে বেশি সেখানে কাজ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। পঞ্চায়েত তো সবারই তাহলে কেন এই ভাগাভাগি?’’ 
লালঝান্ডা হাতে গ্রামবাসীদের আন্দোলনে লক্ষ্মীপাল বুথে রেগার কাজ আদায় হয়েছে। জানালেন সি পি আই (এম) নেতা বিপ্লব দাশ মহন্ত। সি পি আই (এম)-র ডাকে পঞ্চায়েতে অবস্থান করে লাগাতার। ১২জনের বন্ধ হওয়া বার্ধক্যভাতা চালু করতে বাধ্য হয় পঞ্চায়েত। মানুষের অসন্তোষ বুঝতে পেরে উঠেপড়ে লেগেছিল আন্দোলন দমন করতে। গত ৭ই মার্চ বাঁকুড়ায় সরকারিসভা করতে এসে মুখ্যমন্ত্রী জেলার দক্ষিণ বনাধিকারিকের উদ্দেশ্য বলেছিলেন যে, লালগড়ে বাঘ ঢুকেছে। এখানেও ঢুকতে পারে। নজর রাখুন। সে দিনই পিঠাবাগড়াতেই দেখা গেল তৃণমূলের কয়েকজন হাতে বাঁশ নিয়ে বাঘের সন্ধানে নেমে পড়েছে। কোথায় বাঘ? প্রতিদিন গুজব ছড়াতে থাকে। দুদিন পর পিঠাবাগড়ার জঙ্গল কে বা কারা পুড়িয়ে দিল। তৈরি করা হল আতঙ্ক। এতে কাজ হলো না। সি পি আই (এম) গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের কাছে গিয়ে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে। তারপর মানুষের জীবন জীবিকা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে। 
ছবি: সিমলাপালের দুবরাজপুর অঞ্চলের হাতিবাড়ি গ্রামে মঙ্গলবার লালঝান্ডার মিছিল। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement