বন্ধের তালিকায় ১৬ খনি
বিক্ষোভে উত্তাল ই সি এল

বন্ধের তালিকায় ১৬ খনি<br>বিক্ষোভে উত্তাল ই সি এল
+

দুর্গাপুর, ১২ই জুন— ই সি এল-এর সমস্ত জি এম দপ্তর শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল হলো মঙ্গলবার। সি আই টি ইউ অনুমোদিত ভারতের কোলিয়ারি মজদুর সভা  (সি এম এস আই )-এর ডাকে সাড়া দিয়ে ব্যাপক সংখ্যায় শ্রমিকরা শামিল হন। কুনুস্তোরিয়া, সোদপুর, সালানপুর, শ্রীপুর, বাঁকোলা, কেন্দা, কাজোড়া, পান্ডবেশ্বর, এস পি মাইনস, মুগমা, রাজমহল প্রভৃতি এরিয়ার জেনারেল ম্যানেজারদের দপ্তর ঘিরে বিক্ষোভ-অবস্থান প্রতিবাদ সভা হয়। সি এম এস আই-এর সাধারণ সম্পাদক বিবেক চৌধুরি, সুজিত ভট্টাচার্য, দেবীদাস ব্যানার্জি, জি কে শ্রীবাস্তব, কিশোর ঘটক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। 
নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্রের নির্দেশে ই সি এল-এ খনি বন্ধ করা হচ্ছে। মাটির নিচে কয়লার প্রচুর মজুত ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও খনি বন্ধ করা হচ্ছে। সবই ভূগর্ভস্থ খনি। ২০১১ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ২০টি খনি বন্ধ করা হয়েছে। এখন ১৬টি ভূগর্ভস্থ খনিকে বন্ধের তালিকায় রাখা হয়েছে। ২০১৭ সালের ১৮ই জুন কেন্দ্রের যুগ্ম কয়লা সচিব লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে একতরফাভাবে খনি বন্ধ করা হবে না। শ্রমিক সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা করেই খনি বন্ধ করা হবে। অথচ কাউকে না জানিয়ে একতরফাভাবে কর্তৃপক্ষ খনি বন্ধ করছে। সেভাবেই আবার ১৬টি খনি বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রচুর পরিমাণে উন্নতমানের কয়লার মজুত ভাণ্ডার রয়েছে এই খনিগুলিতে। গ্রেড ৪-এর উন্নতমানের কয়লার মজুত রয়েছে ৭২মিলিয়ন টন চিনাকুড়ি-১ নম্বর খনিতে। এই খনিটি বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শীতলপুর কোলিয়ারিতে ২৩মিলিয়ন টন কয়লার মজুত ভাণ্ডার রয়েছে। পটাটমোহনাতে ২৪মিলিয়ন টন কয়লা রয়েছে। শ্রীপুর এলাকার খনিতেও প্রচুর পরিমাণ উন্নতমানের কয়লা রয়েছে। খনিগুলি বন্ধ করা হবে বলেই চলতি আর্থিক বছরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়নি। কোথাও পাম্প দরকার, কোথাও বালি ভরাট দরকার। লোকসানের অজুহাতে খনি বন্ধ করা হচ্ছে। গত আর্থিক বছরে সি আই এল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে। ৫৬৮মিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদিত হয়েছে সি আই এল-এ। ২০২০-২০২২ পর্যন্ত ৭০০ মিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রায়ত্ত খনিগুলি পূরণ করতে পারবে। তাসত্ত্বেও রাষ্ট্রায়ত্ত খনি বন্ধ করে বেসরকারি উৎপাদনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সি আই এল-এর ৮৪ হাজার কোটি টাকা রিজার্ভ ফান্ড ছিল। এই ফান্ড থেকে ৬৪ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সরকার সরিয়ে ফেলেছে বাইব্যাক পলিসির মাধ্যমে। আরও ১৬টি খনি বন্ধ হলে ৮ হাজার স্থায়ী শ্রমিক প্রভাবিত হবেন। ৩ হাজার ঠিকা শ্রমিক প্রভাবিত হবেন। ই সি এল-এ এখন মাত্র ৮৭ টি খনি রয়েছে। শ্রমিক রয়েছেন ৬২ হাজার। দাবি জানানো হয়, একটিও খনি বন্ধ করা চলবে না। আন্ডারগ্রাউন্ড খনিতে বিনিয়োগ করতে হবে। 
বাণিজ্যিক খননের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়। কয়লা পরিপূর্ণ নতুন ভূভাগ তুলে দেওয়া হবে বেসরকারি মালিকদের হাতে। মালিকরা কয়লা খনন উত্তোলন এবং কয়লার দাম নির্ধারণ করে বাজারজাতকরণ করতে পারবেন। বেসরকারি খাদানগুলিতে এ পর্যন্ত সমস্ত শ্রমিকই ঠিকা শ্রমিক। এই ঠিকা শ্রমিকদের ক্রীতদাস শ্রমিক করে রাখা হয়েছে। বন্ধুয়া মজদুর বা গোলাম শ্রমিক। ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নেই। বাইরের জগতের সঙ্গে সম্পর্ক যাতে না থাকে তেমন ভাবে ক্যাম্প করে এদের রাখা হয়েছে। আউটসোর্সিং-এর সমস্ত শ্রমিকই গোলাম শ্রমিক বলা যায়। রাষ্ট্রের শ্রমিককে বন্ধুয়া মজদুরে পরিণত করে আবার পুরানো দিনের কয়লা কুঠির জমানা ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। পেনশন তহবিল রুগ্‌ণ হয়েছে। এই তহবিলে অর্থ বরাদ্দের জোরালো দাবি জানানো হয়। এদিন সর্বত্র আহ্বান জানানো হলো, আরও বড়ো আন্দোলন গড়ে তোলো। কয়লাঞ্চল কয়লা খনি রক্ষার সংগ্রাম জোরদার করো।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement