ফুরফুরে মেজাজে
সাম্বা শিবির

ফুরফুরে মেজাজে<br>সাম্বা শিবির
+

সোচি, ১২ই জুন— ব্রাজিল মানেই ফুটবল। ব্রাজিল মানেই আবেগ। সারা পৃথিবীর অজস্র ফুটবলপ্রেমীর কাছে ফুটবলের শেষ কথাই ব্রাজিল। হলুদ-সবুজ ম্যাজিকে মুগ্ধ অনুরাগীর সংখ্যায় পিছিয়ে নেই রাশিয়াও। কৃষ্ণ সাগর উপকূলবর্তী শহর সোচিতে নেইমারদের পা দেওয়ায় সঙ্গে সঙ্গেই যাবতীয় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁরাই। সোমবার সোচিতে পৌঁছে মঙ্গলবার অনুশীলনে নেমে পড়ল টিটের দল। ফিফার নিয়মানুসারে প্রতিটি দলকে একদিন অনুশীলনে দর্শকদের প্রবেশাধিকার রাখতে হবে। ব্রাজিল দলের অনুশীলনে প্রথম দিনই ছিল ‘ওপেন প্র্যাকটিস’। তার উপর আবার ‘রাশিয়া ডে’ উপলক্ষে মঙ্গলবার ছিল জাতীয় ছুটি। এই সুযোগ কখনও হাতছাড়া করা যায়? করেনওনি রাশিয়ার ব্রাজিল অনুরাগীরা। 
স্থানীয় স্টেডিয়ামে ব্রাজিল দল যখন অনুশীলন করতে ঢুকছে তার অনেক আগে থেকেই গোটা স্টেডিয়াম ভর্তি। ৪০০০ দর্শককে মাঠে ঢোকার অধিকার দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়াও আরও কয়েক হাজার মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন ট্রেনিং গ্রাউন্ডের কাছে। নেইমারদের অনুশীলন দেখতে ভিড় জমানো অনুরাগীদের মধ্যে বেশিরভাগই স্থানীয়। স্টেডিয়ামে ভিড় জমিয়েছিলেন ব্রাজিল থেকে আসা সমর্থকরাও। বাটুকাডা এবং সাম্বার সুরে সোচিই যেন রিও ডি জেনেইরো। ড্রাম বাজিয়ে অবিরত গেয়ে চলেছেন সমর্থকরা। ফুটবলারদের সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। উন্মাদনার কেন্দ্রে ছিলেন নেইমারই। সমর্থকরা ফেন্সিং ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়ারও চেষ্টা করেন। কোনোরকমে সামলান নিরাপত্তারক্ষীরা। একজন সমর্থক খালি পায়ে হাতে একটা ফোন নিয়ে অনুশীলন মাঠের ভিতরে ঢুকেও পড়েন। তাঁকে কোনোমতে বাইরে বের করা হয়। 
মাঠের বাইরে যখন সমর্থকদের উন্মাদনা। মাঠের মধ্যেও ফুরফুরে ফুটবলাররা। মঙ্গলবার ছিল কুটিনহোর জন্মদিন। সতীর্থর জন্মদিনটা ‘স্মরণীয়’ করে রাখলেন নেইমার। কুটিনহো তখন মাঠের মধ্যে বসে। হঠাৎ নেইমার ডিম নিয়ে তাঁর মাথায় ফাটিয়ে দিলেন। অন্যরা ঢেলে দিলেন ময়দা। কুটিনহো কী করবেন বুঝে ওঠার আগেই অবশ্য যা হওয়ার হয়ে গেছে। তবে শুরুটা করে বাদ যাননি নেইমার। তাঁর মাথায় ডিম ফাটাতে রীতিমতো কুস্তি লড়লেন মার্সেলো। এই দলটা চাপে আছে? না বিশ্বকাপের দিন দুয়েক আগে তা বোঝার উপায় নেই। পুরো দলটাই ভীষণ রকম ফুরফুরে। ফিরে আসার লড়াইয়ে এটাও যে ভীষণ প্রয়োজন। 
ব্রাজিল দলে এবার ভরসা জোগাচ্ছেন অ্যালিসন। রোমার এই বছর পঁচিশের গোলরক্ষককে নিতে ইতিমধ্যেই লড়াইয়ে নেমেছে একাধিক ক্লাব। এদিন অ্যালিসনকেই সাংবাদিক সম্মেলনে পাঠানো হয়েছিল। অ্যালিসনের এখন একমাত্র ফোকাস বিশ্বকাপ। ব্রাজিলের গোলরক্ষক বলছেন সৃজনশীলতাই তাঁদের মূল অস্ত্র। ‘আমাদের খেলার পরিকল্পনা খুব পরিষ্কার। আমার প্রথম টাচ থেকে নতুন আক্রমণের শুরু। এই দল রক্ষণের ফুটবলাররা ধারাবাহিক ফুটবল খেলছে। এগারো জন ফুটবলারই ছন্দোবদ্ধ ফুটবল খেলছে।  গত দুটো অনুশীলন ম্যাচই বুঝিয়ে দিয়েছে এই দলের মূল অস্ত্রই হলো সৃজনশীলতা’, বলছেন এই মুহূর্তের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা অনেকেই ব্রাজিলকে ফেবারিট বলছেন। গত বছরের প্রাক-মরশুম প্রস্তুতিপর্বে শুরুটা হয়েছিল। দলের প্রতিটা ফুটবলারের জেতার তীব্র ইচ্ছাটাই ব্রাজিলকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, মত অ্যালিসনের। চোট কাটিয়ে নেইমার যে বিশ্বকাপে ছন্দেই থাকবেন আশা করছেন অ্যালিসন। ‘ধীরে ধীরে ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে। প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নেমেই গোল পাওয়া ওর খেলতে নামার ভয় অনেকটাই কাটিয়েছে। অস্ট্রিয়া ম্যাচ ওকে আরও গোল করার আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে’, বলছেন তিনি। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement