সাংবিধানিক অধিকার
দায়িত্বের উপর দখলদারি 

বললেন মানিক সরকার

সাংবিধানিক অধিকার<br>দায়িত্বের উপর দখলদারি 
+

নিজস্ব সংবাদদাতা: আগরতলা, ১৩ই জুন— সি পি আই (এম) বিধায়ক দলকে ত্রিপুরার দুর্গম এলাকাগুলিতে মানুষের কাছে যেতে যেভাবে বাধা দিয়েছে বি জে পি-র দুর্বৃত্ত দল তাকে জনপ্রতিনিধিদের সাংবিধানিক অধিকার ও দায়িত্বের ওপর দখলদারি এবং হস্তক্ষেপ বলে চিহ্নিত করলেন সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো সদস্য ও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার। বুধবার আগরতলায় দশরথ দেব ভবনে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, এটা আসলে গণতন্ত্রের উপর হস্তক্ষেপ। 
ত্রিপুরার পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা উপজাতি নিবিড় এলাকাগুলিতে খাবার ও কাজের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রাজ্যের নবনির্বাচিত বি জে পি সরকার সেই সব সমস্যার সমাধানে সম্পূর্ণ উদাসীন। এই পরিস্থিতিতে মানিক সরকারের নেতৃত্বে সি পি আই (এম) বিধায়কদের এক প্রতিনিধি দল সরেজমিনে দেখতে রওনা হয়েছিলেন সোমবার। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সি পি আই (এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তপন চক্রবর্তী এবং বিধায়ক প্রভাত চৌধুরি। চারদিনের এই সফরে দুর্গম ১৩টি জায়গাকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। যার মধ্যে অধিকাংশ জায়গাতেই বি জে পি দুর্বৃত্তরা বিক্ষোভের নামে মানিক সরকারের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলকে ঢুকতে দেয়নি। প্রথমদিনই গণ্ডাছড়ায় মানিক সরকারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় বি জে পি কর্মীরা। ডাকবাংলোয় ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। মঙ্গলবারও বিভিন্ন জায়গায় মানিক সরকারকে যেতে বাধা দেওয়া হয়। সামান্য কিছু বি জে পি কর্মী থাকলেও মানিক সরকারই পুলিশকে বলপ্রয়োগ করতে মানা করেন। তারপরেও বেশ কয়েকটি জায়গায় বি জে পি-র বাধা উপেক্ষা করেই পৌঁছে যান মানিক সরকারসহ প্রতিনিধি দল। সেই সব জায়গায় জোয়ান-বৃদ্ধরা আসেন অভাব অভিযোগ জানাতে। মহিলারাও শিশুকোলে আসেন মানিক সরকারের সঙ্গে দেখা করতে। তাঁরা কাজ, খাবারের অভাবের কথা জানান। কাজের খোঁজে মানুষ বিপজ্জনকভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে বি জে পি সুপরিকল্পিতভাবেই মানিক সরকারকে প্রত্যন্ত এলাকায় মানুষের সঙ্গে কথা বলতে বাধা দেওয়ার কর্মসূচি স্থির করে ফেলে। 
বুধবার প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেই মানিক সরকার ধলাই জেলার লংতরাইভ্যালি মহকুমার থালছড়ায় যাওয়ার জন্য রওনা দেন। গোবিন্দবাড়ি প্রভৃতি এলাকায় ইতিমধ্যেই খাবারের সংকটের খবর উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে। সেখানে যেতে বাধা দেয় বি জে পি কর্মীরা। থালছড়ায় যেতে বাধা পেয়ে লংতরাইভ্যালির মহকুমা শাসকের সঙ্গে কথা বলেন মানিক সরকার। তাঁর কাছ থেকে পরিস্থিতির খোঁজ নেন। এরপর তাঁর কাঞ্চনপুর যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত তিনদিনের প্রবল বৃষ্টির জেরে ধস নেমে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাঞ্চনপুর যেতে পারেনি প্রতিনিধি দল। তাঁরা আগরতলায় ফিরে আসেন। ফেরার পথে আমবাসায় ধলাই জেলার জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করেন মানিক সরকার। রেগার কাজ ছাড়াও কিভাবে কোন কোন ক্ষেত্রে মানুষকে কাজ দেওয়া সম্ভব সেই বিষয়ে জেলাশাসককে পরামর্শ দেন তিনি। 
সাংবাদিক সম্মেলনে মানিক সরকার বলেন, আমরা তো পরিস্থিতিই জানতে গেছিলাম। মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের অসুবিধাগুলি জানতে পারলে সেটা সরকারকে জানানো যেত। তাতে সরকারেরই কাজের সুবিধে হতো। রাজ্যের নতুন সরকার এসে বলেছিল তারা বিরোধী দলের সহযোগিতা চায়। আমরা সহযোগিতাই করতে গিয়েছিলাম। সেই কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। মানিক সরকার বলেন, গণ্ডাছড়া, লংতরাইয়ের মানুষ এই ধরনের সংস্কৃতির সঙ্গে সহমত নন। অতীতে কোনও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে এইসব এলাকায় যেতে বাধা দেওয়া হয়নি। ওই এলাকার মানুষ এইধরনের বাধাদানের ঘটনায় অসম্মানিত বোধ করেছেন। সাংবাদিক বৈঠকে তপন চক্রবর্তী বলেছেন, গঙ্গানগর ব্লকে আই এন পি টি-র ভিলেজ কমিটির চেয়ারম্যানরাও অভিযোগ করেছেন আমাদের কাছে এসে। তাঁরা জেলাশাসককে চিঠি দিয়ে বলেছেন, নির্বাচিত সদস্য হওয়ার পরেও তাদের মাথার উপর মনোনীত সদস্যদের বসিয়ে দিয়েছে নতুন সরকার। এটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর হস্তক্ষেপ। সেই চিঠির প্রতিলিপি সাংবাদিক সম্মেলনে দেখান তপন চক্রবর্তী। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement