সাবধানী হও, ইংল্যান্ডকে
বার্তা ক্যাপ্টেন কেনের

সাবধানী হও, ইংল্যান্ডকে<br>বার্তা ক্যাপ্টেন কেনের
+

বার্মিংহাম, ১২ই জুন— বিশ্বকাপ খেলতে রাশিয়ায় পৌঁছে গিয়েছে ইংল্যান্ড। প্রথা মেনে সাংবাদিক সম্মেলন সেরে বিশ্বকাপের জন্য পাড়ি দিয়েছে ইংল্যান্ড। অধিনায়ক হ্যারি কেনকে দেখা গেল, তারুণ্যের প্রাণশক্তিতে টগবগিয়ে ফুটছেন। শেষ কটা বিশ্বকাপে ইংরেজদের দম্ভ মাটিতে গড়াগড়ি খেয়েছে। গ্যারেথ সাউথগেটের তরুণ ব্রিগেড কিন্তু ‘এবারের বিশ্বকাপ আমরাই জিতছি’ ধরনের মশলা দেয়নি সংবাদমাধ্যমকে।
বার্মিংহামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন বলছেন, এই বিশ্বকাপে সাফল্য পেতে সাহসী ও আগ্রাসী হতে হবে। বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হবে বল দখলে রাখার ক্ষেত্রে আগ্রাসী ও সাহসী হওয়া। কঠিন সময় আসবে। চড়াই-উতরাই সবই দেখতে হবে। অনেক সময় বড় প্রতিযোগিতায় নামার আগে না হারার মানসিকতা নিয়ে নামতে হয়। কিন্তু আমরা আক্রমণাত্মক ফুটবলেই জোর দেব। প্রথম ম্যাচে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নামব। তারপর দ্বিতীয় ম্যাচ। এই মানসিকতাই ধরে রেখে বিশ্বকাপে এগব।’
হ্যারি কেনকে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ দলের অধিনায়ক করার দিন কেঁদে ফেলেছিলেন তাঁর মা। দেশ ছাড়ার আগে টটেনহ্যাম হটস্পার তারকা বলছেন, আবেগতাড়িত হয়ে চোখের জল ফেলার ছেলে তিনি নন। কেনের কথায়, ‘বিশ্বকাপে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া ভীষণ গর্বের অভিজ্ঞতা হতে চলেছে। মা খবরটা শুনে কেঁদেছিল। নিশ্চয়ই জীবনের এক বিশেষ মুহূর্ত। সবাই এই ধরনের স্বপ্ন বুকে নিয়ে বেড়ে ওঠে। কেউ জানে না, বাস্তবে স্বপ্নগুলো সত্যি হয় কি না। যদিও আমি কিন্তু একদম কাঁদিনি। সহজে কেঁদে ফেলার মতো নরম নই। হ্যাঁ, বিশ্বকাপ জিতলে নিশ্চয়ই কাঁদব।’
২০১৫ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক করেন হ্যারি কেন। পরিবর্ত হিসাবে মাঠে নামার ৭৯ সেকেন্ডের মধ্যেই প্রথম আন্তর্জাতিক গোল পান। তারপর থেকে থ্রি লায়ন্সের হয়ে ২৪ ম্যাচ খেলেছেন। গোল করেছেন ১৩টি। এই পরিসংখ্যানে কুয়াশা কাটবে না। আরও এমন কিছু দিক রয়েছে কেনের, যা ইংল্যান্ড সমর্থকদের ভাবনার বিষয়। ঠিক আগস্টের মতোই বিষয়। আগস্ট মাসে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের কোনও ম্যাচে হ্যারি কেন কস্মিনকালেও গোল করেননি। একইভাবে ইংল্যান্ড জার্সিতে এখনও পর্যন্ত বড় প্রতিযোগিতায় তাঁর করা গোলের সংখ্যা শূন্য। অধিনায়ক কেন জানান, ‘এই পরিসংখ্যান পালটে ফেলতে মরিয়া। বিশ্বাস করি, মানুষের জীবনে বিভিন্ন পর্যায় আসে। এখানেও তাই। কখনও বল গোলে ঢোকে। আবার কখনও ঢোকে না। ঠিক যেমনটা আগস্ট এলে আমার হয়।’
বিশ্বকাপ নিয়ে উচ্ছ্বসিত না হলেও অদ্ভুত এক রোমান্টিসিজম কাজ করছে অধিনায়কের মধ্যে। ব্যক্ত করতে গিয়ে আবেগ ধামাচাপা দিতে গিয়ে ডাহা ফেল তিনি। বলছিলেন, ‘বিশ্বকাপের ওপরে কোনও প্রতিযোগিতাকে রাখাই যায় না। এমন কোনও খেলোয়াড় পাবেন না, যে বলবে বিশ্বকাপের থেকে অন্য প্রতিযোগিতা তার কাছে দামি। সত্যি বলতে টটেনহ্যামের হয়ে সব খেতাব জিততে চাই। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বকাপ জয়ের ভারে সব কিছুই হালকা।’ ১৮ই জুন তিউনিশিয়ার বিরুদ্ধে এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করছে ইংল্যান্ড।

Featured Posts

Advertisement