দিনভর ঠিকা কর্মীদের
বিক্ষোভ দমকলদপ্তরে

দিনভর ঠিকা কর্মীদের<br>বিক্ষোভ দমকলদপ্তরে
+

কলকাতা, ১২ই জুন- বহুতল অফিস বাড়ি থেকে রাস্তার ধারে ঝুপড়ি। জনবহুল বাজার থেকে গুদাম ঘর। ভোর হোক বা মাঝরাত, আগুন লাগলেই বেরিয়ে পড়েন ওঁরা আগুন নেভানোর কাজে। রাজ্যের দমকল ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ‘অক্সিলিয়ারি ফায়ার অপারেটর’ বা সহযোগী দমকল কর্মীরা। গত ছ’বছর ধরে জীবন বাজি রেখে আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে গেলেও ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা করছেন রাজ্যের ১৫৭২জন ঠিকা দমকল কর্মী। 
অস্থায়ী ঠিকা দমকল কর্মীদের স্থায়ীকরণের পরিবর্তে নতুন করে পি এস সি-র মাধ্যমে নিয়োগ করতে চাইছে সরকার, সোমবারই জারি হয়েছে বিজ্ঞপ্তি। ছাঁটাইয়ের আশঙ্কায় মঙ্গলবার দিনভর মির্জা গালিব স্ট্রিটে দমকল বিভাগের সদর দপ্তরে বিক্ষোভ দেখালেন কয়েকশো ঠিকা কর্মী।
২০১২সালে চুক্তি ভিত্তিতে অস্থায়ী দমকল কর্মীদের নিয়োগ শুরু করে রাজ্য সরকার। ২০১২ সালে ১৫৭জন, ২০১৩ সালে ৮০ জন এবং ২০১৬ সালে ৪০২জন সহযোগী দমকল কর্মীকে চুক্তি ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয়। বর্তমানে কলকাতা ও জেলাগুলি মিলিয়ে ১৫৭২জন অস্থায়ী দমকল কর্মী রয়েছেন। লিখিত পরীক্ষা, ইন্টারভিউ তারপর প্রশিক্ষণ পুরো প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিযুক্ত হয়েছিলেন তাঁরা। এদিনের বিক্ষোভে শামিল এক অস্থায়ী দমকল কর্মী ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছেন ২০১৬সালে খোদ মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ধাপে ধাপে স্থায়ী করা হবে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের। গত ছ’বছরে একজনও অস্থায়ী কর্মীকে ঠিকা করা তো হয়নি বদলে ২০১৮সালে ১৫ই মার্চ নির্দেশিকা জারি করা হয় বছরে ন্যুনতম ৯০দিনের পরিবর্তে ৮৯দিন কাজকে ধরা হবে যাতে অস্থায়ীদের স্থায়ীকরণের প্রশ্ন না আসে। মঙ্গলবারই ছিল ৮৯নম্বর তম দিন। সোমবারই নতুন করে পি এস সি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ১৪৫২টি শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে। ফলত ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা ছড়ায় ঠিকা কর্মীদের মধ্যে। 
মঙ্গলবার কাজের নিরাপত্তা ও স্থায়ীকরণের দাবিতেই মির্জা গালিব স্ট্রিটে দমকলের সদর দপ্তরে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন প্রায় সাতশোর বেশি ঠিকা দমকল কর্মী। সকাল এগারোটা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে। শেষ বেলায় দমকলের ডি জি অস্থায়ী কর্মীদের ডেকে আশ্বস্ত করার বদলে সাফ জানিয়ে দেন তাঁর এব্যাপারে কিছুই করার নেই, মন্ত্রী যা সিদ্ধান্ত নেবেন তাই চূড়ান্ত। আগামী দিনে রাজ্যের দমকল মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ফের নিজেদের স্থায়ীকরণের দাবি নিয়ে হাজির হবেন অস্থায়ী দমকল কর্মীরা। এদিনের বিক্ষোভে যোগ দেওয়া এক ঠিকা কর্মী জানিয়েছেন ‘দমকলে মোট কর্মীর প্রয়োজন ৫৪৭৬জন, বর্তমানে স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা ৩৭৮১জন। ১৬৯৫টি শূন্য পদের মধ্যে ১৪৫২টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। আমরা নতুন নিয়োগের বিরুদ্ধে নেই। আমাদের দাবি নতুন নিয়োগের পাশাপাশি আমরা যারা ছ’বছর ধরে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করে চলেছি তাদেরকেও স্থায়ী করুক সরকার’। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement